প্র্যাক্টিস

মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র ও রক্ত সংবহন: ক্লার্কশিপ GS নোট ও কুইজ

হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির ছবি, ওপরে লেখা পরিপাক থেকে রক্ত সংবহন
Wbpsc Clerkship Gk Digestive System Blood Circulation Notes
|

Key Highlights

  • যকৃৎ দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি; পিত্ত জমা থাকে পিত্তথলিতে, পিত্তে কোনও উৎসেচক নেই
  • সবচেয়ে বেশি পরিপাক ও শোষণ হয় ক্ষুদ্রান্ত্রে, ভিলাই শোষণের তল বাড়ায়
  • হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ; পেসমেকার SA নোড, স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120 ও 80 mm Hg
  • লোহিত রক্তকণিকার আয়ু প্রায় 120 দিন; O গ্রুপ সর্বজনীন দাতা, AB সর্বজনীন গ্রহীতা

WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 পার্ট-1-এর General Studies অংশে 40 নম্বর, আর অফিসিয়াল সিলেবাসে প্রথমেই আছে everyday observation and everyday science, মাধ্যমিক স্তরের। মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র আর রক্ত সংবহন থেকে প্রায় প্রতি বছরই এক-দুটো প্রশ্ন আসে: কোন উৎসেচক কী ভাঙে, বৃহত্তম গ্রন্থি কোনটি, কোন রক্তনালি কী রক্ত বহন করে, কোন গ্রুপ সর্বজনীন দাতা। এই নোটে সেই তথ্যগুলোই এক জায়গায়, শেষে 10 প্রশ্নের কুইজ।

Table of Contents

পরিপাকতন্ত্র: খাদ্যের পথ

পরিপাক মানে জটিল খাদ্যকে উৎসেচকের সাহায্যে সরল, দ্রবণীয় অণুতে ভাঙা, যাতে রক্ত তা শোষণ করতে পারে। খাদ্য যায় এই পথে: মুখগহ্বর → গলবিল → গ্রাসনালি → পাকস্থলী → ক্ষুদ্রান্ত্র → বৃহদন্ত্র → পায়ু। এর সঙ্গে যুক্ত তিনটি সহায়ক গ্রন্থি: লালাগ্রন্থি, যকৃৎ আর অগ্ন্যাশয়।

মুখগহ্বর থেকে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত পৌষ্টিকনালির পাঁচটি ধাপ, প্রতিটিতে কী পরিপাক বা শোষণ হয়
পৌষ্টিকনালির প্রতিটি অংশে কী ঘটে

মুখগহ্বর ও গ্রাসনালি

  • মানুষের মুখে 3 জোড়া লালাগ্রন্থি; সবচেয়ে বড় প্যারোটিড গ্রন্থি।
  • লালার উৎসেচক টায়ালিন (স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ) শ্বেতসারকে মলটোজে ভাঙে: শর্করার পরিপাক শুরু হয় মুখেই।
  • প্রাপ্তবয়স্কের দাঁত 32টি, দুধের দাঁত 20টি। দাঁতের এনামেল দেহের সবচেয়ে কঠিন পদার্থ।
  • গ্রাসনালিতে কোনও পরিপাক হয় না; পেশির ঢেউয়ের মতো সংকোচন (পেরিস্ট্যালসিস) খাদ্যকে পাকস্থলীতে ঠেলে দেয়।

পাকস্থলী

  • পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক রসে থাকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), পেপসিন, রেনিন আর মিউকাস।
  • HCl খাদ্যের জীবাণু মারে, মাধ্যমকে আম্লিক করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে বদলায়।
  • পেপসিন প্রোটিনকে পেপটোনে ভাঙে; রেনিন (শিশুদের) দুধের প্রোটিন কেসিনকে জমাট বাঁধায়।
  • মিউকাস পাকস্থলীর দেওয়ালকে নিজের অ্যাসিড থেকে বাঁচায়।

যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়

  • যকৃৎ দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এটি পিত্ত তৈরি করে, যা জমা থাকে পিত্তথলিতে।
  • পিত্তে কোনও উৎসেচক নেই; পিত্তলবণ চর্বিকে ছোট ছোট ফোঁটায় ভাঙে (ইমালসিফিকেশন), তাতে লাইপেজের কাজ সহজ হয়। পিত্তরঞ্জক বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন।
  • যকৃৎ অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন রূপে জমায় এবং প্রোটিন বিপাকের বর্জ্য থেকে ইউরিয়া তৈরি করে।
  • অগ্ন্যাশয় মিশ্র গ্রন্থি: অগ্ন্যাশয় রসে ট্রিপসিন (প্রোটিন), অ্যামাইলেজ (শ্বেতসার) ও লাইপেজ (চর্বি); আর আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোশ থেকে ইনসুলিন, আলফা কোশ থেকে গ্লুকাগন।

ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র

  • ক্ষুদ্রান্ত্র পৌষ্টিকনালির দীর্ঘতম অংশ (প্রায় 6 মিটার): ডিওডিনাম, জেজুনাম, ইলিয়াম। ডিওডিনামে পিত্ত ও অগ্ন্যাশয় রস এসে মেশে।
  • এখানেই পরিপাক শেষ হয় এবং সবচেয়ে বেশি শোষণ হয়। ভেতরের দেওয়ালের আঙুলের মতো উঁচু অংশ ভিলাই শোষণের তল বহু গুণ বাড়ায়।
  • বৃহদন্ত্র (প্রায় 1.5 মিটার): সিকাম, কোলন, মলাশয়। সিকামের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপেনডিক্স মানুষের নিষ্ক্রিয় (লুপ্তপ্রায়) অঙ্গ।
  • বৃহদন্ত্র মূলত জল ও লবণ শোষণ করে; সেখানকার উপকারী ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন K ও কিছু B ভিটামিন তৈরি করে।
খাদ্যউৎসেচক (কোথায়)পরিপাকের শেষে
শ্বেতসার (শর্করা)টায়ালিন (মুখ), অ্যামাইলেজ (অগ্ন্যাশয়), মলটেজ (ক্ষুদ্রান্ত্র)গ্লুকোজ
প্রোটিনপেপসিন (পাকস্থলী), ট্রিপসিন (অগ্ন্যাশয়), পেপটাইডেজ (ক্ষুদ্রান্ত্র)অ্যামাইনো অ্যাসিড
চর্বি (স্নেহপদার্থ)পিত্ত ইমালসিফাই করে; লাইপেজ (অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র)ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল
তিন খাদ্য উপাদানের পরিপাক এক নজরে

রক্ত সংবহনতন্ত্র

দেহে রক্তের সংবহন প্রথম ঠিকঠাক ব্যাখ্যা করেন ইংরেজ চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে। সংবহনতন্ত্রের তিন অংশ: পাম্প হিসেবে হৃৎপিণ্ড, পথ হিসেবে রক্তনালি (ধমনি, শিরা, জালক) আর বাহক হিসেবে রক্ত।

হৃৎপিণ্ড

  • মানুষের হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ: ওপরে দুটি অলিন্দ, নিচে দুটি নিলয়। চারপাশে দুই স্তরের আবরণ পেরিকার্ডিয়াম।
  • বাম নিলয়ের দেওয়াল সবচেয়ে পুরু, কারণ এটিই সারা দেহে রক্ত পাঠায়।
  • ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা, বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে বাইকাসপিড (মাইট্রাল) কপাটিকা; ফুসফুসীয় ধমনি ও অ্যাওর্টার মুখে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা। কপাটিকা রক্তকে উল্টো দিকে যেতে দেয় না।
  • হৃৎস্পন্দন শুরু হয় ডান অলিন্দের SA নোড থেকে, তাই একে পেসমেকার বলে। প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎস্পন্দন বিশ্রামে মিনিটে প্রায় 72 বার।
  • স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় সিস্টোলিক 120 ও ডায়াস্টোলিক 80 mm Hg, মাপা হয় স্ফিগমোম্যানোমিটার দিয়ে।

দ্বি-সংবহন

মানুষের রক্ত একবার পুরো দেহ ঘুরে আসতে হৃৎপিণ্ডে দু’বার ঢোকে, একে বলে দ্বি-সংবহন: ফুসফুসীয় সংবহন (হৃৎপিণ্ড → ফুসফুস → হৃৎপিণ্ড) আর সিস্টেমিক সংবহন (হৃৎপিণ্ড → সারা দেহ → হৃৎপিণ্ড)। হৃৎপিণ্ডের ডান দিকে থাকে CO₂-যুক্ত রক্ত, বাম দিকে O₂-যুক্ত রক্ত।

ডান অলিন্দ, ডান নিলয়, ফুসফুস, বাম অলিন্দ, বাম নিলয় ও সারা দেহ হয়ে রক্তের দ্বি-সংবহনের চক্র
দ্বি-সংবহনের পথ ও প্রধান রক্তনালি
বিষয়ধমনিশিরা
রক্তের দিকহৃৎপিণ্ড থেকে দেহেদেহ থেকে হৃৎপিণ্ডে
সাধারণত কোন রক্তO₂-যুক্তCO₂-যুক্ত
ব্যতিক্রমফুসফুসীয় ধমনি (CO₂-যুক্ত)ফুসফুসীয় শিরা (O₂-যুক্ত)
দেওয়ালপুরু, স্থিতিস্থাপকপাতলা, কপাটিকা থাকে
বৃহত্তমঅ্যাওর্টা (মহাধমনি)মহাশিরা (ভেনা কাভা)
ধমনি আর শিরার তফাত

ধমনি আর শিরার মাঝে সবচেয়ে সরু নালি জালক (ক্যাপিলারি); এর পাতলা দেওয়াল দিয়েই কোশ আর রক্তের মধ্যে O₂, CO₂ ও পুষ্টির আদানপ্রদান হয়।

রক্ত ও রক্তকণিকা

রক্ত এক ধরনের তরল যোগকলা, সামান্য ক্ষারীয় (pH প্রায় 7.4)। প্রাপ্তবয়স্কের দেহে প্রায় 5–6 লিটার রক্ত থাকে। রক্তের প্রায় 55% তরল রক্তরস (প্লাজমা), বাকি প্রায় 45% রক্তকণিকা।

