মৌর্য সাম্রাজ্য কুইজ: ক্লার্কশিপ 2024
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
মৌর্য সাম্রাজ্যের নোট থেকে 10টি প্রশ্ন। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য কোন বংশের শেষ শাসক ধননন্দকে সরিয়ে সিংহাসনে বসেন?
চন্দ্রগুপ্ত চাণক্যের (কৌটিল্যের) সহায়তায় মগধের নন্দ বংশের শেষ শাসক ধননন্দকে সরিয়ে মৌর্য বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুনাগ ও হর্যঙ্ক বংশ নন্দদের আগে মগধ শাসন করেছে। শুঙ্গ বংশ এসেছে মৌর্যদের পরে।
- মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা প্রায় 321 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
- রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র
- চাণক্যের আরেক নাম কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত
- শুঙ্গ বংশ মৌর্যদের আগে নয়, পরে এসেছে
- ক্রম: হর্যঙ্ক → শিশুনাগ → নন্দ → মৌর্য → শুঙ্গ
| শাসক | আনুমানিক শাসনকাল (খ্রিষ্টপূর্ব) |
|---|---|
| চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য | 321 – 297 |
| বিন্দুসার | 297 – 273 |
| অশোক | 268 – 232 |
মেগাস্থিনিসের লেখা কোন গ্রন্থে মৌর্য যুগের সমাজ ও শাসনের বিবরণ পাওয়া যায়?
মেগাস্থিনিস ছিলেন সেলুকাসের দূত, চন্দ্রগুপ্তের দরবারে থাকাকালে তিনি 'ইন্ডিকা' লেখেন। মূল বইটি হারিয়ে গেছে, পরবর্তী লেখকদের উদ্ধৃতিতে এর অংশ টিকে আছে। অর্থশাস্ত্র কৌটিল্যের, মুদ্রারাক্ষস বিশাখদত্তের, আর রাজতরঙ্গিণী কলহনের লেখা।
- মেগাস্থিনিস ছিলেন গ্রিক দূত
- ইন্ডিকার মূল পুথি পাওয়া যায় না
- পাটলিপুত্রের নগরশাসনের বিবরণ এখানে আছে
- অর্থশাস্ত্রের লেখক কৌটিল্য, মেগাস্থিনিস নন
- ইন্ডিকা = ইন্ডিয়া নিয়ে লেখা, লেখক মেগাস্থিনিস
অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধের বর্ণনা কোন শিলালিপিতে আছে?
ত্রয়োদশ বৃহৎ শিলালিপিতে অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের হত্যা ও বন্দিদশার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। এই যুদ্ধ প্রায় 261 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে হয়। যুদ্ধের পর তিনি ধর্মবিজয়ের নীতি নেন। অন্য লিপিগুলিতে ধর্মের নীতি ও প্রশাসনের কথা আছে, এই যুদ্ধের বিবরণ নেই।
- কলিঙ্গ যুদ্ধ প্রায় 261 খ্রিষ্টপূর্ব
- বৃহৎ শিলালিপি মোট 14টি
- স্তম্ভলিপি 7টি
- স্তম্ভলিপিতে কলিঙ্গ যুদ্ধের মূল বর্ণনা নেই
- 13 নম্বর = কলিঙ্গ, '13' মনে রাখলেই হল
| লিপি | মূল বিষয় |
|---|---|
| ত্রয়োদশ বৃহৎ শিলালিপি | কলিঙ্গ যুদ্ধ ও অনুতাপ, ধর্মবিজয় |
| বৃহৎ শিলালিপি (মোট) | 14টি |
| স্তম্ভলিপি (মোট) | 7টি |
সেলুকাসের সঙ্গে চুক্তিতে চন্দ্রগুপ্ত তাঁকে কতগুলি হাতি উপহার দেন বলে প্রচলিত বিবরণে আছে?
