দৈনন্দিন বিজ্ঞান মিশ্র কুইজ 4: শরীর, জীবাণু, আলো ও তাপ, WBPSC ক্লার্কশিপ GS
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
WBPSC ক্লার্কশিপ পার্ট-I-এর জেনারেল স্টাডিজে 40 নম্বরের প্রশ্ন আসে, তার একটা বড় অংশ দৈনন্দিন বিজ্ঞান। এই চতুর্থ পর্বে 20টি নতুন প্রশ্ন: চোখ ও লেন্স, রক্ত ও হৃৎপিণ্ড, ভিটামিন ও মশাবাহিত রোগ, দই-পাউরুটির জীবাণু, তাপ, উদ্ভিদ আর রোজকার যন্ত্র। প্রতি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড সময়। উত্তর দেওয়ার পর ব্যাখ্যা, মূল তথ্য আর মনে রাখার কৌশল পড়ে নিন; পরীক্ষায় ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়, তাই নিশ্চিত না হলে আন্দাজে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো। আগের পর্ব: দৈনন্দিন বিজ্ঞান মিশ্র কুইজ 3।…
চোখের কোন অংশ চোখে আলো ঢোকার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে?
আইরিস চোখের রঙিন অংশ; এটি সংকুচিত-প্রসারিত হয়ে মাঝের ছিদ্র পিউপিলের মাপ বদলায়, তাতেই আলো ঢোকার পরিমাণ ঠিক হয়। উজ্জ্বল আলোয় পিউপিল ছোট হয়, অন্ধকারে বড়। রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, কর্নিয়া ও লেন্স আলোকে প্রতিসৃত করে ফোকাস করে।
- আইরিস পিউপিলের মাপ বদলায়
- রেটিনা: প্রতিবিম্ব গঠনের পর্দা
- কর্নিয়া: চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তর
- আইরিস = ক্যামেরার অ্যাপারচার, রেটিনা = ক্যামেরার ফিল্ম
রক্ত জমাট বাঁধতে প্রধানত কোন রক্তকণিকা সাহায্য করে?
কেটে গেলে অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট ক্ষতস্থানে জড়ো হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু করে। লোহিত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে অক্সিজেন বহন করে, শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুর সঙ্গে লড়ে। প্লাজমা কণিকা নয়, রক্তের তরল অংশ।
- অণুচক্রিকা: রক্ত জমাট বাঁধা
- লোহিত কণিকা: অক্সিজেন বহন
- শ্বেত কণিকা: রোগ প্রতিরোধ
- লাল বয় অক্সিজেন, সাদা লড়ে, প্লেটলেট জোড়ে
মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি কোনটি?
যকৃৎ বা লিভার মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি; এটি পিত্তরস তৈরি করে, যা চর্বি হজমে সাহায্য করে। থাইরয়েড গলার সবচেয়ে বড় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, পিটুইটারিকে 'প্রধান গ্রন্থি' বলা হয় কারণ সে অন্য গ্রন্থিদের নিয়ন্ত্রণ করে। বৃহত্তম অঙ্গ কিন্তু ত্বক।
- বৃহত্তম গ্রন্থি: যকৃৎ
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে, পিত্তথলিতে জমা থাকে
- পিটুইটারি: মাস্টার গ্ল্যান্ড
- বৃহত্তম গ্রন্থি = যকৃৎ, কিন্তু বৃহত্তম অঙ্গ = ত্বক; 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' = পিটুইটারি
- বড় গ্রন্থি লিভার, বড় অঙ্গ ত্বক
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য কোন ভিটামিন প্রয়োজন?
ভিটামিন K যকৃতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রোটিন (যেমন প্রোথ্রোম্বিন) তৈরিতে লাগে; এর অভাবে কাটা জায়গা থেকে রক্ত পড়া সহজে থামে না। ভিটামিন A-র অভাবে রাতকানা, C-র অভাবে স্কার্ভি, D-র অভাবে রিকেট হয়।
- ভিটামিন K: রক্ত জমাট বাঁধা
- সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন K থাকে
- A, D, E, K চর্বিতে দ্রবণীয়
- K = 'Koagulation' (জার্মান শব্দে জমাট বাঁধা)
বেরিবেরি রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
ভিটামিন B1 বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি হয়; এতে স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। বেশি ছাঁটা পালিশ চালের ভাতই প্রধান খাবার হলে এই অভাব দেখা যায়, কারণ থায়ামিন চালের বাইরের স্তরে থাকে। ভিটামিন C-র অভাবে স্কার্ভি, D-র অভাবে রিকেট হয়।
- B1 (থায়ামিন) অভাব: বেরিবেরি
- ঢেঁকিছাঁটা চাল, ডাল, দানাশস্যে থায়ামিন থাকে
- ভিটামিন B ও C জলে দ্রবণীয়
- বেরিবেরি = B-B: দুটো B, তাই ভিটামিন B1
ম্যালেরিয়া রোগ কোন মশার কামড়ে ছড়ায়?
ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়াম নামের এককোশী প্রোটোজোয়া, যা স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে মানুষের দেহে ঢোকে। পুরুষ মশা রক্ত খায় না, গাছের রস খায়, তাই রোগ ছড়ায় না। এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়, কিউলেক্স ফাইলেরিয়া।
- ম্যালেরিয়ার জীবাণু: প্লাজমোডিয়াম (প্রোটোজোয়া)
- শুধু স্ত্রী মশা রক্ত খায়
- ডেঙ্গু: এডিস মশা, ভাইরাসঘটিত
- ম্যালেরিয়া প্রোটোজোয়াঘটিত (অ্যানোফিলিস), ডেঙ্গু ভাইরাসঘটিত (এডিস): দুটোই মশাবাহিত বলে গুলিয়ে যায়
- অ্যানোফিলিস = 'আ'-তে ম্যালেরিয়া; এডিস = 'ডে'-তে ডেঙ্গু (দিনের বেলা কামড়ায়)
| মশা | যে রোগ ছড়ায় |
|---|---|
| স্ত্রী অ্যানোফিলিস | ম্যালেরিয়া |
| এডিস (এডিস ইজিপ্টাই) | ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা |
| কিউলেক্স | ফাইলেরিয়া, জাপানি এনসেফালাইটিস |
দুধের পাস্তুরাইজেশনে কী করা হয়?
পাস্তুরাইজেশনে দুধকে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় (যেমন প্রায় 72 °C-এ 15 সেকেন্ড, বা প্রায় 63 °C-এ 30 মিনিট) গরম করে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা করা হয়। এতে বেশিরভাগ ক্ষতিকর জীবাণু মরে, অথচ দুধ ফোটানোর মতো স্বাদ বদলায় না। পদ্ধতিটির নাম লুই পাস্তুরের নামে।
- গরম করে দ্রুত ঠান্ডা: পাস্তুরাইজেশন
- উদ্দেশ্য ক্ষতিকর জীবাণু নাশ
- লুই পাস্তুরের নামে নাম
- পাস্তুর = গরম তারপর ঠান্ডা
দুধ থেকে দই তৈরি হয় কোন জীবাণুর সাহায্যে?
ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজ শর্করা থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে, তাতে দুধের প্রোটিন জমাট বেঁধে দই হয় এবং টক স্বাদ আসে। ইস্ট পাউরুটি ফোলায়, রাইজোবিয়াম শিকড়ে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে, পেনিসিলিয়াম থেকে পেনিসিলিন আসে।
- ল্যাকটোব্যাসিলাস: ল্যাকটোজ থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড
- দইয়ের টক স্বাদ ল্যাকটিক অ্যাসিডের
- অল্প দই (সাজা) মিশিয়েই নতুন দই পাতা হয়
- ল্যাকটো = দুধ: দুধের জীবাণু ল্যাকটোব্যাসিলাস
| জীবাণু | দৈনন্দিন কাজ |
|---|---|
| ল্যাকটোব্যাসিলাস (ব্যাকটেরিয়া) | দুধ থেকে দই |
| ইস্ট (ছত্রাক) | পাউরুটি, ইডলি-ধোসার গোলা ফোলানো |
| রাইজোবিয়াম (ব্যাকটেরিয়া) | শিম্বগোত্রের শিকড়ে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ |
| পেনিসিলিয়াম (ছত্রাক) | অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন |
ইস্ট মেশালে পাউরুটি বা ইডলির গোলা ফুলে ওঠে কোন গ্যাসের জন্য?
