WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 পার্ট-1-এর জেনারেল স্টাডিজে 40 নম্বর, আর অফিসিয়াল সিলেবাসে আছে প্রাথমিক স্তরের ভারতের ভূগোল, মাধ্যমিকের মানে। ভূগোলের মধ্যে কৃষি ও প্রধান ফসল থেকে প্রায় প্রতি বছর প্রশ্ন আসে: কোন ফসল কোন মরশুমের, কোন মাটিতে কোনটা ভালো হয়, কোন রাজ্য কোন ফসলে এগিয়ে। এই নোটে সেগুলোই এক জায়গায় দেওয়া হল, শেষে আছে 10 প্রশ্নের কুইজ।
Table of Contents
ভারতের তিনটি কৃষি মরশুম
ভারতের চাষ চলে বর্ষার ছন্দে। বোনা আর কাটার সময় ধরে ফসলকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: খরিফ, রবি ও জায়িদ।

| মরশুম | বোনা | কাটা | প্রধান ফসল |
|---|---|---|---|
| খরিফ | জুন–জুলাই (বর্ষার শুরুতে) | সেপ্টেম্বর–অক্টোবর | ধান, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, তুলো, পাট, চিনাবাদাম, সয়াবিন, অড়হর |
| রবি | অক্টোবর–ডিসেম্বর (শীতের শুরুতে) | মার্চ–এপ্রিল | গম, যব, ছোলা, মটর, সরষে |
| জায়িদ | রবি কাটার পর, গরমে | বর্ষার আগে (মোটামুটি মার্চ থেকে জুন) | তরমুজ, ফুটি, শসা, সবজি, পশুখাদ্য |
পশ্চিমবঙ্গে ধান তিনবার হয়: আউশ (গ্রীষ্ম-বর্ষার, শরতে কাটা), আমন (বর্ষায় রোয়া, হেমন্তে কাটা; রাজ্যের প্রধান ধান) আর বোরো (শীতে রোয়া, সেচে চাষ, গ্রীষ্মে কাটা)।
খাদ্যশস্য: ধান, গম, মিলেট, ডাল
- ধান: খরিফ ফসল। 25°C-এর বেশি উষ্ণতা, আর্দ্র বাতাস আর বছরে 100 সেমির বেশি বৃষ্টি চায়; কম বৃষ্টির জায়গায় সেচে চাষ হয়। জল ধরে রাখে এমন এঁটেল-পলিমাটি সবচেয়ে ভালো। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব প্রধান উৎপাদক। ধান ভারতের বেশিরভাগ মানুষের প্রধান খাদ্য।
- গম: রবি ফসল, ভারতের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। বাড়ার সময় ঠান্ডা আবহাওয়া আর পাকার সময় উজ্জ্বল রোদ চাই; বছরে 50–75 সেমি বৃষ্টি যথেষ্ট। গাঙ্গেয়-শতদ্রু সমভূমি ও দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে বেশি হয়; উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ প্রধান।
- মিলেট (জোয়ার, বাজরা, রাগি): কম বৃষ্টিতে, হালকা মাটিতে হয়, পুষ্টিগুণ বেশি। বাজরা বেলে ও অগভীর কৃষ্ণ মাটিতে ভালো হয়; রাগিতে লোহা ও ক্যালসিয়াম বেশি।
- ভুট্টা: খাদ্য ও পশুখাদ্য দুই-ই; 21–27°C উষ্ণতা আর পুরোনো পলিমাটি ভালো। মূলত খরিফ ফসল, বিহারে রবিতেও হয়।
- ডাল: ভারত বিশ্বে ডালের বৃহত্তম উৎপাদক, ভোক্তাও সবচেয়ে বেশি। অড়হর, মুগ, বিউলি (উড়দ) খরিফ; ছোলা, মটর, মসুর রবি। ডালের গাছ শিম্বগোত্রীয়: শিকড়ের গুটির ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আবদ্ধ করে, তাই এরা মাটির উর্বরতা ফেরায় এবং অন্য ফসলের সঙ্গে পালা করে চাষ হয়।
অর্থকরী ও বাগিচা ফসল
| ফসল | জলবায়ু ও মাটি | প্রধান রাজ্য | মনে রাখার কথা |
|---|---|---|---|
| আখ | উষ্ণ ও আর্দ্র, 21–27°C, 75–100 সেমি বৃষ্টি; সেচ লাগে | উত্তরপ্রদেশ (প্রথম), মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক | চিনি, গুড়, খাণ্ডসারি, চিটেগুড়ের কাঁচামাল |
| পাট | উষ্ণ ও আর্দ্র; বন্যায় প্রতি বছর নতুন হওয়া পলিমাটি | পশ্চিমবঙ্গ (প্রথম), বিহার, অসম, ওডিশা | সোনালি তন্তু; হুগলি নদীর দুই পারে চটকল |
| তুলো | উচ্চ উষ্ণতা, কম বৃষ্টি, উজ্জ্বল রোদ, অন্তত 210 দিন তুষারহীন; কৃষ্ণ (রেগুর) মৃত্তিকা | মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা | খরিফ; পাকতে 6–8 মাস লাগে |
| চা | উষ্ণ, আর্দ্র, তুষারহীন; সারা বছর ছড়ানো বৃষ্টি; জল দাঁড়ায় না এমন ঢালু, হিউমাসভরা মাটি | অসম (প্রথম), পশ্চিমবঙ্গ (দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি), তামিলনাড়ু, কেরালা | বাগিচা ফসল; কাঁচা পাতা বাগানেই প্রক্রিয়া করতে হয় |
