ভারতের জলবায়ু ও মৌসুমি বায়ু কুইজ: ক্লার্কশিপ জিএস
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
ভারতের জলবায়ু ও মৌসুমি বায়ু থেকে 10টি প্রশ্ন, ক্লার্কশিপ 2024-এর জিএসের ধাঁচে। প্রতি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
'মৌসুমি' (monsoon) শব্দটি আরবি 'মৌসিম' থেকে এসেছে। এর অর্থ কী?
আরবি 'মৌসিম' শব্দের অর্থ ঋতু। ঋতু বদলের সঙ্গে বায়ুর দিক উল্টে যায় বলেই এই বায়ুর নাম মৌসুমি বায়ু। তাই শুধু 'বায়ু' বা 'বৃষ্টি' বলা ঠিক নয়: নামটি ঋতুভিত্তিক দিক-বদলকে বোঝায়।
- মৌসুমি বায়ুর দিক ঋতু অনুযায়ী উল্টে যায়
- ভারতের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির
- মৌসিম = ঋতু
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের মূল ভূখণ্ডে সাধারণত প্রথম কোথায় প্রবেশ করে?
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগরের উপর দিয়ে এসে প্রথমে কেরল উপকূলে পৌঁছয়, স্বাভাবিক তারিখ প্রায় 1 জুন। এরপর ক্রমে উত্তরে ও পূর্বে ছড়িয়ে পড়ে। মুম্বাই বা কলকাতায় পৌঁছতে আরও কিছুদিন লাগে।
- স্বাভাবিক আগমন: কেরলে প্রায় 1 জুন
- দুটি শাখা: আরব সাগর শাখা ও বঙ্গোপসাগর শাখা
- বর্ষাকাল: জুন–সেপ্টেম্বর
- বর্ষার প্রবেশদ্বার = কেরল
ভারতে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত সবচেয়ে বেশি হয় কোন স্থানে?
মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের মাওসিনরামে বৃষ্টি সর্বাধিক। বঙ্গোপসাগরের আর্দ্র বায়ু পাহাড়ের ঢালে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঘনীভূত হয় এবং প্রচুর বৃষ্টি ঝরে। জয়সলমের ও বিকানের থর মরুভূমি অঞ্চলে, লে লাদাখে: তিনটিই শুষ্ক।
- মাওসিনরাম: খাসি পাহাড়, মেঘালয়
- বৃষ্টির ধরন: শৈলোৎক্ষেপ (পার্বত্য) বৃষ্টি
- থর মরুভূমিতে বৃষ্টি খুব কম
- মেঘের আলয় = মেঘালয়, সেখানেই মাওসিনরাম
কর্কটক্রান্তি রেখা পশ্চিমবঙ্গসহ কোন রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে?
কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের আটটি রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে: গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। ওড়িশা, মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশ এই তালিকায় নেই, সবই রেখার দক্ষিণে।
- রেখা 23.5° উত্তর অক্ষাংশে
- ভারতের প্রায় মাঝ বরাবর গেছে
- মোট 8টি রাজ্য
- ওড়িশা ঝাড়খণ্ডের ঠিক দক্ষিণে, তাই রেখার উপর নয়: রেখা ঝাড়খণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ত্রিপুরা ও মিজোরামে গেছে
- ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ পাশাপাশি: দুটোই রেখার উপর
পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব দিকে (দাক্ষিণাত্য মালভূমির অভ্যন্তরে) বৃষ্টি কম হয় কেন?
আরব সাগরের আর্দ্র বায়ু পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢালে (প্রতিবাত ঢাল) বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়। পূর্ব ঢালে পৌঁছনোর সময় বায়ু শুষ্ক হয়ে যায়, তাই সেখানে বৃষ্টি কম। একে বৃষ্টিছায়া অঞ্চল বলে। অন্য তিনটি উত্তর কারণ নয়।
- প্রতিবাত ঢালে বেশি বৃষ্টি, বিমুখ ঢালে কম
- দাক্ষিণাত্যের অভ্যন্তর বৃষ্টিছায়া অঞ্চল
- পশ্চিম উপকূলে মুম্বাই-কোঙ্কণ-মালাবারে প্রচুর বৃষ্টি
- পাহাড়ের আড়াল = বৃষ্টির ছায়া
অক্টোবর–নভেম্বরে তামিলনাড়ুর কোরোমণ্ডল উপকূলে বেশি বৃষ্টি হয় কীভাবে?
