WBPSC ক্লার্কশিপ 2024-এর পার্ট-1 পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানে 40 নম্বর, তার মধ্যে প্রাথমিক ভারতের ইতিহাস সিলেবাসে আছে। মৌর্য সাম্রাজ্য সেই অংশের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত অধ্যায়গুলির একটি। এই নোটে শুধু সেই তথ্যই আছে যা মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় আসে। সাল সবই আনুমানিক, ঐতিহাসিকেরা কয়েক বছরের হেরফের ধরেন।
Table of Contents
তিন শাসক এক নজরে
| শাসক | আনুমানিক শাসনকাল (খ্রিষ্টপূর্ব) | যা মনে রাখবেন |
|---|---|---|
| চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য | 321 – 297 | চাণক্যের সহায়তায় ধননন্দকে সরান; সেলুকাসকে হারান; মেগাস্থিনিস দূত হিসেবে আসেন |
| বিন্দুসার | 297 – 273 | উপাধি ‘অমিত্রঘাত’ (শত্রুনাশক); আজীবিক সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষক বলে পরিচিত |
| অশোক | 268 – 232 | কলিঙ্গ যুদ্ধ, বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ, ধম্মের নীতি, শিলালিপি |

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
- রাজধানী পাটলিপুত্র (আজকের পাটনা)। চাণক্য বা কৌটিল্য ছিলেন তাঁর পরামর্শদাতা।
- প্রায় 305 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সেলুকাস নিকাতরের সঙ্গে চুক্তি: সেলুকাস পূর্ব আফগানিস্তান ও বালুচিস্তানের কিছু অঞ্চল ছাড়েন, চন্দ্রগুপ্ত 500টি হাতি দেন।
- মেগাস্থিনিস সেলুকাসের দূত হিসেবে এসে ‘ইন্ডিকা’ লেখেন। মূল বইটি হারিয়ে গেছে।
- জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনের শেষে তিনি জৈনধর্ম নিয়ে কর্ণাটকের শ্রবণবেলগোলায় যান।
অশোক ও ধম্ম
প্রায় 261 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অশোক কলিঙ্গ জয় করেন। এই যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি হয়, যার জন্য তিনি ত্রয়োদশ বৃহৎ শিলালিপিতে অনুতাপ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি অস্ত্রের বদলে ধম্মের মাধ্যমে বিজয়ের নীতি নেন এবং বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। ধম্মের মূল কথা: বড়দের সম্মান, প্রাণীর প্রতি দয়া, সব সম্প্রদায়ের প্রতি সহনশীলতা।
- ধম্ম প্রচারের জন্য ‘ধম্ম মহামাত্র’ নামে বিশেষ কর্মচারী নিয়োগ করেন।
- পাটলিপুত্রে তৃতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতি হয়, সভাপতি ছিলেন মোগ্গলিপুত্ত তিস্স।
- পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সঙ্ঘমিত্রাকে শ্রীলঙ্কায় পাঠান।
- লিপিতে নিজেকে ‘দেবানাম্পিয় পিয়দসি’ (দেবতাদের প্রিয়, প্রিয়দর্শী) বলেছেন। মাস্কির লিপিতে ‘অশোক’ নামটি আছে।
অশোকের লিপি
| লিপি | কোথায় | লেখার দিক |
|---|---|---|
| ব্রাহ্মী | ভারতের বেশির ভাগ লিপি (গিরনার, ধৌলি, কালসি, মাস্কি) | বাঁ থেকে ডানে |
| খরোষ্ঠী | উত্তর-পশ্চিমে শাহবাজগড়ি, মানসেহরা | ডান থেকে বাঁয়ে |
| গ্রিক ও আরামীয় | কান্দাহার (আফগানিস্তান) | — |
বৃহৎ শিলালিপি 14টি, স্তম্ভলিপি 7টি। 1837 সালে জেমস প্রিন্সেপ ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন, তারপরই অশোকের লিপি পড়া সম্ভব হয়।
শাসনব্যবস্থা
- কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র মৌর্য প্রশাসন বোঝার প্রধান উৎস। এতে রাষ্ট্রের সাত অঙ্গ: স্বামী, অমাত্য, জনপদ, দুর্গ, কোষ, দণ্ড, মিত্র।
- সাম্রাজ্য কয়েকটি প্রদেশে ভাগ ছিল। অশোকের সময় প্রধান কেন্দ্র: উত্তরাপথে তক্ষশীলা, অবন্তিরাষ্ট্রে উজ্জয়িনী, কলিঙ্গে তোসালি, দক্ষিণাপথে সুবর্ণগিরি, আর কেন্দ্রে পাটলিপুত্র।
- গুপ্তচর ব্যবস্থা ছিল শক্তিশালী। বড় স্থায়ী সেনাবাহিনী রাখা হত।
- জুনাগড় লিপি (রুদ্রদামন) থেকে জানা যায়, চন্দ্রগুপ্তের প্রাদেশিক শাসক পুষ্যগুপ্ত সুদর্শন হ্রদ তৈরি করান।
মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন
অশোকের পরের শাসকেরা দুর্বল ছিলেন। প্রায় 185 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে শেষ শাসক বৃহদ্রথকে তাঁর সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ হত্যা করেন এবং শুঙ্গ বংশ শুরু হয়।
মনে রাখার কৌশল
- ক্রম: নন্দ → মৌর্য → শুঙ্গ। মৌর্যদের তিন বড় নাম: চন্দ্রগুপ্ত, বিন্দুসার, অশোক (চ-বি-অ)।
- 13 নম্বর শিলালিপি = কলিঙ্গ যুদ্ধ।
- কৌটিল্য = অর্থশাস্ত্র; মেগাস্থিনিস = ইন্ডিকা।
- প্রিন্সেপ = ব্রাহ্মী; মহেন্দ্র–সঙ্ঘমিত্রা = শ্রীলঙ্কা।
- জাতীয় পতাকার চক্রে 24টি শলাকা; এর উৎস সারনাথের সিংহস্তম্ভ।
পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী
WBPSC ক্লার্কশিপের সাধারণ জ্ঞানে ইতিহাস থেকে সাধারণত সরাসরি তথ্যের প্রশ্ন আসে: কে, কবে, কোথায়। তাই নাম–সাল–বই–লিপির জোড়াগুলি আগে মুখস্থ করুন, তারপর নিচের কুইজে নিজেকে যাচাই করুন। প্রতি ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়, অনুমানের আগে দুটি অপশন বাদ দিন। আগের পরীক্ষার প্রশ্ন দেখতে পারেন 2023-এর প্রশ্নপত্র পাতায়, গোছানো প্রস্তুতির জন্য 8 সপ্তাহের পরিকল্পনা, আর আবেদনের নিয়ম আবেদন গাইডে। আরও অনুশীলনের জন্য মৌর্য যুগের ইতিহাস অনুশীলন।
সূত্র
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, প্রায় 321 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে, চাণক্যের (কৌটিল্যের) সহায়তায় নন্দ বংশকে সরিয়ে।
অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধ কবে হয়েছিল?
প্রায় 261 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। এর বর্ণনা ত্রয়োদশ বৃহৎ শিলালিপিতে আছে।
মৌর্য সাম্রাজ্য জানার প্রধান উৎস কী?
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকা (পরবর্তী লেখকদের উদ্ধৃতিতে), অশোকের শিলালিপি ও স্তম্ভলিপি এবং জুনাগড় লিপি।

Leave a Comment
Commenting as ·