WBPSC ক্লার্কশিপ 2024-এর Part-I-এর সাধারণ জ্ঞানে ভারতের ইতিহাস থেকে প্রশ্ন আসে, আর গুপ্ত যুগ তার অন্যতম প্রিয় অংশ। গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় চতুর্থ শতকের গোড়ায়, রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র। এই নোটে সম্রাটদের ক্রম, প্রধান কীর্তি, সাহিত্য-বিজ্ঞান ও মুদ্রার তথ্য পরীক্ষার ধাঁচে সাজানো হয়েছে, শেষে 10টি প্রশ্নের কুইজ।
Table of Contents
গুপ্ত বংশের শুরু
বংশের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীগুপ্ত, তাঁর পুত্র ঘটোৎকচ। তবে সাম্রাজ্যের আসল ভিত গড়েন প্রথম চন্দ্রগুপ্ত। তিনি লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীকে বিয়ে করেন, এতে বংশের মর্যাদা ও শক্তি দুই-ই বাড়ে। তাঁর সিংহাসন-আরোহণের বছর (319-320 খ্রিস্টাব্দ) থেকে গুপ্তাব্দ গণনা শুরু হয়।

সম্রাটদের ক্রম ও কীর্তি
| সম্রাট | আনুমানিক সময় (খ্রিস্টাব্দ) | যা মনে রাখতে হবে |
|---|---|---|
| প্রথম চন্দ্রগুপ্ত | 319-320 থেকে | লিচ্ছবি বিয়ে, গুপ্তাব্দের শুরু, ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি |
| সমুদ্রগুপ্ত | প্রায় 335-375 | প্রয়াগ প্রশস্তি (হরিষেণ), দিগ্বিজয়, অশ্বমেধ, বীণাবাদক মুদ্রা |
| দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য) | প্রায় 375-415 | শক-বিজয়, উজ্জয়িনী দ্বিতীয় রাজধানী, ফা-হিয়েনের ভারত-ভ্রমণ |
| প্রথম কুমারগুপ্ত | প্রায় 415-455 | নালন্দা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা |
| স্কন্দগুপ্ত | প্রায় 455-467 | হূন আক্রমণ রোধ, সুদর্শন হ্রদ সংস্কার |
সমুদ্রগুপ্ত: ‘ভারতের নেপোলিয়ন’
সমুদ্রগুপ্তের কীর্তি জানার প্রধান সূত্র এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি (প্রয়াগ প্রশস্তি), লিখেছেন তাঁর সভাকবি হরিষেণ। উত্তর ভারতের রাজাদের তিনি উৎখাত করে সাম্রাজ্যে মিশিয়ে নেন। দক্ষিণের রাজাদের হারিয়ে ছেড়ে দেন, অর্থাৎ তাঁদের কাছ থেকে বশ্যতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ তাঁর সামরিক সাফল্যের জন্য তাঁকে ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ বলেছেন। তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন এবং তাঁর কিছু মুদ্রায় বীণা-হাতে তাঁর ছবি আছে, যা সংগীতে তাঁর আগ্রহের প্রমাণ।
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ‘বিক্রমাদিত্য’
পশ্চিম ভারতের শক (পশ্চিমী ক্ষত্রপ) শাসকদের হারিয়ে তিনি গুজরাট-মালওয়া অঞ্চল সাম্রাজ্যে যুক্ত করেন, ফলে পশ্চিম সমুদ্রবন্দর গুপ্তদের হাতে আসে। চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক ফা-হিয়েন তাঁর আমলে ভারতে আসেন। দিল্লির মেহেরৌলির লৌহস্তম্ভ সাধারণত তাঁর সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যার লোহায় আজও মরচে ধরেনি। পরম্পরা অনুযায়ী মহাকবি কালিদাস তাঁর সভা অলংকৃত করতেন।
কুমারগুপ্ত ও স্কন্দগুপ্ত
প্রথম কুমারগুপ্ত নালন্দা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে বিশ্বখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র হয়। স্কন্দগুপ্ত মধ্য এশিয়া থেকে আসা হূনদের আক্রমণ ঠেকান। জুনাগড় শিলালিপি অনুযায়ী তিনি গিরনারের সুদর্শন হ্রদ সংস্কার করান, যে হ্রদ মৌর্য আমলে তৈরি হয়েছিল। স্কন্দগুপ্তের পরে দুর্বল উত্তরাধিকারী ও হূন চাপে সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে।
সাহিত্য ও বিজ্ঞান
| নাম | রচনা বা অবদান |
|---|---|
| কালিদাস | অভিজ্ঞানশকুন্তলম্, মেঘদূতম্, রঘুবংশম্ |
| বিশাখদত্ত | মুদ্রারাক্ষস |
| শূদ্রক | মৃচ্ছকটিক |
| অমরসিংহ | অমরকোষ (সংস্কৃত অভিধান) |
| আর্যভট | আর্যভটীয় (499 খ্রিস্টাব্দ): জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিত |
| বরাহমিহির | বৃহৎসংহিতা, পঞ্চসিদ্ধান্তিকা |
এই যুগে সংস্কৃত ছিল রাজভাষা। সোনার মুদ্রা চলত, নাম দিনার। দেওগড়ের দশাবতার মন্দির ও ভিতরগাঁওয়ের ইটের মন্দির মন্দির-স্থাপত্যের গোড়ার দিকের নিদর্শন। শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞানে এই উন্নতির জন্যই গুপ্ত যুগকে অনেকে ‘স্বর্ণযুগ’ বলেন, যদিও এই নামটি ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্কিত।
মনে রাখার কৌশল
- ক্রম: চ-স-চ-কু-স্ক: চন্দ্রগুপ্ত, সমুদ্রগুপ্ত, চন্দ্রগুপ্ত (দ্বিতীয়), কুমারগুপ্ত, স্কন্দগুপ্ত।
- সমুদ্র = প্রশস্তি = হরিষেণ: তিনটি একসঙ্গে মুখস্থ করুন।
- কুমার = নালন্দা: নাম দুটি পাশাপাশি মনে রাখুন।
- স্কন্দ = হূন: স্কন্দগুপ্তের কীর্তি হূন-প্রতিরোধ।
পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী
ক্লার্কশিপ Part-I-এর General Studies-এ প্রাথমিক ভারতের ইতিহাস সিলেবাসে আছে (মাধ্যমিক মান)। এখানে সাধারণত নাম-মেলানোর প্রশ্ন আসে: কোন সম্রাট কোন কীর্তির সঙ্গে যুক্ত, কোন গ্রন্থ কার লেখা, কোন বিদেশি পর্যটক কার আমলে এসেছিলেন। ওপরের তালিকা দুবার পড়ে কুইজটি দিন। পুরো প্রস্তুতির ছক পাবেন 8 সপ্তাহের প্রস্তুতি পরিকল্পনায়, আবেদনের নিয়ম আবেদন গাইডে। ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়, তাই অনুমানে বেছে না নিয়ে নিশ্চিত হলে তবেই দাগান।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
গুপ্তাব্দ কবে শুরু হয়?
প্রথম চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসন-আরোহণের বছর 319-320 খ্রিস্টাব্দ থেকে গুপ্তাব্দ গণনা শুরু হয়।
প্রয়াগ প্রশস্তি কে রচনা করেন?
সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণ। এটি এলাহাবাদ স্তম্ভে খোদিত।
গুপ্ত যুগের সোনার মুদ্রার নাম কী?
দিনার।
কোন চীনা পর্যটক দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে ভারতে আসেন?
ফা-হিয়েন।

Leave a Comment
Commenting as ·