প্রায় 305 খ্রিষ্টপূর্বাব্দের চুক্তিতে সেলুকাস পূর্ব আফগানিস্তান ও বালুচিস্তানের কিছু অঞ্চল ছেড়ে দেন। বিনিময়ে চন্দ্রগুপ্ত 500টি হাতি দেন। এই হাতি পরে সেলুকাসের কাজে লেগেছিল ইপসাসের যুদ্ধে।
- চুক্তি প্রায় 305 খ্রিষ্টপূর্ব
- এরপর মেগাস্থিনিস দূত হিসেবে আসেন
- আরাকোসিয়া, গেড্রোসিয়া, পারোপামিসাদাই অঞ্চল মৌর্যদের হাতে আসে
- সেলুকাস নিজে হাতি দেননি, চন্দ্রগুপ্ত দিয়েছিলেন
- 500 হাতি = 5 শতক = পাঁচশো
| পক্ষ | চুক্তিতে কী পেল |
|---|---|
| চন্দ্রগুপ্ত | পূর্ব আফগানিস্তান ও বালুচিস্তানের কিছু অঞ্চল |
| সেলুকাস | 500টি যুদ্ধের হাতি |
অশোকের ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন কে?
1837 সালে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গলের সদস্য জেমস প্রিন্সেপ ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন। তাতেই অশোকের লিপির পাঠ সম্ভব হয়। কানিংহাম প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণের প্রথম প্রধান, মার্শাল সিন্ধু সভ্যতার খননে যুক্ত ছিলেন, আর উইলিয়াম জোন্স এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
- পাঠোদ্ধার 1837 সালে
- লিপিতে অশোককে 'দেবানাম্পিয় পিয়দসি' বলা হয়েছে
- মাস্কি লিপিতে 'অশোক' নামটি স্পষ্ট আছে
- উইলিয়াম জোন্স সোসাইটি গড়েন, ব্রাহ্মী পড়েননি
- প্রিন্সেপ = ব্রাহ্মী
'অর্থশাস্ত্র' মূলত কোন বিষয়ে লেখা গ্রন্থ?
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র রাষ্ট্রনীতি, শাসন, কর, গুপ্তচর, বিচার ও যুদ্ধনীতির গ্রন্থ। এতে রাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গের কথা আছে। ধর্ম-দর্শন, ব্যাকরণ বা জ্যোতির্বিদ্যা এর মূল বিষয় নয়।
- লেখক কৌটিল্য (চাণক্য)
- রাষ্ট্রের সাত অঙ্গ: স্বামী, অমাত্য, জনপদ, দুর্গ, কোষ, দণ্ড, মিত্র
- মৌর্য প্রশাসন বোঝার প্রধান উৎস
- 'অর্থ' এখানে শুধু টাকা নয়, রাষ্ট্রের সম্পদ ও শাসন
- অর্থশাস্ত্র = রাষ্ট্র ও অর্থের শাস্ত্র
| রাষ্ট্রের অঙ্গ | অর্থ |
|---|---|
| স্বামী | রাজা |
| অমাত্য | মন্ত্রী ও কর্মচারী |
| জনপদ | ভূখণ্ড ও প্রজা |
| দুর্গ | সুরক্ষিত নগর |
| কোষ | রাজকোষ |
| দণ্ড | সেনা ও শাস্তি |
| মিত্র | বন্ধু রাষ্ট্র |
অশোক বৌদ্ধধর্ম প্রচারে তাঁর কোন দুই সন্তানকে শ্রীলঙ্কায় পাঠান?