ইস্ট একটি এককোশী ছত্রাক; সে গোলার শর্করা ভেঙে (সন্ধান বা ফার্মেন্টেশন) কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ও সামান্য অ্যালকোহল তৈরি করে। গ্যাসের বুদবুদ আটকে গিয়ে গোলা ফোলে, তাই পাউরুটি নরম ও ফাঁপা হয়। অক্সিজেন, নাইট্রোজেন বা হাইড্রোজেন এখানে তৈরি হয় না।
- ইস্ট: এককোশী ছত্রাক
- সন্ধান প্রক্রিয়ায় CO2 ও অ্যালকোহল তৈরি
- বেকিং সোডা গরমেও CO2 দেয়
- রুটির ফুটো = CO2-র বুদবুদ
| জীবাণু | দৈনন্দিন কাজ |
|---|---|
| ল্যাকটোব্যাসিলাস (ব্যাকটেরিয়া) | দুধ থেকে দই |
| ইস্ট (ছত্রাক) | পাউরুটি, ইডলি-ধোসার গোলা ফোলানো |
| রাইজোবিয়াম (ব্যাকটেরিয়া) | শিম্বগোত্রের শিকড়ে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ |
| পেনিসিলিয়াম (ছত্রাক) | অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন |
মায়োপিয়া (হ্রস্ব দৃষ্টি) সংশোধনে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
মায়োপিয়ায় দূরের জিনিসের প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে পড়ে, তাই দূরের জিনিস ঝাপসা লাগে। অবতল লেন্স আলোকে কিছুটা ছড়িয়ে দেয়, ফলে প্রতিবিম্ব পিছিয়ে ঠিক রেটিনায় পড়ে। হাইপারমেট্রোপিয়ায় (কাছের জিনিস ঝাপসা) লাগে উত্তল লেন্স।
- মায়োপিয়া: প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে
- অবতল লেন্স অপসারী (আলো ছড়ায়)
- হাইপারমেট্রোপিয়া: উত্তল লেন্স
- হ্রস্ব দৃষ্টি (মায়োপিয়া) = অবতল, দীর্ঘ দৃষ্টি (হাইপারমেট্রোপিয়া) = উত্তল: উল্টে ফেলা সাধারণ ভুল
- মায়োপিয়া = মাইনাস পাওয়ারের চশমা (অবতল লেন্স); প্লাস পাওয়ার = উত্তল
| দৃষ্টির ত্রুটি | কী সমস্যা | সংশোধনের লেন্স |
|---|---|---|
| মায়োপিয়া (হ্রস্ব দৃষ্টি) | দূরের জিনিস ঝাপসা | অবতল লেন্স |
| হাইপারমেট্রোপিয়া (দীর্ঘ দৃষ্টি) | কাছের জিনিস ঝাপসা | উত্তল লেন্স |
| প্রেসবায়োপিয়া (চালশে) | বয়সে কাছে ও দূরে দুটোই অসুবিধা | বাইফোকাল লেন্স |
| অ্যাস্টিগম্যাটিজম | এক দিকের রেখা ঝাপসা | সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স |
গরমকালে মাটির কলসির জল ঠান্ডা থাকে কেন?
মাটির কলসির গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে; সেগুলি দিয়ে জল চুঁইয়ে বাইরে এসে বাষ্প হয়ে যায়। বাষ্পীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় লীন তাপ কলসি ও ভেতরের জল থেকে নেওয়া হয়, তাই জল ঠান্ডা হয়। ঘাম শুকোলে শরীর ঠান্ডা লাগার কারণও একই।
- বাষ্পীভবন শীতলতা সৃষ্টি করে
- লীন তাপ জল থেকে নেওয়া হয়
- শুকনো, হাওয়া-চলা দিনে কলসি বেশি ঠান্ডা হয়
- ঘাম শুকোলে ঠান্ডা, কলসির ঘামেও ঠান্ডা
থার্মোফ্লাস্ক তাপ সঞ্চালনের কোন পদ্ধতি আটকায়?
থার্মোফ্লাস্কের দুই কাচের দেওয়ালের মাঝে শূন্যস্থান থাকে; সেখানে কোনো মাধ্যম নেই বলে পরিবহণ ও পরিচলন প্রায় হয় না। দেওয়ালের চকচকে রুপোলি প্রলেপ বিকিরিত তাপকে প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয়। তাই ফ্লাস্ক তিনটি পদ্ধতিই যতটা সম্ভব আটকায় এবং গরম জিনিস গরম, ঠান্ডা জিনিস ঠান্ডা রাখে।
- শূন্যস্থান: পরিবহণ ও পরিচলন বন্ধ
- রুপোলি প্রলেপ: বিকিরণ ফেরায়
- আবিষ্কারক জেমস ডিউয়ার (ডিউয়ার ফ্লাস্ক)
- ফ্লাস্ক: তিনে তিন
| তাপ সঞ্চালন | ফ্লাস্কের কোন অংশ আটকায় |
|---|---|
| পরিবহণ | দুই দেওয়ালের মাঝের শূন্যস্থান, কাচ ও কর্কের ছিপি |
| পরিচলন | শূন্যস্থান (বাতাস নেই) ও আঁটা ছিপি |
| বিকিরণ | দেওয়ালের চকচকে রুপোলি প্রলেপ |
গাজর উদ্ভিদের কোন অংশের রূপান্তর?