কণিকাকাজমনে রাখার তথ্য
লোহিত রক্তকণিকা (RBC)হিমোগ্লোবিন দিয়ে O₂ বহনআয়ু প্রায় 120 দিন; তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায়; পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াস নেই; প্লীহা ‘RBC-র কবরস্থান’
শ্বেত রক্তকণিকা (WBC)রোগ প্রতিরোধনিউক্লিয়াস আছে; সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি নিউট্রোফিল; লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে
অণুচক্রিকা (প্লেটলেট)রক্ত তঞ্চন (জমাট বাঁধা)তঞ্চনে লাগে ভিটামিন K ও ক্যালশিয়াম; ফাইব্রিনোজেন থেকে ফাইব্রিনের জাল
তিন রকম রক্তকণিকা

হিমোগ্লোবিনে থাকে লোহা (আয়রন); লোহার অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) হয়। বংশগত রোগ হিমোফিলিয়ায় রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না।

রক্তের গ্রুপ

ABO রক্তগ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার। লোহিত কণিকার গায়ে কোন অ্যান্টিজেন আছে, তার ওপর গ্রুপ ঠিক হয়।

গ্রুপRBC-তে অ্যান্টিজেনপ্লাজমায় অ্যান্টিবডিবিশেষত্ব
AAb (অ্যান্টি-B)A ও AB-কে দিতে পারে
BBa (অ্যান্টি-A)B ও AB-কে দিতে পারে
ABA ও Bকোনওটি নেইসর্বজনীন গ্রহীতা
Oকোনওটি নেইa ও bসর্বজনীন দাতা
ABO রক্তগ্রুপ

এর বাইরে Rh ফ্যাক্টর: যাঁদের RBC-তে এই অ্যান্টিজেন আছে তাঁরা Rh পজিটিভ, যাঁদের নেই তাঁরা Rh নেগেটিভ। তাই সবচেয়ে নিরাপদ সর্বজনীন দাতা O নেগেটিভ।

মনে রাখার কৌশল

  • মুখে শ্বেতসার, পাকস্থলীতে প্রোটিন, ক্ষুদ্রান্ত্রে সব শেষ: লালার টায়ালিন শুধু শ্বেতসার ভাঙে; প্রোটিনের শুরু পাকস্থলীতে (পেপসিন), চর্বির আসল পরিপাক ক্ষুদ্রান্ত্রে।
  • ধমনি = দূরে: হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে নিয়ে যায়; শিরা ফিরিয়ে আনে। অক্সিজেন নয়, দিক দিয়ে চিনুন, তাহলে ফুসফুসীয় ধমনি-শিরার ফাঁদে পড়বেন না।
  • ট্রাই ডানে, বাই বাঁয়ে: ট্রাইকাসপিড ডান দিকে, বাইকাসপিড (মাইট্রাল) বাম দিকে।
  • O দেয়, AB নেয়: O সবাইকে দেয়, AB সবার থেকে নেয়।

পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী

পার্ট-1-এ প্রতিটি ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়, আর জীববিজ্ঞানের এই প্রশ্নগুলো সাধারণত সরাসরি তথ্যভিত্তিক: ঠিক জানলে কয়েক সেকেন্ডে নম্বর। ওপরের তিনটি টেবিল আর দুটি ছবি নিজের খাতায় একবার এঁকে নিন, তারপর নিচের কুইজটা দিন। যে প্রশ্নে ভুল হবে, তার ব্যাখ্যা আর ‘অতিরিক্ত তথ্য’ পড়ে নিন।

পুরো প্রস্তুতির ছক পাবেন ক্লার্কশিপ 2024-এর 8 সপ্তাহের পরিকল্পনায়, আর প্রশ্নের ধরন বুঝতে দেখুন 2023-এর প্রশ্নপত্র।

সূত্র

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি কোনটি?

যকৃৎ (লিভার)। এটি পিত্ত তৈরি করে, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে।

খাদ্যের সবচেয়ে বেশি শোষণ কোথায় হয়?

ক্ষুদ্রান্ত্রে। এর দেওয়ালের ভিলাই শোষণের তল অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

কোন ধমনি CO₂-যুক্ত রক্ত বহন করে?

ফুসফুসীয় ধমনি। এটি ডান নিলয় থেকে CO₂-যুক্ত রক্ত ফুসফুসে নিয়ে যায়। উল্টো দিকে ফুসফুসীয় শিরা O₂-যুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডে আনে।

সর্বজনীন দাতা ও সর্বজনীন গ্রহীতা কোন রক্তগ্রুপ?

O গ্রুপ সর্বজনীন দাতা, AB গ্রুপ সর্বজনীন গ্রহীতা।

Manoj Bera

Manoj Bera

Manoj Bera, a passionate writer, has been blogging since 2018 while also working as an educator for all competitive exam preparation. His blog posts reflect her love for exploring the world through engaging writing. more>>

Leave a Comment