প্র্যাক্টিস

বাংলার পাল ও সেন যুগ: ক্লার্কশিপ GK নোট ও কুইজ

প্রাচীন বাংলার ইট-নির্মিত বিহারের ধ্বংসাবশেষ
Pala Sena Dynasty Bengal Notes Clerkship Gk
|

Key Highlights

  • পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল, মাৎস্যন্যায় থামাতে নির্বাচিত (প্রায় 750)
  • ধর্মপাল: বিক্রমশীলা; দেবপাল: সর্বোচ্চ বিস্তার; রামপাল: রামচরিত
  • সেন বংশে বিজয়সেন, বল্লালসেন, লক্ষ্মণসেন; গীতগোবিন্দ জয়দেবের
  • প্রায় 1204-এ বখতিয়ার খলজির নদিয়া আক্রমণ

WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 পার্ট-1 এর সাধারণ জ্ঞান অংশে প্রাথমিক ভারতীয় ইতিহাস আসে। এই নোটে বাংলার পাল ও সেন যুগের পরীক্ষায়-আসা তথ্য, মাধ্যমিক স্তরে, সাজানো হয়েছে। সাল সবই প্রায় সাল: ইতিহাসবিদদের মধ্যে কিছু অমিল আছে, তাই প্রশ্নে সাধারণত রাজার নাম, কীর্তি ও গ্রন্থই আসে, ঠিক সাল নয়।

পুরো পরিকল্পনা দেখুন 8 সপ্তাহের প্রস্তুতি পরিকল্পনায়।

পাল ও সেন রাজাদের সময়রেখা
পাল ও সেন যুগ এক নজরে (সাল প্রায়)
Table of Contents

পাল বংশ (প্রায় 750 – 12 শতক)

গুপ্ত-পরবর্তী কালে বাংলায় দীর্ঘ অরাজকতা চলে, যাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। তা শেষ করতে সামন্তরা গোপালকে রাজা নির্বাচিত করেন (প্রায় 750)। এভাবেই পাল বংশের শুরু। পালরা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, মূলত মহাযান ও বজ্রযান ধারার।

  • ধর্মপাল (প্রায় 770–810): বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা, সোমপুর মহাবিহার (পাহাড়পুর) নির্মাণ। কনৌজের জন্য ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষে নামেন।
  • দেবপাল (প্রায় 810–850): সাম্রাজ্য সবচেয়ে বড় হয়। সুমাত্রার শৈলেন্দ্র রাজা বালপুত্রদেবকে নালন্দায় বিহারের জন্য গ্রাম দান করেন।
  • প্রথম মহীপাল (প্রায় 988–1038): দুর্বল হয়ে-পড়া পাল শক্তির পুনরুদ্ধার। তাঁর সময়ে চোল রাজা রাজেন্দ্র চোল বাংলায় অভিযান চালান।
  • রামপাল (প্রায় 1077–1130): কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে উত্তরবঙ্গ ফেরত পান, রামাবতী নগর গড়েন। সভাকবি সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত তাঁর সময়ের প্রধান সূত্র।

পাল যুগে বৌদ্ধ চর্যাপদ রচিত হয়, যা বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন বলে ধরা হয়। নালন্দা ও বিক্রমশীলার পাশাপাশি পাহাড়পুরের মহাবিহার (বর্তমানে বাংলাদেশে) তখনকার বড় শিক্ষাকেন্দ্র।

সেন বংশ (প্রায় 1095 – 1206)

সেনরা দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে আসা বলে মনে করা হয় এবং নিজেদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলতেন। বংশের আদি পুরুষ সামন্তসেন, কিন্তু স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজ্য গড়েন বিজয়সেন। সেনরা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষক, শৈব ও বৈষ্ণব ভাবধারা বাড়ে।

  • বিজয়সেন (প্রায় 1095–1158): রাজধানী বিজয়পুর। তাঁর কীর্তি দেওপাড়া প্রশস্তিতে, রচয়িতা উমাপতিধর।
  • বল্লালসেন (প্রায় 1158–1179): দানসাগর লেখেন, অদ্ভুতসাগর শুরু করেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী কৌলীন্য প্রথার প্রবর্তক।
  • লক্ষ্মণসেন (প্রায় 1179–1206): সভায় জয়দেব (গীতগোবিন্দ), ধোয়ী (পবনদূত), উমাপতিধর, শরণ ও গোবর্ধন। রাজধানী নদিয়া ও লক্ষ্মণাবতী। প্রায় 1204 খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজি নদিয়া আক্রমণ করেন।

পাল ও সেন: এক নজরে তুলনা

বিষয়পালসেন
প্রতিষ্ঠাতাগোপাল (প্রায় 750)সামন্তসেন (আদি পুরুষ), বিজয়সেন (প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা)
ধর্মবৌদ্ধ (মহাযান, বজ্রযান)ব্রাহ্মণ্য (শৈব, বৈষ্ণব)
বিখ্যাত রাজাধর্মপাল, দেবপাল, রামপালবিজয়সেন, বল্লালসেন, লক্ষ্মণসেন
শিক্ষাকেন্দ্র/সাহিত্যবিক্রমশীলা, সোমপুর, নালন্দা; চর্যাপদ, রামচরিতগীতগোবিন্দ, পবনদূত, দানসাগর, অদ্ভুতসাগর
পতনসেনদের উত্থানে, 12 শতকপ্রায় 1204, বখতিয়ার খলজির আক্রমণ
পাল ও সেন যুগের তুলনা

মনে রাখার কৌশল

  • বিক্রমশীলা = ধর্মপাল; নালন্দায় বিদেশি বিহার = দেবপাল; রামচরিত = রামপাল।
  • কবিদের মিল: গীতগোবিন্দ = জয়দেব, পবনদূত = ধোয়ী, দেওপাড়া প্রশস্তি = উমাপতিধর।
  • পাল আগে, সেন পরে; পাল = বৌদ্ধ, সেন = ব্রাহ্মণ্য।

পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী

ক্লার্কশিপের ইতিহাস প্রশ্ন সোজাসুজি: কে প্রতিষ্ঠাতা, কোন গ্রন্থ কার, কোন বিহার কার। উপরের তুলনা-টেবিল আর মনে-রাখার-কৌশল দুই দিনে তুলে নিন, তারপর নীচের কুইজ দিন। ভুল হওয়া প্রশ্নের ব্যাখ্যা আবার পড়ুন। পার্ট-1-এ প্রতিটি ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়, তাই জানা না থাকলে আন্দাজে না লিখে আগে অন্য প্রশ্ন সারুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

গোপাল, প্রায় 750 খ্রিস্টাব্দে সামন্তদের নির্বাচনে রাজা হন।

বিক্রমশীলা মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?

পাল রাজা ধর্মপাল।

গীতগোবিন্দ কার রচনা?

জয়দেবের, যিনি সেন রাজা লক্ষ্মণসেনের সভাকবি ছিলেন।

ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় কি ঠিক সাল জানা দরকার?

সাল প্রায় মনে রাখলেই চলে। প্রশ্নে সাধারণত রাজার নাম, কীর্তি ও গ্রন্থ আসে।

Manoj Bera

Manoj Bera

Manoj Bera, a passionate writer, has been blogging since 2018 while also working as an educator for all competitive exam preparation. His blog posts reflect her love for exploring the world through engaging writing. more>>

Leave a Comment