ভারতের জলবায়ু WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 পার্ট-1-এর সাধারণ জ্ঞান (জিএস) অংশের অন্যতম নিয়মিত বিষয়। অফিসিয়াল সিলেবাসে ‘ভারতের ভূগোল’ আছে, আর মাধ্যমিক স্তরের প্রশ্ন সাধারণত মৌসুমি বায়ু, বৃষ্টিপাত, ঋতু ও আঞ্চলিক ঝড়-বাতাস থেকেই আসে। এই নোটে সেই তথ্যগুলো এক জায়গায় রইল।
Table of Contents
ভারতের জলবায়ু কেমন
ভারতের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। ‘মৌসুমি’ এসেছে আরবি ‘মৌসিম’ (অর্থ ঋতু) থেকে: ঋতু বদলের সঙ্গে বায়ুর দিক উল্টে যায়। গ্রীষ্মে স্থলভাগ তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ তৈরি হয়, তাই সমুদ্র থেকে ভিজে বায়ু স্থলে ঢোকে (বর্ষা)। শীতে উল্টোটা ঘটে: শুষ্ক বায়ু স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে যায়।
জলবায়ুকে প্রভাবিত করে কয়েকটি বিষয়: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, ভূপ্রকৃতি ও মৌসুমি বায়ু। হিমালয় মধ্য এশিয়ার ঠান্ডা বায়ুকে উত্তর ভারতে ঢুকতে বাধা দেয় এবং মৌসুমি বায়ুকে আটকে বৃষ্টি ঘটায়। কর্কটক্রান্তি রেখা (23.5° উত্তর) দেশের প্রায় মাঝ দিয়ে গেছে, গেছে আটটি রাজ্যের উপর দিয়ে: গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
চার ঋতু
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) বছরকে চার ঋতুতে ভাগ করে:
| ঋতু | সময় | মূল বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| শীত | ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি | শুষ্ক ও শীতল; উত্তর-পশ্চিমে পশ্চিমি ঝঞ্ঝায় সামান্য বৃষ্টি |
| প্রাক্-বর্ষা (গ্রীষ্ম) | মার্চ–মে | প্রচণ্ড গরম; উত্তরে লু, বাংলায় কালবৈশাখী |
| দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) | জুন–সেপ্টেম্বর | দেশের বেশির ভাগ বৃষ্টি; কেরলে আগমন প্রায় 1 জুন |
| মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন | অক্টোবর–নভেম্বর | আকাশ পরিষ্কার হতে থাকে; তামিলনাড়ু উপকূলে বৃষ্টি |
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
- বায়ু ভারত মহাসাগর থেকে এসে কেরল উপকূলে প্রথম পৌঁছয়: স্বাভাবিক তারিখ প্রায় 1 জুন।
- দুটি শাখায় ভাগ হয়: আরব সাগর শাখা (পশ্চিম উপকূল, পশ্চিমঘাট) এবং বঙ্গোপসাগর শাখা (পূর্ব ভারত, উত্তর-পূর্ব ভারত, গাঙ্গেয় সমভূমি)।
- আরব সাগর শাখার প্রবল বৃষ্টি পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢালে (প্রতিবাত ঢাল); পূর্ব ঢাল ও দাক্ষিণাত্যের অভ্যন্তর বৃষ্টিছায়া অঞ্চল, সেখানে বৃষ্টি কম।
- বঙ্গোপসাগর শাখা মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টি দেয়: মাওসিনরামে ভারতের সর্বোচ্চ গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত।
- থর মরুভূমি অঞ্চলে বৃষ্টি খুব কম: আরাবল্লি পর্বতশ্রেণী আরব সাগর শাখার সঙ্গে সমান্তরালে থাকায় বায়ুকে আটকাতে পারে না।
প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু
অক্টোবর–নভেম্বরে মৌসুমি বায়ু ফিরে যায়। ফেরার পথে বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতা নিয়ে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র উপকূলে বৃষ্টি দেয়। একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বৃষ্টিও বলা হয়: তামিলনাড়ুর বছরের বেশির ভাগ বৃষ্টি এই সময়েই।
স্থানীয় ঝড় ও বায়ু
- লু: গ্রীষ্মে (মে–জুনের শুরুতে) উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমভূমিতে বিকেলে বওয়া অত্যন্ত গরম, শুষ্ক বায়ু।
- কালবৈশাখী (Norwester): মার্চ–মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতে হঠাৎ ওঠা বজ্রঝড়।
- আমের বৃষ্টি (Mango showers): প্রাক্-বর্ষায় কেরল ও কর্ণাটকে বৃষ্টি, আমের পক্ষে ভালো।
- পশ্চিমি ঝঞ্ঝা (Western disturbances): শীতে ভূমধ্যসাগর অঞ্চল থেকে আসে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে সামান্য বৃষ্টি-তুষারপাত ঘটায়, গমের মতো রবি ফসলের জন্য উপকারী।
মনে রাখার কৌশল
- মৌসিম = ঋতু: নামেই বলা আছে বায়ু ঋতু মেনে দিক বদলায়।
- বর্ষার প্রবেশদ্বার = কেরল, প্রায় 1 জুন।
- মেঘের আলয় = মেঘালয়: সেখানেই মাওসিনরাম।
- পাহাড়ের আড়াল = বৃষ্টির ছায়া: পশ্চিমঘাটের পূর্ব দিক।
- ফেরার পথে তামিলনাড়ু: অক্টোবর–নভেম্বরে বৃষ্টি।
- পশ্চিম থেকে আসে বলে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা: শীতে, গমের বন্ধু।
পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী
জিএসের 40 নম্বরে ভূগোল থেকে কয়েকটি প্রশ্ন আসতে পারে, আর ভুল উত্তরে প্রতিটিতে 0.25 নম্বর কাটা যায়, তাই অনুমান না করে তথ্য মুখস্থ রাখুন। আজই এই নোট একবার পড়ে নিচের কুইজে বসুন। সময়সূচি সাজাতে দেখুন 8 সপ্তাহের প্রস্তুতির পরিকল্পনা; আবেদনের তথ্যের জন্য আবেদনের গাইড; আগের প্রশ্নের ধরন দেখতে 2023-এর প্রশ্নপত্র।
সূত্র
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ভারতে বর্ষা কবে শুরু হয়?
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সাধারণত প্রায় 1 জুন কেরল উপকূলে পৌঁছয়, তারপর দেশের অন্যত্র ছড়ায়। বর্ষাকাল জুন থেকে সেপ্টেম্বর।
ভারতের কোথায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়?
মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের মাওসিনরামে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ভারতে সর্বাধিক।
বৃষ্টিছায়া অঞ্চল কাকে বলে?
পাহাড়ের যে ঢালে ভিজে বায়ু পৌঁছয় না (বিমুখ ঢাল), সেখানে বৃষ্টি কম হয়। পশ্চিমঘাটের পূর্ব দিকের দাক্ষিণাত্য অঞ্চল এর উদাহরণ।
কালবৈশাখী কখন হয়?
প্রাক্-বর্ষা গ্রীষ্মে, মার্চ থেকে মে মাসে, পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতে।

Leave a Comment
Commenting as ·