গুপ্ত যুগ কুইজ: WBPSC ক্লার্কশিপ GK
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
গুপ্ত সম্রাট, তাঁদের কীর্তি, সাহিত্য-বিজ্ঞান ও মুদ্রা নিয়ে 10টি প্রশ্ন। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
গুপ্তাব্দ কোন সময় থেকে গণনা শুরু হয়?
গুপ্তাব্দ শুরু হয় প্রথম চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসন-আরোহণের বছর 319-320 খ্রিস্টাব্দ থেকে। 78 খ্রিস্টাব্দ হল শকাব্দের সূচনা, 58 খ্রিস্টপূর্ব বিক্রম সংবৎ, আর 606 খ্রিস্টাব্দ হর্ষবর্ধনের সিংহাসন-আরোহণের বছর।
- গুপ্তাব্দ = 319-320 খ্রিস্টাব্দ
- শকাব্দ = 78 খ্রিস্টাব্দ
- বিক্রম সংবৎ = 58 খ্রিস্টপূর্ব
- শকাব্দ ও গুপ্তাব্দ গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল
- গুপ্ত = 319, শক = 78, বিক্রম = 58 (পূর্ব)
| অব্দ | শুরু |
|---|---|
| বিক্রম সংবৎ | 58 খ্রিস্টপূর্ব |
| শকাব্দ | 78 খ্রিস্টাব্দ |
| গুপ্তাব্দ | 319-320 খ্রিস্টাব্দ |
প্রয়াগ প্রশস্তি (এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি) কে রচনা করেন?
প্রয়াগ প্রশস্তি রচনা করেন সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণ। কালিদাস নাট্যকার ও কবি, বাণভট্ট হর্ষবর্ধনের সভাকবি (হর্ষচরিত), আর রবিকীর্তি চালুক্য দ্বিতীয় পুলকেশীর ঐহোল প্রশস্তির রচয়িতা।
- প্রশস্তি সমুদ্রগুপ্তের বিজয়ের প্রধান সূত্র
- এটি এলাহাবাদে অশোকের স্তম্ভের গায়ে খোদিত
- ভাষা সংস্কৃত
- ঐহোল প্রশস্তি (রবিকীর্তি) ও প্রয়াগ প্রশস্তি (হরিষেণ) আলাদা
- সমুদ্র - প্রশস্তি - হরিষেণ
ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ কোন গুপ্ত সম্রাটকে 'ভারতের নেপোলিয়ন' বলেছেন?
ভিনসেন্ট স্মিথ সমুদ্রগুপ্তের একের পর এক সামরিক জয়ের জন্য তাঁকে 'ভারতের নেপোলিয়ন' বলেন। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত সাম্রাজ্যের ভিত গড়েন কিন্তু দিগ্বিজয়ী হিসেবে পরিচিত নন। কুমারগুপ্ত ও স্কন্দগুপ্ত মূলত সাম্রাজ্য রক্ষা করেছেন।
- উত্তর ভারতে দখল ও সংযুক্তি, দক্ষিণে বশ্যতা আদায়
- অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন
- বীণাবাদক মুদ্রা চালু করেন
- নেপোলিয়ন = সমুদ্র (দুজনেই বিজয়ী)
দিল্লির মেহেরৌলির লৌহস্তম্ভ সাধারণত কোন গুপ্ত সম্রাটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়?
স্তম্ভে 'চন্দ্র' নামের এক রাজার প্রশস্তি খোদিত আছে, যাঁকে সাধারণভাবে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বলে চিহ্নিত করা হয়। প্রশ্নে 'সাধারণত' কথাটি আছে কারণ এই শনাক্তকরণ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে ক্ষীণ মতভেদ আছে। তবে পাঠ্যবইয়ে এটিই গৃহীত উত্তর।
- স্তম্ভের লোহায় বহু শতাব্দীতেও মরচে ধরেনি
- এটি ধাতুবিদ্যায় গুপ্ত যুগের দক্ষতার নিদর্শন
- লৌহ + চন্দ্র = মেহেরৌলি

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে ভারতে আসা চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক কে?
ফা-হিয়েন প্রায় 399-414 খ্রিস্টাব্দে ভারতে এসে বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ করেন এবং গুপ্ত শাসনের শান্তির বর্ণনা দেন। হিউয়েন সাং এসেছিলেন সপ্তম শতকে হর্ষবর্ধনের আমলে, ই-ৎসিং সপ্তম শতকের শেষে। মেগাস্থিনিস চীনা নন, তিনি গ্রিক রাষ্ট্রদূত, এসেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে।
- ফা-হিয়েন = চীনা, গুপ্ত যুগ
- হিউয়েন সাং = চীনা, হর্ষের যুগ
- মেগাস্থিনিস = গ্রিক, মৌর্য যুগ
- দুই চন্দ্রগুপ্ত (গুপ্ত ও মৌর্য) আর তাঁদের আমলের দুই পর্যটক গুলিয়ে যায়
- ফা-হিয়েন = ফার্স্ট চীনা (সবার আগে)
| পর্যটক | দেশ | আমলে |
|---|---|---|
| মেগাস্থিনিস | গ্রিস | চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য |
| ফা-হিয়েন | চীন | দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (গুপ্ত) |
| হিউয়েন সাং | চীন | হর্ষবর্ধন |
নালন্দা মহাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কোন সম্রাটকে ধরা হয়?
প্রথম কুমারগুপ্তকে নালন্দা মহাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। পরবর্তী গুপ্ত ও অন্য শাসকেরা একে সমৃদ্ধ করেন। অশোক ও হর্ষ বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক হলেও নালন্দার প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব তাঁদের নয়, আর স্কন্দগুপ্তের কীর্তি হূন-প্রতিরোধ।
- নালন্দা বিহারে (বর্তমান বিহার রাজ্য) অবস্থিত
- বিদেশি ছাত্ররাও এখানে পড়তে আসতেন
- হিউয়েন সাং এখানে পড়েছিলেন
- কুমার + নালন্দা

