পরিপাকতন্ত্র ও রক্ত সংবহন কুইজ: ক্লার্কশিপ GS
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র ও রক্ত সংবহনের 10টি প্রশ্ন, WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 পার্ট-1-এর মান অনুযায়ী। প্রতি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড, প্রতিটি উত্তরের সঙ্গে ব্যাখ্যা। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি কোনটি?
যকৃৎ (লিভার) দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি; এটি পিত্ত তৈরি করে, গ্লাইকোজেন জমায় ও ইউরিয়া তৈরি করে। অগ্ন্যাশয় দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রন্থি এবং মিশ্র গ্রন্থি। থাইরয়েড দেহের বৃহত্তম অন্তঃক্ষরা (নালিহীন) গ্রন্থি, আর প্লীহা গ্রন্থি নয়, লসিকা অঙ্গ।
- যকৃৎ পিত্ত তৈরি করে, পিত্ত জমা থাকে পিত্তথলিতে
- যকৃৎ গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন রূপে জমায়
- বৃহত্তম অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি: থাইরয়েড
- বৃহত্তম গ্রন্থি = যকৃৎ, কিন্তু বৃহত্তম অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি = থাইরয়েড
লালার উৎসেচক টায়ালিন কোন খাদ্য উপাদানের পরিপাক শুরু করে?
টায়ালিন (স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ) মুখগহ্বরেই শ্বেতসারকে মলটোজে ভাঙতে শুরু করে। প্রোটিনের পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলীতে পেপসিন দিয়ে, আর চর্বির প্রধান পরিপাক হয় ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্ত ও লাইপেজের সাহায্যে।
- মানুষের মুখে 3 জোড়া লালাগ্রন্থি, বৃহত্তম প্যারোটিড
- শ্বেতসারের শেষ রূপ গ্লুকোজ
- গ্রাসনালিতে কোনও পরিপাক হয় না
- মুখে শ্বেতসার, পাকস্থলীতে প্রোটিন, ক্ষুদ্রান্ত্রে সব শেষ

যকৃতে তৈরি পিত্ত কোথায় জমা থাকে?
যকৃৎ পিত্ত তৈরি করে, আর তা জমা থাকে পিত্তথলিতে (গল ব্লাডার); খাবার এলে পিত্ত ডিওডিনামে ঢালা হয়। পিত্তে কোনও উৎসেচক নেই, পিত্তলবণ চর্বিকে ছোট ফোঁটায় ভেঙে ইমালসিফাই করে। ডিওডিনামে পিত্ত শুধু এসে মেশে, জমা থাকে না।
- পিত্তে কোনও উৎসেচক নেই
- পিত্তলবণ চর্বিকে ইমালসিফাই করে
- পিত্তরঞ্জক: বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন
- পিত্ত তৈরি হয় যকৃতে, জমা থাকে পিত্তথলিতে: দুটো আলাদা প্রশ্নে আসে
খাদ্যের সবচেয়ে বেশি শোষণ হয় কোথায়?
পরিপাক শেষ হয় এবং পাচিত খাদ্যের প্রায় সবটা শোষিত হয় ক্ষুদ্রান্ত্রে; এর দেওয়ালের আঙুলের মতো ভিলাই শোষণের তল বহু গুণ বাড়ায়। বৃহদন্ত্র মূলত জল ও লবণ শোষণ করে, আর পাকস্থলীতে সামান্য জল, অ্যালকোহল ও কিছু ওষুধ ছাড়া প্রায় কিছুই শোষিত হয় না।
- ক্ষুদ্রান্ত্র পৌষ্টিকনালির দীর্ঘতম অংশ, প্রায় 6 মিটার
- ক্ষুদ্রান্ত্রের তিন অংশ: ডিওডিনাম, জেজুনাম, ইলিয়াম
- বৃহদন্ত্র: জল ও লবণ শোষণ
অন্ত্রের দৈর্ঘ্য (প্রায়)