গাজর খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা হয়ে ওঠা প্রধান মূল (রূপান্তরিত মূল), তাতে কোনো পর্ব বা মুকুল থাকে না। মুলো, বিট, মিষ্টি আলুও মূল। আলু, আদা, পেঁয়াজ কিন্তু রূপান্তরিত কাণ্ড, কারণ তাদের গায়ে মুকুল (চোখ) থাকে।
- গাজর, মুলো, বিট, মিষ্টি আলু: মূল
- আলু, আদা, হলুদ, পেঁয়াজ: কাণ্ড
- মুকুল থাকলে কাণ্ড, না থাকলে মূল
- আলু মাটির নিচে হলেও কাণ্ড, মিষ্টি আলু কিন্তু মূল
- 'চোখ' আছে তো কাণ্ড (আলু), নেই তো মূল (গাজর)
কোন উদ্ভিদের মূলের অর্বুদে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে?
মটর, ছোলা, মুগ, সয়াবিনের মতো শিম্বগোত্রীয় (লেগুমিনাস) উদ্ভিদের মূলের অর্বুদে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া থাকে। তারা বাতাসের নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের কাজে লাগার মতো যৌগে বদলে দেয়, তাই এই ফসল মাটির উর্বরতা বাড়ায়। ধান, গম, ভুট্টা দানাশস্য, শিম্বগোত্রের নয়।
- রাইজোবিয়াম: শিম্বগোত্রের মূলের অর্বুদে
- নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণে মাটি উর্বর হয়
- তাই ফসলচক্রে ডাল চাষ করা হয়
- ডাল-জাতীয় গাছ = মাটির সার-কারখানা
| জীবাণু | দৈনন্দিন কাজ |
|---|---|
| ল্যাকটোব্যাসিলাস (ব্যাকটেরিয়া) | দুধ থেকে দই |
| ইস্ট (ছত্রাক) | পাউরুটি, ইডলি-ধোসার গোলা ফোলানো |
| রাইজোবিয়াম (ব্যাকটেরিয়া) | শিম্বগোত্রের শিকড়ে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ |
| পেনিসিলিয়াম (ছত্রাক) | অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন |
মানুষের হৃৎপিণ্ডে কয়টি প্রকোষ্ঠ আছে?
মানুষের হৃৎপিণ্ডে 4টি প্রকোষ্ঠ: ওপরে দুটি অলিন্দ (অ্যাট্রিয়াম) ও নিচে দুটি নিলয় (ভেন্ট্রিকল)। ডান দিক দেহ থেকে আসা অক্সিজেনহীন রক্ত ফুসফুসে পাঠায়, বাঁ দিক ফুসফুস থেকে আসা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সারা দেহে পাঠায়। মাছের হৃৎপিণ্ডে 2টি, ব্যাঙের 3টি প্রকোষ্ঠ।
- 2 অলিন্দ + 2 নিলয় = 4 প্রকোষ্ঠ
- বাম নিলয়ের দেওয়াল সবচেয়ে পুরু
- মাছ 2, ব্যাঙ 3, পাখি ও স্তন্যপায়ী 4
- মাছ-ব্যাঙ-মানুষ: 2-3-4
বৃক্কের (কিডনির) গঠনগত ও কার্যগত একক কোনটি?
প্রতিটি বৃক্কে প্রায় 10 লক্ষ নেফ্রন থাকে; এগুলি রক্ত ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ ও বাড়তি জল আলাদা করে মূত্র তৈরি করে। নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের একক, অ্যালভিওলাস ফুসফুসের বায়ুথলি, ভিলাস ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণকারী অংশ।
- নেফ্রন: বৃক্কের একক
- নিউরন: স্নায়ুর একক
- অ্যালভিওলাস: ফুসফুসে গ্যাসের আদানপ্রদান
- নেফ্রন (বৃক্ক) আর নিউরন (স্নায়ু): নামে প্রায় এক, কাজে আলাদা
- নেফ্রো = বৃক্ক, নিউরো = স্নায়ু
দুধের বিশুদ্ধতা মাপতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
ল্যাক্টোমিটার দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপে; দুধে জল মেশালে আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে যায়, তাই ভেজাল ধরা পড়ে। হাইগ্রোমিটার বাতাসের আর্দ্রতা, হাইড্রোমিটার সাধারণভাবে তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব, থার্মোমিটার উষ্ণতা মাপে।
- ল্যাক্টোমিটার: দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব
- হাইগ্রোমিটার: আপেক্ষিক আর্দ্রতা
- ল্যাক্টোমিটার আসলে বিশেষ ধরনের হাইড্রোমিটার
- হাইগ্রোমিটার (আর্দ্রতা) আর হাইড্রোমিটার (তরল): এক অক্ষরের তফাতে গুলিয়ে যায়
- ল্যাক্টো = দুধ, হাইগ্রো = আর্দ্রতা, হাইড্রো = জল/তরল
| যন্ত্র | কী মাপে |
|---|---|
| ল্যাক্টোমিটার | দুধের বিশুদ্ধতা (আপেক্ষিক গুরুত্ব) |
| হাইগ্রোমিটার | বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা |
| হাইড্রোমিটার | তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব |
| ব্যারোমিটার | বায়ুমণ্ডলের চাপ |
| থার্মোমিটার | উষ্ণতা |
জলে ডোবানো চামচ বা জলভরা গ্লাসে রাখা পেনসিল বাঁকা দেখায় কেন?