মধ্য এশিয়া থেকে আসা হূনদের আক্রমণ কোন গুপ্ত সম্রাট ঠেকিয়েছিলেন?
স্কন্দগুপ্ত হূন আক্রমণ প্রতিহত করেন, তবে এই দীর্ঘ যুদ্ধে সাম্রাজ্যের কোষাগার দুর্বল হয়। সমুদ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে হূনরা ভারতে প্রবেশ করেনি। কুমারগুপ্তের আমলের শেষ দিকে চাপ শুরু হলেও রক্ষার কৃতিত্ব স্কন্দগুপ্তের।
- জুনাগড় শিলালিপিতে সুদর্শন হ্রদ সংস্কারের কথা আছে
- পরে হূন নেতা তোরমান ও মিহিরকুল ভারত আক্রমণ করেন
- সাম্রাজ্য এরপর দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে
- স্কন্দ - হূন

আর্যভট রচিত গ্রন্থের নাম কী?
আর্যভট 499 খ্রিস্টাব্দে আর্যভটীয় রচনা করেন, যেখানে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের তত্ত্ব আছে। বৃহৎসংহিতা লিখেছেন বরাহমিহির, আর ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত সপ্তম শতকের গণিতবিদ ব্রহ্মগুপ্তের রচনা। সূর্য সিদ্ধান্ত একজন নির্দিষ্ট লেখকের নামে পরিচিত নয়।
- আর্যভটীয় 499 খ্রিস্টাব্দের রচনা
- পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের কথা তিনিই বলেছিলেন
- গণিতে π-এর মানের একটি ভালো আসন্ন মান দিয়েছেন
- বরাহমিহির (বৃহৎসংহিতা) ও ব্রহ্মগুপ্ত (ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত) পাশাপাশি আসে
- আর্য + ভট = আর্যভটীয় (নাম মিলিয়ে নিন)
| বিজ্ঞানী | গ্রন্থ |
|---|---|
| আর্যভট | আর্যভটীয় |
| বরাহমিহির | বৃহৎসংহিতা, পঞ্চসিদ্ধান্তিকা |
| ব্রহ্মগুপ্ত | ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত |
গুপ্ত আমলের সোনার মুদ্রা কী নামে পরিচিত ছিল?
গুপ্ত সম্রাটদের সোনার মুদ্রার নাম দিনার। কার্ষাপণ মৌর্য ও তার আগের ছাপমারা রুপোর মুদ্রা, টঙ্ক দিল্লি সুলতানির মুদ্রা, আর পণ ছিল তামার ছাপমারা মুদ্রার একক।
- সমুদ্রগুপ্তের বীণাবাদক ও অশ্বমেধ মুদ্রা বিখ্যাত
- গুপ্তদের সোনার মুদ্রা বহু সংখ্যায় পাওয়া গেছে
- মৌর্য কার্ষাপণ ও গুপ্ত দিনার আলাদা যুগের
- গুপ্ত + দিনার = সোনা
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম্' নাটকের রচয়িতা কে?
অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ লিখেছেন কালিদাস। বিশাখদত্ত 'মুদ্রারাক্ষস', শূদ্রক 'মৃচ্ছকটিক' এবং অমরসিংহ সংস্কৃত অভিধান 'অমরকোষ' রচনা করেন। পরম্পরা অনুযায়ী কালিদাস দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সভায় ছিলেন।
- কালিদাসের অন্য রচনা: মেঘদূতম্, রঘুবংশম্
- মুদ্রারাক্ষসের বিষয় চাণক্য ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
- মৃচ্ছকটিক একটি সামাজিক নাটক
- মুদ্রারাক্ষস (বিশাখদত্ত) ও মৃচ্ছকটিক (শূদ্রক) নাটকের লেখক গুলিয়ে ফেলা সহজ
- শকুন্তলা = কালিদাস
| লেখক | রচনা |
|---|---|
| কালিদাস | অভিজ্ঞানশকুন্তলম্, মেঘদূতম্ |
| বিশাখদত্ত | মুদ্রারাক্ষস |
| শূদ্রক | মৃচ্ছকটিক |
| অমরসিংহ | অমরকোষ |
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
গুপ্ত সম্রাট, তাঁদের কীর্তি, সাহিত্য-বিজ্ঞান ও মুদ্রা নিয়ে 10টি প্রশ্ন।

Leave a Comment
Commenting as ·