ধাতু, অধাতু ও সংকর ধাতু কুইজ: WBPSC ক্লার্কশিপ জিএস
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
ক্লার্কশিপ পার্ট-1-এর দৈনন্দিন বিজ্ঞান: ধাতু, অধাতু, সক্রিয়তা শ্রেণি, মরচে, আকরিক ও সংকর ধাতু নিয়ে 10টি প্রশ্ন, প্রতিটির ব্যাখ্যাসহ। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
সাধারণ তাপমাত্রায় নিচের কোন ধাতুটি তরল অবস্থায় থাকে?
পারদ (Hg) একমাত্র ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল, তাই থার্মোমিটারে ব্যবহৃত হয়। ব্রোমিনও তরল, কিন্তু সেটি অধাতু, ধাতু নয়। সোডিয়াম নরম কঠিন ধাতু আর টাংস্টেনের গলনাঙ্ক সব ধাতুর মধ্যে সর্বোচ্চ।
- তরল ধাতু: পারদ
- তরল অধাতু: ব্রোমিন
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় −39°C, সব ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে কম
- প্রশ্নে 'ধাতু' বললে পারদ, 'অধাতু' বললে ব্রোমিন: ব্রোমিন তরল হলেও ধাতু নয়
- তরল জোড়া: পারদ ধাতু, ব্রোমিন অধাতু
পিতল (Brass) কীসের সংকর?
পিতল হল তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর। তামা ও টিন মিশিয়ে হয় ব্রোঞ্জ, লোহা ও কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত। তামা, দস্তা ও নিকেল তিনটে মিলে জার্মান সিলভার।
- পিতল = তামা + দস্তা
- ব্রোঞ্জ = তামা + টিন
- কাঁসা = টিন-বেশি ব্রোঞ্জ
- পিতল আর ব্রোঞ্জ দুটোতেই তামা থাকে বলে গুলিয়ে যায়: পার্থক্য শুধু দস্তা বনাম টিন
- পিতলে দস্তা, ব্রোঞ্জে টিন
| সংকর ধাতু | উপাদান | ব্যবহার |
|---|---|---|
| পিতল (Brass) | তামা + দস্তা | বাসন, কলের মাথা, বাদ্যযন্ত্র |
| ব্রোঞ্জ (Bronze) | তামা + টিন | মূর্তি, পদক, মুদ্রা |
| কাঁসা (Bell metal) | তামা + টিন (টিনের ভাগ বেশি) | থালা-বাটি, ঘণ্টা |
| গান মেটাল (Gun metal) | তামা + টিন + দস্তা | গিয়ার, বেয়ারিং, যন্ত্রাংশ |
| জার্মান সিলভার | তামা + দস্তা + নিকেল (রুপো নেই) | বাসন, গয়নার মতো সাজের জিনিস |
| ইস্পাত (Steel) | লোহা + কার্বন | নির্মাণ, রেললাইন, যন্ত্রপাতি |
| স্টেইনলেস স্টিল | লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল (+ সামান্য কার্বন) | রান্নার বাসন, অস্ত্রোপচারের যন্ত্র |
| সোল্ডার (ঝালাই) | সিসা + টিন | বৈদ্যুতিক তার জোড়া (গলনাঙ্ক কম) |
নিচের কোন অধাতুটি বিদ্যুৎ পরিবহণ করে?
গ্রাফাইট কার্বনের একটি রূপ; এর প্রতিটি কার্বন পরমাণুর একটি করে ইলেকট্রন মুক্তভাবে চলতে পারে, তাই এটি বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং তড়িৎদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হীরাও কার্বন, কিন্তু তার সব ইলেকট্রন বাঁধা, তাই কুপরিবাহী। সালফার ও ফসফরাস সাধারণ অধাতুর মতোই কুপরিবাহী।
- গ্রাফাইট: সুপরিবাহী অধাতু, পেনসিলের সিস ও তড়িৎদ্বারে লাগে
- হীরা: কঠিনতম প্রাকৃতিক পদার্থ, কুপরিবাহী
- হীরা ও গ্রাফাইট দুটোই কার্বনের রূপভেদ
- হীরা আর গ্রাফাইট দুটোই কার্বন, কিন্তু বিদ্যুৎ পরিবহণ করে শুধু গ্রাফাইট
ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় কোন ধাতু?