শ্রীলঙ্কার বিবরণ অনুযায়ী অশোক পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সঙ্ঘমিত্রাকে ধর্মপ্রচারে পাঠান। সঙ্ঘমিত্রা বোধিবৃক্ষের শাখাও নিয়ে যান বলে ঐতিহ্য আছে। রাহুল ও যশোধরা বুদ্ধের পুত্র ও স্ত্রী, বিন্দুসার অশোকের পিতা, সুসীম তাঁর ভাই।
- পাটলিপুত্রে তৃতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতি হয়, সভাপতি মোগ্গলিপুত্ত তিস্স
- অশোক ধর্ম মহামাত্র নিয়োগ করেন
- ধর্মের নীতি: সহনশীলতা, অহিংসা, বড়দের সম্মান
- রাহুল বুদ্ধের পুত্র, অশোকের নয়
- মহেন্দ্র–সঙ্ঘমিত্রা = ভাই-বোন, যাত্রা লঙ্কার পথে
অশোকের শিলালিপি উত্তর-পশ্চিম ভারতে (শাহবাজগড়ি, মানসেহরা) কোন লিপিতে লেখা?
উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের শাহবাজগড়ি ও মানসেহরার লিপি খরোষ্ঠীতে, যা ডান থেকে বাঁ দিকে লেখা হত। ভারতের বেশির ভাগ অশোকলিপি ব্রাহ্মীতে, যা বাঁ থেকে ডানে। দেবনাগরী অশোকের যুগে ছিল না। আফগানিস্তানের লিপি গ্রিক ও আরামীয় ভাষায়।
- ব্রাহ্মী: বাঁ থেকে ডানে
- খরোষ্ঠী: ডান থেকে বাঁয়ে
- কান্দাহারে গ্রিক ও আরামীয় লিপি
- দেবনাগরী অনেক পরের লিপি
- খরোষ্ঠী = উত্তর-পশ্চিমের লিপি, লেখা ডান দিক থেকে
| লিপি | কোথায় | লেখার দিক |
|---|---|---|
| ব্রাহ্মী | ভারতের বেশির ভাগ লিপি | বাঁ থেকে ডানে |
| খরোষ্ঠী | শাহবাজগড়ি, মানসেহরা | ডান থেকে বাঁয়ে |
| গ্রিক ও আরামীয় | কান্দাহার (আফগানিস্তান) | — |
শেষ মৌর্য শাসক বৃহদ্রথকে হত্যা করে কে শুঙ্গ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন?
প্রায় 185 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ সেনা পরিদর্শনের সময় বৃহদ্রথকে হত্যা করেন এবং শুঙ্গ বংশ শুরু করেন। অগ্নিমিত্র ছিলেন পুষ্যমিত্রের পুত্র। খারবেল কলিঙ্গের রাজা, সাতকর্ণী সাতবাহন বংশের।
- বৃহদ্রথ ছিলেন সেনাপতির হাতে নিহত
- শুঙ্গরা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষক বলে পরিচিত
- অগ্নিমিত্র কালিদাসের নাটকের নায়ক
- অগ্নিমিত্র প্রতিষ্ঠাতা নন, পুষ্যমিত্রের পুত্র
- বৃহদ্রথ → পুষ্যমিত্র: মৌর্য শেষ, শুঙ্গ শুরু
ভারতের জাতীয় পতাকার অশোক চক্রে কয়টি শলাকা (অর) আছে?
জাতীয় পতাকার মাঝের অশোক চক্রে 24টি শলাকা আছে। এটি সারনাথের অশোক সিংহস্তম্ভ থেকে নেওয়া। ওই স্তম্ভের চার সিংহের রূপই জাতীয় প্রতীক। অন্য সংখ্যাগুলি ঠিক নয়।
- সারনাথের সিংহস্তম্ভ জাতীয় প্রতীকের ভিত্তি
- চক্রটি নেভি ব্লু রঙের
- স্তম্ভ তৈরি মসৃণ বালিপাথরে (পালিশ করা)
- 12 বা 22 নয়, ঠিক 24টি
- দিনের 24 ঘণ্টা = চক্রের 24 শলাকা
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
মৌর্য সাম্রাজ্যের নোট থেকে 10টি প্রশ্ন।

Leave a Comment
Commenting as ·