আলো জল থেকে বাতাসে যাওয়ার সময় তার গতি বদলায় এবং দিক বেঁকে যায়; একে প্রতিসরণ বলে। তাই জলের ভেতরের অংশ আসল জায়গার চেয়ে একটু ওপরে দেখায় এবং চামচ ভাঙা বা বাঁকা লাগে। প্রিজমে সাত রঙে ভাগ হওয়া বিচ্ছুরণ, আকাশ নীল দেখানো বিক্ষেপণ।
- মাধ্যম বদলালে আলোর দিক বদল: প্রতিসরণ
- এই কারণেই পুকুর আসলের চেয়ে কম গভীর দেখায়
- আয়নায় প্রতিবিম্ব: প্রতিফলন
- প্রতিসরণ = 'সরে' যাওয়া দিক
কোন উষ্ণতায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান হয়?
সূত্রটি হল $F = \frac{9}{5}C + 32$। পাঠ সমান হলে $F = C$ ধরে পাই $C = \frac{9}{5}C + 32$, অর্থাৎ $-\frac{4}{5}C = 32$, তাই $C = -40$। অর্থাৎ −40 °C = −40 °F; 0 °C কিন্তু 32 °F।
- $F = \frac{9}{5}C + 32$
- জলের হিমাঙ্ক 0 °C = 32 °F, স্ফুটনাঙ্ক 100 °C = 212 °F
- দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা প্রায় 37 °C = 98.6 °F
- −40-এ দুই স্কেল 'হাত মেলায়'

প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন কে আবিষ্কার করেন?
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং 1928 সালে লক্ষ করেন, পেনিসিলিয়াম ছত্রাক তার চারপাশের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলছে; এভাবেই পেনিসিলিন আবিষ্কার হয়। এডওয়ার্ড জেনার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন, লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা ও পাস্তুরাইজেশন, রবার্ট কখ যক্ষ্মা ও কলেরার জীবাণু শনাক্ত করেন।
- পেনিসিলিন: ফ্লেমিং, 1928
- পেনিসিলিন আসে পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে
- গুটিবসন্তের টিকা: জেনার
- ফ্লেমিং-এর ছত্রাক = পেনিসিলিন; জেনারের টিকা = গুটিবসন্ত
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
WBPSC ক্লার্কশিপ পার্ট-I-এর জেনারেল স্টাডিজে 40 নম্বরের প্রশ্ন আসে, তার একটা বড় অংশ দৈনন্দিন বিজ্ঞান। এই চতুর্থ পর্বে 20টি নতুন প্রশ্ন: চোখ ও লেন্স, রক্ত ও হৃৎপিণ্ড, ভিটামিন ও মশাবাহিত রোগ, দই-পাউরুটির জীবাণু, তাপ, উদ্ভিদ আর রোজকার যন্ত্র।
প্রতি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড সময়। উত্তর দেওয়ার পর ব্যাখ্যা, মূল তথ্য আর মনে রাখার কৌশল পড়ে নিন; পরীক্ষায় ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়, তাই নিশ্চিত না হলে আন্দাজে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো। আগের পর্ব: দৈনন্দিন বিজ্ঞান মিশ্র কুইজ 3।
পুরো প্রস্তুতির রুটিন পাবেন WBPSC ক্লার্কশিপ 2024-এর 8 সপ্তাহের প্রস্তুতি পরিকল্পনায়, আর আগের বছরের প্রশ্ন দেখতে ক্লার্কশিপ 2023 প্রশ্নপত্র।

Leave a Comment
Commenting as ·