WBPSC Librarian Recruitment: রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরে চাকরির সুযোগ। পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC) সম্প্রতি স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (SCERT) বিভাগে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যোগ্য ও আগ্রহী ভারতীয় নাগরিকরা এই পদের জন্য সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
Table of Contents
শূন্যপদ ও বেতন কাঠামো
বর্তমানে লাইব্রেরিয়ান পদে মাত্র ১টি শূন্যপদ রয়েছে। নিয়োগের শুরুতে পদটি অস্থায়ী হলেও পরবর্তীতে এটি স্থায়ী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেতন কাঠামো বেশ আকর্ষণীয়। ডব্লিউবিএস (ROPA) রুলস ২০১৯-এর পে লেভেল ১৬ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর মাসিক বেতন শুরু হবে ৫৬,১০০ টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ ১,৪৪,৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
এই পদের জন্য আবেদনকারীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। তবে অন্য কোনো বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রির পাশাপাশি লাইব্রেরি সায়েন্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকলেও আবেদন করা যাবে। ডিগ্রির পাশাপাশি কোনো স্বনামধন্য প্রাতিষ্ঠানিক বা পাবলিক লাইব্রেরিতে অন্তত দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।
ভাষার দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান
কাজের সুবিধার্থে প্রার্থীকে বাংলা অথবা নেপালি এবং ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে হবে। যাদের মাতৃভাষা নেপালি, তাদের ক্ষেত্রে বাংলা জানার শর্তটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে ইন্টারভিউয়ের সময় ভাষা দক্ষতার বিষয়টি পরখ করে নেওয়া হতে পারে। এর পাশাপাশি কম্পিউটারে বইয়ের ক্যাটালগিং এবং ডিস্ট্রিবিউশন সংক্রান্ত কাজে জ্ঞান থাকা একান্ত কাম্য।
বয়সসীমা ও বিশেষ ছাড়
আবেদনকারীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের হিসেবে ৩৬ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে যোগ্যতাসম্পন্ন বা অভিজ্ঞ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়সের ছাড় মিলবে।
তফসিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) প্রার্থীরা ৫ বছর এবং ওবিসি (নন-ক্রিমি লেয়ার) প্রার্থীরা ৩ বছর পর্যন্ত ছাড় পাবেন। বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই এই ছাড় ৫ বছরের বেশি হবে না।
আবেদন ফি ও প্রয়োজনীয় তারিখ
সাধারণ বিভাগের প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২১০ টাকা। এর সঙ্গে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গের এসসি, এসটি এবং ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের কোনো ফি দিতে হবে না। মনে রাখবেন, একবার ফি জমা দিলে তা আর কোনোভাবেই ফেরত পাওয়া যাবে না। অন্য রাজ্যের সংরক্ষিত প্রার্থীরা এখানে সাধারণ প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হবেন।
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ২৪শে মার্চ ২০২৬ থেকে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৪ই এপ্রিল ২০২৬, বিকেল ৩টে পর্যন্ত। আবেদনপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য ১৬ই এপ্রিল থেকে ২০শে এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এডিট উইন্ডো খোলা থাকবে। কোনো প্রার্থী ভুল করেও একাধিক আবেদন করলে তার প্রার্থীপদ বাতিল হতে পারে।
প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতি
নির্বাচন মূলত ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। তবে যদি প্রার্থীর সংখ্যা অত্যাধিক হয়, সেক্ষেত্রে কমিশন একটি প্রাথমিক স্ক্রিনিং টেস্ট নিতে পারে। ইন্টারভিউতে পাস করতে হলে সাধারণ বিভাগের প্রার্থীদের অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং টেস্টের নম্বর যোগ করা হবে না।
যদি দেখা যায় দুজন প্রার্থী ইন্টারভিউতে একই নম্বর পেয়েছেন, তবে বয়সে যিনি বড় তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বয়সও এক হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার শতাংশ বিচার করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ফলো করতে পারেন।