অক্টোবর–নভেম্বরে মৌসুমি বায়ু স্থলভাগ ছেড়ে ফিরে যায়। ফেরার পথে বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতা নিয়ে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র উপকূলে বৃষ্টি ঝরায়, একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বৃষ্টিও বলা হয়। জুন–সেপ্টেম্বরে এই উপকূল বৃষ্টিছায়ায় থাকে।
- প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু: অক্টোবর–নভেম্বর
- তামিলনাড়ু উপকূলে বছরের বেশির ভাগ বৃষ্টি এই সময়ে
- জুন–সেপ্টেম্বরে এই উপকূল তুলনায় কম বৃষ্টি পায়, কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম বায়ু পশ্চিমঘাট পেরিয়ে শুষ্ক হয়ে আসে
- ফেরার পথে বঙ্গোপসাগর থেকে জল তোলে
শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে সামান্য বৃষ্টি আনে যে বায়ু, তার উৎস কোথায়?
পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে সৃষ্টি হয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে এসে শীতে পঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম হিমালয়ে বৃষ্টি-তুষারপাত ঘটায়। এই বৃষ্টি রবি ফসল, বিশেষত গমের পক্ষে উপকারী। অন্য তিনটি সাগর থেকে শীতে এমন বৃষ্টি আসে না।
- পশ্চিমি ঝঞ্ঝা শীতকালীন
- রবি ফসলের জন্য উপকারী (গম)
- পশ্চিম থেকে আসে, তাই পশ্চিমি
কালবৈশাখী কোন সময়ের বৈশিষ্ট্য?
কালবৈশাখী পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতে প্রাক্-বর্ষা গ্রীষ্মে (মার্চ–মে) হঠাৎ ওঠা বজ্রঝড়, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি। গরমে স্থলভাগ খুব তপ্ত হলে ভিজে হাওয়া ঢুকে এমন ঝড় হয়। শীত, বর্ষা বা শরতের বৈশিষ্ট্য এটি নয়।
- ইংরেজিতে Norwester
- বৈশাখ মাসে বেশি দেখা যায়
- কেরল-কর্ণাটকে অনুরূপ: আমের বৃষ্টি
- কাল (কালো মেঘ) + বৈশাখ = গ্রীষ্মের শুরুর ঝড়
'লু' কী?
লু হল গ্রীষ্মকালে, বিশেষত মে–জুনের শুরুতে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমভূমিতে বিকেলে বওয়া অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু। এর ফলে দিনে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। বাকি তিনটি বায়ুর ধরন এর বিপরীত।
- গ্রীষ্মের স্থানীয় বায়ু
- উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবল
- গরম ও শুষ্ক
- লু লাগা = গরমে অসুস্থ হওয়া
ভারতে জুন–সেপ্টেম্বর মাসগুলো কোন ঋতুর অন্তর্গত (IMD-র ভাগ অনুযায়ী)?
আবহাওয়া দপ্তর (IMD) বছরকে চারভাগে ভাগ করে: শীত (ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি), প্রাক্-বর্ষা (মার্চ–মে), দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (জুন–সেপ্টেম্বর) এবং প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু (অক্টোবর–নভেম্বর)। দেশের মোট বৃষ্টির সিংহভাগ জুন–সেপ্টেম্বরেই হয়।
- চার ঋতু: শীত, প্রাক্-বর্ষা, বর্ষা, প্রত্যাবর্তন
- বর্ষার চার মাস: জুন–সেপ্টেম্বর
- জুন-জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর = 4 মাসের বর্ষা
| ঋতু | সময় | মূল বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| শীত | ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি | শুষ্ক ও শীতল; উত্তর-পশ্চিমে পশ্চিমি ঝঞ্ঝায় সামান্য বৃষ্টি |
| প্রাক্-বর্ষা (গ্রীষ্ম) | মার্চ–মে | প্রচণ্ড গরম; উত্তরে লু, বাংলায় কালবৈশাখী |
| দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) | জুন–সেপ্টেম্বর | দেশের বেশির ভাগ বৃষ্টি; কেরলে আগমন প্রায় 1 জুন |
| মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন | অক্টোবর–নভেম্বর | আকাশ পরিষ্কার হতে থাকে; তামিলনাড়ু উপকূলে বৃষ্টি |
ভারতের চার ঋতু (IMD-র ভাগ)
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
ভারতের জলবায়ু ও মৌসুমি বায়ু থেকে 10টি প্রশ্ন, ক্লার্কশিপ 2024-এর জিএসের ধাঁচে। প্রতি প্রশ্নে 30 সেকেন্ড।

Leave a Comment
Commenting as ·