WBPSC ক্লার্কশিপ 2024: পশ্চিমবঙ্গ ও সাধারণ জ্ঞান মিশ্র কুইজ (তৃতীয় পর্ব, 20টি প্রশ্ন)
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 Part-I-এ জেনারেল স্টাডিজে 40টি প্রশ্ন থাকে, ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়। এই তৃতীয় পর্বে 20টি নতুন প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গের সীমানা, প্রতীক, ঐতিহ্য ও নদী, বাংলার সমাজ সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন, ভারতের ভূগোল আর দৈনন্দিন বিজ্ঞান। আগের দুই পর্বের প্রশ্ন এখানে নেই। প্রতিটি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড সময়। উত্তর দেওয়ার পর ব্যাখ্যা, মূল তথ্য আর যেখানে কাজে লাগে সেখানে মানচিত্র বা সারণি দেখে নিন; ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো আবার পড়ুন। আগের পর্ব: প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্ব। পুরো প্রস্তুতির জন্য…
নিচের কোন দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমানা নেই?
পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমানা তিনটি দেশের সঙ্গে: পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তর-পশ্চিমে নেপাল আর উত্তরে ভুটান। মায়ানমার ভারতের প্রতিবেশী ঠিকই, কিন্তু তার সীমানা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির (অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম) সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নয়।
- পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী দেশ: বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান
- প্রতিবেশী রাজ্য: ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, সিকিম, অসম
- মায়ানমারের সীমানা উত্তর-পূর্ব ভারতের চার রাজ্যের সঙ্গে
- তিন দেশ: বা-নে-ভু (বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান)
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী কোনটি?
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী বাঘরোল বা মেছো বিড়াল (Fishing Cat), জলাভূমিতে মাছ ধরে খাওয়া এক বুনো বিড়াল। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ভারতের জাতীয় পশু, রাজ্য প্রাণী নয়; নামের 'বেঙ্গল' শব্দটিই এখানে ফাঁদ।
- রাজ্য প্রাণী: বাঘরোল (মেছো বিড়াল)
- রাজ্য পাখি: সাদা-গলা মাছরাঙা
- রাজ্য গাছ: ছাতিম; রাজ্য ফুল: শিউলি
- রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার = ভারতের জাতীয় পশু; বাঘরোল = পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী
| প্রতীক | পশ্চিমবঙ্গ |
|---|---|
| রাজ্য প্রাণী | বাঘরোল (মেছো বিড়াল) |
| রাজ্য পাখি | সাদা-গলা মাছরাঙা |
| রাজ্য গাছ | ছাতিম |
| রাজ্য ফুল | শিউলি |
কলকাতার হাওড়া ব্রিজের সরকারি নাম কী?
হুগলি নদীর ওপর হাওড়া ও কলকাতাকে যুক্ত করা হাওড়া ব্রিজ 1943 সালে চালু হয়; 1965 সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে এর নাম হয় রবীন্দ্র সেতু। বিদ্যাসাগর সেতু হল দ্বিতীয় হুগলি সেতু, বিবেকানন্দ সেতু বালি ব্রিজ, আর নিবেদিতা সেতু তার পাশের দ্বিতীয় বিবেকানন্দ সেতু।
- হাওড়া ব্রিজ চালু: 1943
- নাম রবীন্দ্র সেতু: 1965
- এটি একটি ক্যান্টিলিভার সেতু, নদীর মাঝে কোনো স্তম্ভ নেই
| সেতু | অন্য নাম / পরিচয় |
|---|---|
| রবীন্দ্র সেতু | হাওড়া ব্রিজ |
| বিদ্যাসাগর সেতু | দ্বিতীয় হুগলি সেতু |
| বিবেকানন্দ সেতু | বালি ব্রিজ |
| নিবেদিতা সেতু | দ্বিতীয় বিবেকানন্দ সেতু |
হুগলি নদীর ওপর চারটি সেতু
টেরাকোটা মন্দিরের জন্য বিখ্যাত বিষ্ণুপুর পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত?
