আলো ও লেন্স কুইজ: ক্লার্কশিপ 2024
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, লেন্স, চোখের দোষ ও বিচ্ছুরণের 10টি প্রশ্ন। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
সমতল দর্পণের প্রতিবিম্ব অসদ্, কারণ তা পর্দায় ফেলা যায় না। এটি সোজা এবং বস্তুর সমান আকারের, আর ডান-বাঁ বদলে যায়। অসদ্, সোজা ও ছোট প্রতিবিম্ব হয় উত্তল দর্পণে।
- অসদ্ বিম্ব পর্দায় পড়ে না
- প্রতিবিম্বের দূরত্ব = বস্তুর দূরত্ব
- ডান-বাঁ বদলায়, ওপর-নিচ নয়
- "পার্শ্বীয় উল্টানো" মানে মাথা নিচে নয়, ডান-বাঁ বদল
- সমতল দর্পণ = সমান আকার, সমান দূরত্ব
গাড়ির রিয়ার-ভিউ মিরর হিসেবে কোন দর্পণ ব্যবহার করা হয়?
উত্তল দর্পণ আলো ছড়িয়ে দেয় এবং ছোট, সোজা প্রতিবিম্ব গড়ে, ফলে পিছনের অনেক বড় অংশ একটি ছোট আয়নায় দেখা যায়। সমতল দর্পণে দৃষ্টিক্ষেত্র ছোট। অবতল দর্পণে দূরের বস্তুর প্রতিবিম্ব উল্টো হয়।
- উত্তল দর্পণ = অপসারী
- প্রতিবিম্ব সর্বদা অসদ্, সোজা, ছোট
- দৃষ্টিক্ষেত্র সবচেয়ে বড়
- অবতল দর্পণ শেভিং মিররে লাগে, গাড়ির আয়নায় নয়
- গাড়ির আয়না উত্তল, বেশি জায়গা দেখায়
| দর্পণ | প্রতিবিম্ব | ব্যবহার |
|---|---|---|
| সমতল | অসদ্, সোজা, সমান আকার | পেরিস্কোপ, ক্যালাইডোস্কোপ |
| অবতল | বস্তু কাছে থাকলে অসদ্, সোজা, বড় | দাড়ি কামানোর আয়না, হেডলাইট |
| উত্তল | সর্বদা অসদ্, সোজা, ছোট | গাড়ির রিয়ার-ভিউ মিরর |
একটি অবতল দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ 40 cm হলে তার ফোকাস দৈর্ঘ্য কত?
বক্র দর্পণে ফোকাস দৈর্ঘ্য বক্রতা ব্যাসার্ধের অর্ধেক: $f = \frac{R}{2} = \frac{40}{2} = 20$ cm। 40 cm তো ব্যাসার্ধই, আর 80 cm পাওয়া যায় ব্যাসার্ধকে দ্বিগুণ করলে, যা ভুল।
- $f = \frac{R}{2}$
- ফোকাস দর্পণের পোল ও বক্রতা কেন্দ্রের মাঝখানে
- সমতল দর্পণের ফোকাস দৈর্ঘ্য অসীম
- ব্যাসার্ধ ও ফোকাস দৈর্ঘ্য গুলিয়ে ফেলা
- ফোকাস = ব্যাসার্ধের অর্ধেক
জলে আংশিক ডোবানো পেনসিল জলের তলে বাঁকা দেখায় কেন?
পেনসিল থেকে আসা আলো জল থেকে বায়ুতে আসার সময় মাধ্যম বদলায় এবং বেঁকে যায়, একেই প্রতিসরণ বলে। তাই ডোবা অংশের আপাত অবস্থান বদলে যায়। বিচ্ছুরণে আলো রঙে ভাগ হয়, বিক্ষেপণে চারদিকে ছড়ায়, কোনোটাই এখানে ঘটছে না।
- মাধ্যম বদলালে আলোর বেগ বদলায়
- পুকুরের তলা কম গভীর দেখানোও প্রতিসরণ
- বিরল থেকে ঘন মাধ্যমে রশ্মি অভিলম্বের দিকে বাঁকে
- বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণ আলাদা: বিচ্ছুরণে রঙ ভাগ হয়
- মাধ্যম বদল = আলোর বাঁক = প্রতিসরণ
কোনো মাধ্যমে আলোর বেগ $2 \times 10^{8}$ m/s হলে ওই মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক কত? (শূন্যস্থানে আলোর বেগ $3 \times 10^{8}$ m/s)
প্রতিসরাঙ্ক $n = \frac{c}{v} = \frac{3 \times 10^{8}}{2 \times 10^{8}} = 1.5$, প্রায় সাধারণ কাচের সমান। 0.67 পাওয়া যায় ভাগ উল্টে করলে, যা হয় না, কারণ n কখনও 1-এর কম হয় না। 1.0 হত শূন্যস্থানে।
- $n = \frac{c}{v}$
- প্রতিসরাঙ্কের একক নেই
- n সর্বদা 1 বা তার বেশি
- c ও v উল্টে ভাগ করলে 1-এর কম উত্তর আসে, যা অসম্ভব
- শূন্যের বেগ ওপরে, মাধ্যমের বেগ নিচে
কয়েকটি মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কোন ঘটনার ফলে পৌঁছয়?