পাকস্থলীর পেপসিন উৎসেচক কোন খাদ্যকে ভাঙে?
পেপসিন প্রোটিনকে পেপটোনে ভাঙে। পাকস্থলীর HCl নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে বদলায় এবং পেপসিনের কাজের জন্য দরকারি আম্লিক মাধ্যম দেয়। শ্বেতসার ভাঙে টায়ালিন ও অ্যামাইলেজ, চর্বি ভাঙে লাইপেজ, আর মানুষ সেলুলোজ পরিপাক করতে পারে না।
- HCl জীবাণু মারে ও পেপসিনোজেনকে পেপসিনে বদলায়
- রেনিন দুধের কেসিনকে জমাট বাঁধায় (শিশুদের)
- মিউকাস পাকস্থলীর দেওয়ালকে অ্যাসিড থেকে বাঁচায়
| উৎসেচক | কোথায় | কী ভাঙে |
|---|---|---|
| টায়ালিন | লালা (মুখ) | শ্বেতসার |
| পেপসিন | পাকস্থলী | প্রোটিন |
| ট্রিপসিন | অগ্ন্যাশয় রস | প্রোটিন |
| লাইপেজ | অগ্ন্যাশয় রস | চর্বি |
হৃৎপিণ্ডের 'পেসমেকার' কোনটিকে বলা হয়?
ডান অলিন্দের দেওয়ালে থাকা SA নোড (সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড) থেকেই প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের সংকেত শুরু হয়, তাই এটি স্বাভাবিক পেসমেকার। AV নোড সেই সংকেত অলিন্দ থেকে নিলয়ে পৌঁছে দেয়, নিজে স্পন্দন শুরু করে না। বাম নিলয় দেহে রক্ত পাম্প করে, আর কপাটিকা রক্তের উল্টো প্রবাহ আটকায়।
- SA নোড থাকে ডান অলিন্দে
- প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎস্পন্দন বিশ্রামে মিনিটে প্রায় 72 বার
- স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় সিস্টোলিক 120 ও ডায়াস্টোলিক 80 mm Hg
- SA নোড স্পন্দন শুরু করে, AV নোড তা নিলয়ে পৌঁছে দেয়
মানুষের লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু প্রায় কত দিন?
মানুষের লোহিত রক্তকণিকা প্রায় 120 দিন বাঁচে। এটি তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায় এবং পুরনো কণিকা প্রধানত প্লীহায় ভেঙে যায়, তাই প্লীহাকে 'RBC-র কবরস্থান' বলে। পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, তার হিমোগ্লোবিন O₂ বহন করে।
- RBC তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায়
- পরিণত RBC-তে নিউক্লিয়াস নেই
- হিমোগ্লোবিনে থাকে লোহা
- লোহিত কণিকা মোটামুটি 4 মাস (120 দিন) বাঁচে
| কণিকা | কাজ | মনে রাখার তথ্য |
|---|---|---|
| লোহিত রক্তকণিকা | O₂ বহন | আয়ু প্রায় 120 দিন, নিউক্লিয়াস নেই |
| শ্বেত রক্তকণিকা | রোগ প্রতিরোধ | নিউক্লিয়াস আছে |
| অণুচক্রিকা | রক্ত তঞ্চন | ভিটামিন K ও ক্যালশিয়াম লাগে |
কোন রক্তগ্রুপকে 'সর্বজনীন দাতা' বলা হয়?
O গ্রুপের লোহিত কণিকায় A বা B কোনও অ্যান্টিজেন থাকে না, তাই অন্য গ্রুপের প্লাজমার অ্যান্টিবডি তাকে জমাট বাঁধায় না: O সবাইকে রক্ত দিতে পারে। AB গ্রুপের প্লাজমায় কোনও অ্যান্টিবডি নেই, তাই AB সর্বজনীন গ্রহীতা, দাতা নয়।
- ABO রক্তগ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার
- AB = সর্বজনীন গ্রহীতা
- সবচেয়ে নিরাপদ দাতা O নেগেটিভ (Rh ফ্যাক্টরও নেই)
- সর্বজনীন দাতা O আর সর্বজনীন গ্রহীতা AB: দুটো অদলবদল করে বিকল্প দেওয়া হয়
- O দেয়, AB নেয়
| গ্রুপ | RBC-তে অ্যান্টিজেন | প্লাজমায় অ্যান্টিবডি |
|---|---|---|
| A | A | অ্যান্টি-B |
| B | B | অ্যান্টি-A |
| AB | A ও B | নেই |
| O | নেই | অ্যান্টি-A ও অ্যান্টি-B |
কোন রক্তনালি ফুসফুস থেকে O₂-যুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে?
ফুসফুসীয় শিরা ফুসফুস থেকে O₂-যুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে আনে: এটিই একমাত্র শিরা যা O₂-যুক্ত রক্ত বহন করে। ফুসফুসীয় ধমনি উল্টো দিকে ডান নিলয় থেকে CO₂-যুক্ত রক্ত ফুসফুসে নিয়ে যায়। মহাশিরা সারা দেহের CO₂-যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে আনে, আর অ্যাওর্টা বাম নিলয় থেকে O₂-যুক্ত রক্ত দেহে পাঠায়।
- ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত নিয়ে যায়, শিরা ফিরিয়ে আনে
- বৃহত্তম ধমনি অ্যাওর্টা, বৃহত্তম শিরা মহাশিরা
- মানুষের দ্বি-সংবহন: ফুসফুসীয় ও সিস্টেমিক
- ফুসফুসীয় ধমনিতে CO₂-যুক্ত আর ফুসফুসীয় শিরায় O₂-যুক্ত রক্ত: সাধারণ নিয়মের উল্টো
- ধমনি = দূরে: অক্সিজেন নয়, দিক দেখে চিনুন

হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে কোন কপাটিকা থাকে?
বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে দুই পাল্লার বাইকাসপিড বা মাইট্রাল কপাটিকা থাকে। ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে থাকে তিন পাল্লার ট্রাইকাসপিড কপাটিকা। অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা দুটি থাকে নিলয় থেকে বেরোনো ফুসফুসীয় ধমনি ও অ্যাওর্টার মুখে।
- হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ: দুটি অলিন্দ, দুটি নিলয়
- বাম নিলয়ের দেওয়াল সবচেয়ে পুরু
- কপাটিকা রক্তের উল্টো প্রবাহ আটকায়
- ট্রাই ডানে, বাই বাঁয়ে
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র ও রক্ত সংবহনের 10টি প্রশ্ন, WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 পার্ট-1-এর মান অনুযায়ী। প্রতি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড, প্রতিটি উত্তরের সঙ্গে ব্যাখ্যা।
Related Posts
মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র ও রক্ত সংবহন: ক্লার্কশিপ GS নোট ও কুইজ
দৈনন্দিন বিজ্ঞান মিশ্র কুইজ 4: শরীর, জীবাণু, আলো ও তাপ, WBPSC ক্লার্কশিপ GS
WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 ইংরেজি: Spotting the Error, ভুল খোঁজার 5 ধাপ, উদাহরণ ও 12টি প্র্যাকটিস প্রশ্ন

Leave a Comment
Commenting as ·