বিষ্ণুপুর বাঁকুড়া জেলায়, মল্ল রাজাদের রাজধানী ছিল। রাসমঞ্চ, জোড়বাংলা ও শ্যামরায় মন্দিরের পোড়ামাটির (টেরাকোটা) কাজ আর বালুচরী শাড়ির জন্য বিষ্ণুপুর বিখ্যাত। পুরুলিয়া ছৌ নাচের জন্য, বীরভূম শান্তিনিকেতনের জন্য বেশি পরিচিত।
- বিষ্ণুপুর: বাঁকুড়া জেলা
- মল্ল রাজাদের রাজধানী
- টেরাকোটা মন্দির ও বালুচরী শাড়ি
- বাঁকুড়ার ঘোড়া আর বিষ্ণুপুরের মন্দির: দুটোই পোড়ামাটির
উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান মূলত কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?
আলিপুরদুয়ার জেলার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত; জলপাইগুড়ির গরুমারাতেও গণ্ডার আছে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য সুন্দরবন, রেড পান্ডার জন্য দার্জিলিঙের সিঙ্গালিলা ও কালিম্পঙের নেওড়া ভ্যালি, আর এশীয় সিংহ থাকে শুধু গুজরাটের গির অরণ্যে।
- জলদাপাড়া: আলিপুরদুয়ার জেলা, একশৃঙ্গ গণ্ডার
- গরুমারা: জলপাইগুড়ি জেলা, গণ্ডার
- সিঙ্গালিলা ও নেওড়া ভ্যালি: রেড পান্ডা
| জাতীয় উদ্যান | জেলা | বিখ্যাত প্রাণী |
|---|---|---|
| সুন্দরবন | দক্ষিণ 24 পরগনা | রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার |
| জলদাপাড়া | আলিপুরদুয়ার | একশৃঙ্গ গণ্ডার |
| গরুমারা | জলপাইগুড়ি | একশৃঙ্গ গণ্ডার |
| সিঙ্গালিলা | দার্জিলিং | রেড পান্ডা |
| নেওড়া ভ্যালি | কালিম্পং | রেড পান্ডা |
বারবার বন্যার জন্য কোন নদকে একসময় 'বাংলার দুঃখ' বলা হত?
ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে নেমে আসা দামোদর নদের বন্যায় বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বারবার ডুবে যেত, তাই একে 'বাংলার দুঃখ' বলা হত। স্বাধীনতার পর দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের বাঁধগুলি এই বন্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে। দামোদর শেষে হুগলি নদীতে মেশে।
- দামোদরের উৎস: ছোটনাগপুর মালভূমি (ঝাড়খণ্ড)
- প্রধান উপনদী: বরাকর
- শেষে হুগলি নদীতে মেশে
- 'বাংলার দুঃখ' = দামোদর; 'বিহারের দুঃখ' = কোশী
| বাঁধ | নদী |
|---|---|
| তিলাইয়া | বরাকর |
| মাইথন | বরাকর |
| কোনার | কোনার |
| পাঞ্চেত | দামোদর |
DVC-র প্রথম চারটি বাঁধ
দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) কোন প্রকল্পের আদলে গড়ে তোলা হয়েছিল?
1948 সালে গঠিত DVC স্বাধীন ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী উপত্যকা প্রকল্প, আমেরিকার টেনেসি ভ্যালি অথরিটির (TVA) আদলে। হুভার বাঁধও আমেরিকায়, কিন্তু সেটি একটি বাঁধ, গোটা উপত্যকার উন্নয়ন সংস্থা নয়; চীনের থ্রি গর্জেস তৈরি হয়েছে অনেক পরে।
- DVC গঠন: 1948
- আদর্শ: আমেরিকার টেনেসি ভ্যালি অথরিটি (TVA)
- কাজ: বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, বিদ্যুৎ
- D-V-C আর T-V-A: দুটোই 'Valley' সংস্থা
| বাঁধ | নদী |
|---|---|
| তিলাইয়া | বরাকর |
| মাইথন | বরাকর |
| কোনার | কোনার |
| পাঞ্চেত | দামোদর |
DVC-র প্রথম চারটি বাঁধ
বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কোন সালে চালু হয়?