ভূত্বকে ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অ্যালুমিনিয়াম, তার পরে লোহা। তবে মৌল হিসেবে ভূত্বকে প্রথম অক্সিজেন, দ্বিতীয় সিলিকন, তৃতীয় অ্যালুমিনিয়াম। অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক বক্সাইট।
- ভূত্বকে প্রথম ধাতু: অ্যালুমিনিয়াম, দ্বিতীয়: লোহা
- ভূত্বকে প্রথম মৌল: অক্সিজেন
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট
- প্রশ্নে 'ধাতু' বললে অ্যালুমিনিয়াম, 'মৌল' বললে অক্সিজেন
লোহায় মরচে আটকাতে গ্যালভানাইজেশনে কোন ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়?
গ্যালভানাইজেশন মানে লোহা বা ইস্পাতের উপর দস্তার (জিঙ্ক) প্রলেপ। দস্তা সক্রিয়তা শ্রেণিতে লোহার উপরে, তাই প্রলেপে আঁচড় লাগলেও আগে দস্তাই ক্ষয় হয়, লোহা বাঁচে। টিনের প্রলেপকে টিন প্লেটিং বলে, আর ক্রোমিয়াম বা নিকেলের প্রলেপ হয় তড়িৎ-লেপনে।
- গ্যালভানাইজেশন = লোহার উপর দস্তা
- মরচে ধরতে অক্সিজেন ও জল দুটোই লাগে
- মরচে: আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড
- টিনের প্রলেপ (টিন প্লেটিং) আর গ্যালভানাইজেশন আলাদা: গ্যালভানাইজেশনে দস্তা
- গ্যালভানাইজড টিনের চাল আসলে দস্তার প্রলেপ দেওয়া লোহা

নিচের কোন মৌলটিকে কেরোসিনের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়?
সোডিয়াম অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু: বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে, জলে দিলে আগুন ধরে যেতে পারে, তাই কেরোসিনে রাখা হয়। সাদা ফসফরাস বাতাসে নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে, তাই তাকে রাখা হয় জলের নিচে। পারদ ও ম্যাগনেসিয়াম এভাবে রাখতে হয় না।
- সোডিয়াম ও পটাশিয়াম: কেরোসিনে
- সাদা ফসফরাস: জলে
- সোডিয়ামের শেষ কক্ষে 1টি ইলেকট্রন, সহজেই ছেড়ে দেয়
- সোডিয়াম আর ফসফরাস দুটোই বিপজ্জনক, কিন্তু একটা কেরোসিনে, অন্যটা জলে
- সোডিয়াম কেরোসিনে, ফসফরাস জলে

নিচের কোন ধাতুটি সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী?
সব ধাতুর মধ্যে রুপো সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী, তার ঠিক পরে তামা, তারপর সোনা ও অ্যালুমিনিয়াম। রুপো দামি, তাই বাড়ির বৈদ্যুতিক তারে প্রায় সমান পরিবাহী অথচ সস্তা তামা ব্যবহার হয়। সোনা সবচেয়ে প্রসারণশীল ও নমনীয় ধাতু, সবচেয়ে ভালো পরিবাহী নয়।
- সেরা পরিবাহী: রুপো, দ্বিতীয়: তামা
- সবচেয়ে প্রসারণশীল ও নমনীয়: সোনা
- বৈদ্যুতিক তারে তামা: সস্তা ও প্রায় সমান পরিবাহী
- তারে তামা লাগে বলে অনেকে তামাকে সেরা পরিবাহী ভাবেন; সেরা আসলে রুপো
জার্মান সিলভারে নিচের কোন ধাতুটি থাকে না?