| কফি | উষ্ণ, আর্দ্র পাহাড়ি ঢাল, ছায়া | কর্ণাটক (প্রথম), কেরালা, তামিলনাড়ু | প্রথম চাষ কর্ণাটকের বাবা বুদান পাহাড়ে; আরবিকা জাত |
| রবার | নিরক্ষীয় ধরনের: 25°C-এর বেশি উষ্ণতা, 200 সেমির বেশি বৃষ্টি | কেরালা (প্রথম), তামিলনাড়ু, কর্ণাটক | শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল |
| তৈলবীজ | চিনাবাদাম খরিফ, সরষে রবি | চিনাবাদামে গুজরাট, সরষে রাজস্থান-উত্তরপ্রদেশে | রান্নার তেল, খৈল পশুখাদ্য ও সার |
বাগিচা কৃষি (চা, কফি, রবার) হয় বড় এস্টেটে, অনেক মূলধন ও শ্রমিক দিয়ে, একটাই ফসল, বিক্রির জন্য। উল্টো দিকে ঝুম চাষ উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ে (অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড) প্রচলিত স্থানান্তর কৃষি: জঙ্গল কেটে পুড়িয়ে কয়েক বছর চাষ, মাটির উর্বরতা কমলে নতুন জায়গায় সরে যাওয়া।
কৃষির বিপ্লব
সবুজ বিপ্লব (1960-এর দশকের শেষ ভাগ): উচ্চ ফলনশীল (HYV) বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ ও যন্ত্রের ব্যবহারে গম ও ধানের ফলন বিপুল বাড়ে, সবচেয়ে বেশি পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে। ভারতে এর জনক বলা হয় এম. এস. স্বামীনাথন-কে, বিশ্বে নরম্যান বোরলগ-কে। দুধ উৎপাদন বাড়ানোর শ্বেত বিপ্লব (অপারেশন ফ্লাড) জড়িয়ে আছে ভার্গিস কুরিয়েন-এর নামের সঙ্গে।
| বিপ্লব | কীসের উৎপাদন |
|---|---|
| সবুজ বিপ্লব | খাদ্যশস্য (গম, ধান) |
| শ্বেত বিপ্লব | দুধ |
| হলুদ বিপ্লব | তৈলবীজ |
| নীল বিপ্লব | মাছ |
মনে রাখার কৌশল
- খরিফ = খরা নয়, বর্ষা: বর্ষার জলে ধান-পাট-তুলো। রবি = শীতের রোদ: গম-ছোলা-সরষে। জায়িদ = গরমের রসালো ফল: তরমুজ-শসা।
- রাজ্য-ফসল জোড়া: অসমের চা, কর্ণাটকের কফি, কেরালার রবার, বাংলার পাট, উত্তরপ্রদেশের আখ।
- কালো মাটি = সাদা তুলো: দাক্ষিণাত্যের লাভা থেকে তৈরি কৃষ্ণ মৃত্তিকা জল ধরে রাখে, তুলোর জন্য আদর্শ।
- বিপ্লবের রং ধরে মনে রাখুন: সবুজ মাঠ = শস্য, সাদা = দুধ, হলুদ সরষে ফুল = তৈলবীজ, নীল জল = মাছ।
পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী
পার্ট-1-এ প্রতি ভুল উত্তরে 0.25 নম্বর কাটা যায়, তাই কৃষির মতো নিশ্চিত নম্বরের অংশে ভুল এড়ানোই আসল কাজ। প্রথমে মরশুমের টেবিল আর রাজ্য-ফসলের জোড়াগুলো মুখস্থ করুন, তারপর মানচিত্রে রাজ্যগুলো চিনে নিন, শেষে নিচের কুইজটা দিন। পুরো প্রস্তুতির সাপ্তাহিক ভাগ দেখুন ক্লার্কশিপ 2024-এর 8 সপ্তাহের পরিকল্পনায়, আর আগের বছরের প্রশ্নের ধরন বুঝতে দেখুন ক্লার্কশিপ 2023-এর প্রশ্নপত্র।
সূত্র
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
খরিফ আর রবি ফসলের পার্থক্য কী?
খরিফ ফসল বর্ষার শুরুতে (জুন–জুলাই) বোনা হয়, কাটা হয় সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে; যেমন ধান, পাট, তুলো। রবি ফসল শীতের শুরুতে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) বোনা হয়, কাটা হয় মার্চ–এপ্রিলে; যেমন গম, ছোলা, সরষে।
জায়িদ ফসল কোনগুলো?
রবি কাটার পর আর খরিফ বোনার আগে গরমের অল্প সময়ে যে ফসল হয়: তরমুজ, ফুটি, শসা, নানা সবজি ও পশুখাদ্য।
তুলো চাষের জন্য কোন মাটি সবচেয়ে ভালো?
দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মাটি। এই মাটি জল ধরে রাখে, তাই একে কৃষ্ণ তুলো মৃত্তিকাও বলা হয়।
ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক কে?
এম. এস. স্বামীনাথন। 1960-এর দশকের শেষে উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার ও সেচে গম ও ধানের ফলন বাড়ে, মূলত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে।
ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় কৃষি কোন অংশে আসে?
পার্ট-1-এর জেনারেল স্টাডিজে (40 নম্বর), সিলেবাসের ভারতের ভূগোল অংশে। মান মাধ্যমিক স্তরের।

Leave a Comment
Commenting as ·