গভর্নর-জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস 1793 সালে বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন: জমিদারদের দেয় রাজস্ব চিরকালের জন্য স্থির হয়ে যায়। 1765 সালে কোম্পানি দেওয়ানি পায়, 1784 সালে পিটের ভারত শাসন আইন হয়, 1813 সনদ আইনের বছর।
- চালু করেন লর্ড কর্নওয়ালিস
- জমিদারের রাজস্ব চিরকালের জন্য স্থির
- বাংলা, বিহার ও ওড়িশায়
| সাল | ঘটনা | কার আমলে / কার উদ্যোগে |
|---|---|---|
| 1784 | এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা | উইলিয়াম জোন্স |
| 1793 | চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত | লর্ড কর্নওয়ালিস |
| 1829 | সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ | লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (রামমোহন রায়ের আন্দোলন) |
| 1856 | হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আন্দোলন |
বাংলার ইতিহাসের চারটি সাল
1784 সালে কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
প্রাচ্যবিদ স্যার উইলিয়াম জোন্স 1784 সালে কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন, এশিয়ার ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য। ওয়ারেন হেস্টিংস তখন গভর্নর-জেনারেল ও এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, প্রতিষ্ঠাতা নন। জেমস প্রিন্সেপ পরে এই সোসাইটির সম্পাদক হিসেবে ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন।
- প্রতিষ্ঠাতা: স্যার উইলিয়াম জোন্স, 1784
- জেমস প্রিন্সেপ: ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার
- ডেভিড হেয়ার: হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় যুক্ত
- হেস্টিংস ছিলেন পৃষ্ঠপোষক; প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম জোন্স
| সাল | ঘটনা | কার আমলে / কার উদ্যোগে |
|---|---|---|
| 1784 | এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা | উইলিয়াম জোন্স |
| 1793 | চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত | লর্ড কর্নওয়ালিস |
| 1829 | সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ | লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (রামমোহন রায়ের আন্দোলন) |
| 1856 | হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আন্দোলন |
বাংলার ইতিহাসের চারটি সাল
কোন গভর্নর-জেনারেলের আমলে 1829 সালে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয়?
রাজা রামমোহন রায়ের দীর্ঘ আন্দোলনের পর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক 1829 সালের আইনে (রেগুলেশন XVII) সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন। কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য, ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতির জন্য, আর ক্যানিং 1857-র মহাবিদ্রোহের সময়ের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে পরিচিত।
- সতীদাহ নিষিদ্ধ: 1829, লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
- আন্দোলন করেন রাজা রামমোহন রায়
- প্রথম বাংলা প্রেসিডেন্সিতে, পরে অন্যত্র
| সাল | ঘটনা | কার আমলে / কার উদ্যোগে |
|---|---|---|
| 1784 | এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা | উইলিয়াম জোন্স |
| 1793 | চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত | লর্ড কর্নওয়ালিস |
| 1829 | সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ | লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (রামমোহন রায়ের আন্দোলন) |
| 1856 | হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আন্দোলন |
বাংলার ইতিহাসের চারটি সাল
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আন্দোলনের ফলে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাস হয় কোন সালে?
বিদ্যাসাগরের আন্দোলন ও আবেদনের ফলে 1856 সালে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাস হয়, যাতে হিন্দু বিধবাদের আবার বিয়ে আইনসিদ্ধ হয়। 1829 সতীদাহ নিষিদ্ধের বছর, 1891 সম্মতির বয়স আইনের (Age of Consent Act) বছর।
- আইন: 1856
- আন্দোলন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষারও প্রসার ঘটান
- রামমোহন = সতীদাহ নিষিদ্ধ (1829); বিদ্যাসাগর = বিধবা বিবাহ (1856)
| সাল | ঘটনা | কার আমলে / কার উদ্যোগে |
|---|---|---|
| 1784 | এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা | উইলিয়াম জোন্স |
| 1793 | চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত | লর্ড কর্নওয়ালিস |
| 1829 | সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ | লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (রামমোহন রায়ের আন্দোলন) |
| 1856 | হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আন্দোলন |
বাংলার ইতিহাসের চারটি সাল
1885 সালে বোম্বাইয়ে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি কে ছিলেন?