জার্মান সিলভার তামা, দস্তা ও নিকেলের সংকর; রুপোর মতো সাদা চকচকে দেখায় বলে এই নাম, কিন্তু এতে কোনো রুপো নেই। বাসন ও সাজের জিনিস তৈরিতে লাগে।
- জার্মান সিলভার = তামা + দস্তা + নিকেল
- নামে সিলভার হলেও রুপো নেই
- নাম দেখে রুপো বেছে নেওয়াই এই প্রশ্নের ফাঁদ
- নামে সিলভার, ভেতরে রুপো নেই
| সংকর ধাতু | উপাদান | ব্যবহার |
|---|---|---|
| পিতল (Brass) | তামা + দস্তা | বাসন, কলের মাথা, বাদ্যযন্ত্র |
| ব্রোঞ্জ (Bronze) | তামা + টিন | মূর্তি, পদক, মুদ্রা |
| কাঁসা (Bell metal) | তামা + টিন (টিনের ভাগ বেশি) | থালা-বাটি, ঘণ্টা |
| গান মেটাল (Gun metal) | তামা + টিন + দস্তা | গিয়ার, বেয়ারিং, যন্ত্রাংশ |
| জার্মান সিলভার | তামা + দস্তা + নিকেল (রুপো নেই) | বাসন, গয়নার মতো সাজের জিনিস |
| ইস্পাত (Steel) | লোহা + কার্বন | নির্মাণ, রেললাইন, যন্ত্রপাতি |
| স্টেইনলেস স্টিল | লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল (+ সামান্য কার্বন) | রান্নার বাসন, অস্ত্রোপচারের যন্ত্র |
| সোল্ডার (ঝালাই) | সিসা + টিন | বৈদ্যুতিক তার জোড়া (গলনাঙ্ক কম) |
বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট তৈরিতে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
বাল্বের ফিলামেন্ট খুব গরম হয়ে আলো দেয়, তাই দরকার এমন ধাতু যা সহজে গলে না। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক (প্রায় 3422°C) সব ধাতুর মধ্যে সর্বোচ্চ, তাই ফিলামেন্ট টাংস্টেনের। নাইক্রোম ধাতু নয়, নিকেল-ক্রোমিয়ামের সংকর, যা হিটার ও ইস্ত্রির কয়েলে লাগে।
- সর্বোচ্চ গলনাঙ্কের ধাতু: টাংস্টেন
- হিটারের কয়েল: নাইক্রোম (নিকেল + ক্রোমিয়াম)
- সর্বনিম্ন গলনাঙ্কের ধাতু: পারদ
- বাল্বে টাংস্টেন, হিটারে নাইক্রোম: দুটোই গরম হয় বলে গুলিয়ে যায়
বক্সাইট কোন ধাতুর প্রধান আকরিক?
বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক; এর থেকে অ্যালুমিনা নিষ্কাশন করে তড়িৎ-বিশ্লেষণে অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায়। লোহার আকরিক হেমাটাইট ও ম্যাগনেটাইট, তামার কপার পাইরাইটিস, দস্তার জিঙ্ক ব্লেন্ড।
- বক্সাইট → অ্যালুমিনিয়াম
- হেমাটাইট → লোহা
- গ্যালেনা → সিসা, সিনাবার → পারদ
| ধাতু | প্রধান আকরিক |
|---|---|
| অ্যালুমিনিয়াম (Al) | বক্সাইট |
| লোহা (Fe) | হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট |
| তামা (Cu) | কপার পাইরাইটিস (চ্যালকোপাইরাইট) |
| দস্তা (Zn) | জিঙ্ক ব্লেন্ড |
| সিসা (Pb) | গ্যালেনা |
| পারদ (Hg) | সিনাবার |
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
ক্লার্কশিপ পার্ট-1-এর দৈনন্দিন বিজ্ঞান: ধাতু, অধাতু, সক্রিয়তা শ্রেণি, মরচে, আকরিক ও সংকর ধাতু নিয়ে 10টি প্রশ্ন, প্রতিটির ব্যাখ্যাসহ।
Related Posts
ভারতের ভূগোল মিশ্র কুইজ 4: নদীর উৎস, বাঁধ, গিরিপথ, দ্বীপ ও খনিজ (ক্লার্কশিপ 2024)
সময় ও দূরত্ব অঙ্কের সূত্র, শর্টকাট ও 12টি প্র্যাক্টিস প্রশ্ন: WBPSC ক্লার্কশিপ 2024
সময় ও দূরত্ব প্র্যাক্টিস কুইজ: WBPSC ক্লার্কশিপ 2024

Leave a Comment
Commenting as ·