ফাইবারের কাচের ভিতর ঘন থেকে বিরল মাধ্যমের তলে আলো ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় কোণে পড়ে, তাই পুরোটাই ফিরে আসে। বারবার এইভাবে প্রতিফলিত হয়ে আলো ফাইবার বেয়ে চলে, বাইরে বেরোয় না। এই কারণেই ফাইবার বাঁকালেও সংকেত যায়।
- শর্ত: ঘন থেকে বিরল মাধ্যমে যাওয়া
- আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হওয়া
- মরীচিকা ও হিরের ঝলকানিও একই কারণে
- এখানে আলো বেরিয়ে আসে না, তাই প্রতিসরণ নয়
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন = আলোর সুড়ঙ্গ
50 cm ফোকাস দৈর্ঘ্যের একটি উত্তল লেন্সের ক্ষমতা কত?
ফোকাস দৈর্ঘ্য মিটারে নিতে হয়: 50 cm = 0.5 m। ক্ষমতা $P = \frac{1}{f} = \frac{1}{0.5} = 2$ D, উত্তল লেন্স বলে চিহ্ন ধনাত্মক। cm-কে মিটারে না বদলালে 50 D-র মতো ভুল উত্তর আসে।
- $P = \frac{1}{f}$, f মিটারে
- ক্ষমতার একক ডায়োপ্টার (D)
- উত্তল লেন্স +, অবতল −
- f সেন্টিমিটারে বসিয়ে ফেলা
- আগে cm থেকে m, তারপর ভাগ
| লেন্স | গঠন | কাজ | ক্ষমতা |
|---|---|---|---|
| উত্তল | মাঝখানে মোটা | অভিসারী | ধনাত্মক (+) |
| অবতল | মাঝখানে পাতলা | অপসারী | ঋণাত্মক (−) |

হ্রস্বদৃষ্টি (মায়োপিয়া) সংশোধনের জন্য কোন লেন্সের চশমা ব্যবহার করা হয়?
হ্রস্বদৃষ্টিতে দূরের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে তৈরি হয়। অবতল লেন্স আলো ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিবিম্বকে রেটিনায় সরিয়ে আনে। উত্তল লেন্স লাগে দূরদৃষ্টিতে, আর বাইফোকাল লেন্স বয়সজনিত প্রেসবায়োপিয়ায়।
- হ্রস্বদৃষ্টিতে দূরের জিনিস ঝাপসা
- চোখের গোলক বেশি লম্বা হলে এটি হয়
- ক্ষমতা ঋণাত্মক
- উত্তল ও অবতল উল্টে ফেলা
- হ্রস্ব = ছড়াতে হবে = অবতল
| দোষ | প্রতিবিম্ব কোথায় পড়ে | লেন্স |
|---|---|---|
| হ্রস্বদৃষ্টি | রেটিনার সামনে | অবতল |
| দূরদৃষ্টি | রেটিনার পিছনে | উত্তল |
আকাশ নীল দেখায় কোন ঘটনার জন্য?
বায়ুর অণু ও ক্ষুদ্র কণা ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে বেশি ছড়ায়, তাই নীল আলো সব দিকে ছড়িয়ে আমাদের চোখে আসে। লাল আলো সবচেয়ে কম ছড়ায়, সেজন্য সূর্যাস্তে সূর্য লালচে দেখায়। প্রতিসরণ ও প্রতিফলনে এমন রঙের ভাগ হয় না।
- ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য = বেশি বিক্ষেপণ
- লাল সবচেয়ে কম ছড়ায়, তাই বিপদসংকেত লাল
- বায়ুমণ্ডল না থাকলে আকাশ কালো দেখাত
- রংধনুর কারণ বিচ্ছুরণ, আকাশের নীলের কারণ বিক্ষেপণ
- নীল ছড়ায় বেশি, লাল ছড়ায় কম
সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে কোন রঙের আলো সবচেয়ে বেশি বেঁকে যায়?
প্রিজমে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর প্রতিসরাঙ্ক বেশি, তাই বেশি বেঁকে যায়। সাত রঙের মধ্যে বেগুনির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে ছোট, তাই এর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। লালের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়, তাই সবচেয়ে কম বাঁকে।
- বেগুনির বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি, লালের সবচেয়ে কম
- শূন্যস্থানে সব রঙের বেগ সমান
- সাতটি রঙ: বেনীআসহকলা
- লাল বেশি বাঁকে ভাবা ভুল: লাল সবচেয়ে কম বাঁকে
- বেনীআসহকলা: বেগুনি থেকে লাল, বাঁক কমতে থাকে
| রঙ | বেঁকে যাওয়া | আনুমানিক তরঙ্গদৈর্ঘ্য |
|---|---|---|
| লাল | সবচেয়ে কম | প্রায় 700 nm |
| হলুদ | মাঝামাঝি | প্রায় 580 nm |
| বেগুনি | সবচেয়ে বেশি | প্রায় 400 nm |
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, লেন্স, চোখের দোষ ও বিচ্ছুরণের 10টি প্রশ্ন।

Leave a Comment
Commenting as ·