1885 সালের ডিসেম্বরে বোম্বাইয়ে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (W. C. Bonnerjee); প্রতিনিধি ছিলেন 72 জন। অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি নন। দাদাভাই নৌরোজি দ্বিতীয় অধিবেশনের (1886, কলকাতা) সভাপতি।
- প্রথম অধিবেশন: 1885, বোম্বাই, 72 জন প্রতিনিধি
- সভাপতি: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- প্রতিষ্ঠাতা: অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম
- হিউম = প্রতিষ্ঠাতা; উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় = প্রথম সভাপতি
1943 সালের 21 অক্টোবর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কোথায় আজাদ হিন্দ সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করেন?
নেতাজি 21.10.1943 তারিখে সিঙ্গাপুরে অস্থায়ী আজাদ হিন্দ সরকার গঠনের ঘোষণা করেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের সদর দপ্তর পরে রেঙ্গুনে (বর্মা) সরানো হয়। বার্লিনে তিনি এর আগে ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার ও ইন্ডিয়ান লিজিয়ন গড়েছিলেন।
- আজাদ হিন্দ সরকার: 21.10.1943, সিঙ্গাপুর
- ফৌজের সদর দপ্তর পরে রেঙ্গুনে
- স্লোগান: 'দিল্লি চলো', 'জয় হিন্দ'
1853 সালে ভারতে প্রথম যাত্রীবাহী রেল চলে কোন দুটি স্থানের মধ্যে?
16.04.1853 তারিখে বোম্বাইয়ের বোরিবন্দর থেকে থানে পর্যন্ত প্রায় 34 km পথে ভারতের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চলে, লর্ড ডালহৌসির আমলে। হাওড়া–হুগলি পূর্ব ভারতের প্রথম রেলপথ, চালু হয় পরের বছর, 15.08.1854 তারিখে; তাই এটিই এখানে ফাঁদ।
- প্রথম ট্রেন: 16.04.1853, বোরিবন্দর–থানে
- পূর্ব ভারতে প্রথম: হাওড়া–হুগলি, 15.08.1854
- তখন গভর্নর-জেনারেল লর্ড ডালহৌসি
- ভারতের প্রথম = বোম্বাই–থানে (1853); পূর্ব ভারত ও বাংলার প্রথম = হাওড়া–হুগলি (1854)
ভারতের কোন রাজ্যের উপকূলরেখা সবচেয়ে দীর্ঘ?
ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে গুজরাটের উপকূলরেখা সবচেয়ে দীর্ঘ: কচ্ছ ও খাম্বাত উপসাগর আর কাথিয়াওয়াড় উপদ্বীপের জন্য তার উপকূল খুব আঁকাবাঁকা। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপকূল বঙ্গোপসাগরের দিকে, তবে গুজরাটের চেয়ে ছোট।
- দীর্ঘতম উপকূল: গুজরাট (আরব সাগর)
- কচ্ছ ও খাম্বাত উপসাগর গুজরাটে
- পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ছোট, বঙ্গোপসাগরের তীরে
পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালা কোথায় এসে মিলিত হয়েছে?
দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ে পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট মিলিত হয়েছে; এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেতা, শৈলশহর উটি এখানেই। আরাবল্লি রাজস্থানে, আর বিন্ধ্য ও সাতপুরা মধ্য ভারতে নর্মদা উপত্যকার দুই পাশে।
- মিলনস্থল: নীলগিরি (তামিলনাড়ু)
- নীলগিরির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: দোদাবেতা
- বিন্ধ্য ও সাতপুরার মাঝে নর্মদা উপত্যকা
নিচের কোন নদী আরব সাগরে পড়েছে?
নর্মদা বিন্ধ্য ও সাতপুরার মাঝের গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে পশ্চিমে বয়ে গুজরাটের খাম্বাত উপসাগর হয়ে আরব সাগরে পড়েছে; তাই এর মোহনায় ব-দ্বীপ নয়, খাঁড়ি তৈরি হয়। গোদাবরী, কৃষ্ণা ও মহানদী পূর্ববাহিনী, পড়েছে বঙ্গোপসাগরে এবং মোহনায় ব-দ্বীপ গড়েছে।
- পশ্চিমবাহিনী প্রধান নদী: নর্মদা ও তাপ্তী
- নর্মদা বয়ে যায় গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে
- গোদাবরী, কৃষ্ণা, মহানদী: বঙ্গোপসাগরে, ব-দ্বীপ
- ন-তা পশ্চিমে: নর্মদা আর তাপ্তী
মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি কোনটি?
মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি যকৃৎ (লিভার); এটি পিত্তরস তৈরি করে, যা চর্বি হজমে সাহায্য করে। থাইরয়েড সবচেয়ে বড় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, আর পিটুইটারিকে বলা হয় 'প্রভু গ্রন্থি'; প্রশ্নটি কিন্তু সব গ্রন্থির মধ্যে বড়টির।
- বৃহত্তম গ্রন্থি: যকৃৎ
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে
- প্রভু গ্রন্থি: পিটুইটারি
- সব গ্রন্থির মধ্যে বৃহত্তম = যকৃৎ; বৃহত্তম অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি = থাইরয়েড
লোহায় মরচে পড়ার জন্য কী দরকার?
লোহা অক্সিজেন ও জলের (আর্দ্রতা) সংস্পর্শে এলে তবেই মরচে পড়ে; মরচে হল আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড। শুকনো বাতাসে বা বাতাসহীন ফোটানো জলে লোহায় মরচে প্রায় পড়ে না। রং, তেল বা গ্রিজ লাগিয়ে, কিংবা দস্তার প্রলেপ (গ্যালভানাইজেশন) দিয়ে মরচে আটকানো যায়।
- মরচে = আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড
- দরকার অক্সিজেন ও জল দুটোই
- গ্যালভানাইজেশন = লোহায় দস্তার প্রলেপ
রক্তের হিমোগ্লোবিনে কোন ধাতু থাকে?
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনে লোহা (আয়রন) থাকে; এই লোহাই অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে ফুসফুস থেকে শরীরের কোষে পৌঁছে দেয়। খাবারে লোহার অভাবে রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) হয়। ম্যাগনেসিয়াম থাকে উদ্ভিদের ক্লোরোফিলে।
- হিমোগ্লোবিন: লোহা
- ক্লোরোফিল: ম্যাগনেসিয়াম
- লোহার অভাবে রক্তাল্পতা
- হিমোগ্লোবিন = লোহা; ক্লোরোফিল = ম্যাগনেসিয়াম
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 Part-I-এ জেনারেল স্টাডিজে 40টি প্রশ্ন থাকে, ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়। এই তৃতীয় পর্বে 20টি নতুন প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গের সীমানা, প্রতীক, ঐতিহ্য ও নদী, বাংলার সমাজ সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন, ভারতের ভূগোল আর দৈনন্দিন বিজ্ঞান। আগের দুই পর্বের প্রশ্ন এখানে নেই।
প্রতিটি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড সময়। উত্তর দেওয়ার পর ব্যাখ্যা, মূল তথ্য আর যেখানে কাজে লাগে সেখানে মানচিত্র বা সারণি দেখে নিন; ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো আবার পড়ুন। আগের পর্ব: প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্ব।
পুরো প্রস্তুতির জন্য দেখুন ক্লার্কশিপ 2024-এর 8 সপ্তাহের প্রস্তুতি পরিকল্পনা আর 2023 সালের প্রশ্নপত্র।
Related Posts
ভারতের ভূগোল মিশ্র কুইজ 4: নদীর উৎস, বাঁধ, গিরিপথ, দ্বীপ ও খনিজ (ক্লার্কশিপ 2024)
সময় ও দূরত্ব অঙ্কের সূত্র, শর্টকাট ও 12টি প্র্যাক্টিস প্রশ্ন: WBPSC ক্লার্কশিপ 2024
সময় ও দূরত্ব প্র্যাক্টিস কুইজ: WBPSC ক্লার্কশিপ 2024

Leave a Comment
Commenting as ·