ভারতের মাটি ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ কুইজ: ক্লার্কশিপ 2024
একটু অনুশীলন, আরও এক ধাপ এগিয়ে।
মাটির ধরন, ফসল ও অরণ্যের প্রকার নিয়ে 10টি প্রশ্ন। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
ভারতে সবচেয়ে বেশি এলাকা জুড়ে কোন মাটি দেখা যায়?
উত্তর ভারতের সমভূমি ও উপকূলীয় সমভূমি জুড়ে নদীবাহিত পলিমাটি ছড়িয়ে আছে, তাই আয়তনে এটিই সবচেয়ে বড়। কৃষ্ণ ও লাল মাটি দাক্ষিণাত্যে সীমাবদ্ধ, ল্যাটেরাইট আরও ছোট এলাকায়।
- পলিমাটি ভারতের সবচেয়ে বিস্তৃত ও উর্বর মাটি
- পটাশ ও চুন বেশি, নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থ কম
- ধান, গম, আখ, পাটের জন্য উপযোগী
- পলি = পথে পথে ছড়ানো = সবচেয়ে বেশি
| মাটি | রং/বৈশিষ্ট্য | প্রধান ফসল |
|---|---|---|
| পলি | উর্বর, পটাশ ও চুন বেশি | ধান, গম, পাট, আখ |
| কৃষ্ণ (রেগুর) | কালো, আর্দ্রতা ধরে রাখে | তুলা, সয়াবিন, আখ |
| লাল | আয়রন অক্সাইডে লাল | ডাল, মিলেট, তামাক |
| ল্যাটেরাইট | ধুয়ে-যাওয়া, অম্লীয় | চা, কফি, কাজু |
কোন মাটি তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী?
কৃষ্ণ মৃত্তিকা আর্দ্রতা বেশিদিন ধরে রাখে এবং এতে চুন, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা তুলার জন্য ভালো। তাই একে 'কালো তুলা মাটি'ও বলা হয়। মরু মাটিতে জল ধরে না।
- দাক্ষিণাত্যের লাভা থেকে তৈরি
- মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে বেশি
- ভিজলে চটচটে, শুকোলে ফাটে
- কালো মাটি = কালো তুলা
কৃষ্ণ মৃত্তিকার অন্য নাম কী?
কৃষ্ণ মৃত্তিকাকে রেগুর মাটি বলা হয়। খাদার ও ভাঙ্গার হল পলিমাটির দুই ধরন, কৃষ্ণ মৃত্তিকার নয়।
- রেগুর = কৃষ্ণ মৃত্তিকা
- শুকনো ঋতুতে গভীর ফাটল ধরে, তাই নিজে নিজেই 'চাষ' হয়ে যায়
- খাদার ও ভাঙ্গার পলিমাটির প্রকার, কৃষ্ণ মৃত্তিকার নাম নয়
- রেগুর = ডেকানের কালো মাটি
লাল মাটির রঙ লাল হয় কেন?
গ্র্যানাইট ও নিস শিলার ক্ষয়ে তৈরি এই মাটিতে লোহার যৌগ (আয়রন অক্সাইড) ছড়িয়ে থাকে, তাই রং লাল। জৈব পদার্থ বা চুন বেশি থাকলে এমন রং হত না; বরং লাল মাটিতে এগুলো কম।
- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, হিউমাস ও চুন কম
- ডাল, মিলেট, তামাকের জন্য ভালো
- পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায় দেখা যায়
- লাল = লোহা (আয়রন)
প্রবল বৃষ্টিতে পুষ্টি ধুয়ে গিয়ে (লিচিং) কোন মাটি তৈরি হয়?
ভারী বৃষ্টি ও পালা করে ভেজা-শুকনো আবহাওয়ায় চুন-সিলিকা ধুয়ে যায়, থেকে যায় আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম। এই লিচিংয়ে ল্যাটেরাইট তৈরি হয়। পলি বা কৃষ্ণ মাটি এভাবে তৈরি নয়, আর মরুতে বৃষ্টিই কম।
- কেরল, কর্ণাটক, মেঘালয়, অসমে বেশি
- চা, কফি, কাজুর জন্য উপযোগী
- ইট তৈরিতে কাজে লাগে
- লিচিং = ধুয়ে যাওয়া, ফল ল্যাটেরাইট
- ল্যাটেরাইট = ইটের মতো শক্ত (ল্যাটিন 'later' = ইট)
পুরোনো পলিমাটিকে কী বলা হয়?
নদীর উঁচু পাড়ের পুরোনো পলি ভাঙ্গার, যাতে কাঁকর (কঙ্কর) থাকে। নতুন পলি, যা প্রতি বন্যায় জমে, তাকে খাদার বলে এবং তা বেশি উর্বর।
- ভাঙ্গার = পুরোনো, কম উর্বর, কঙ্কর যুক্ত
- খাদার = নতুন, বেশি উর্বর
- ভাঙ্গার ও খাদার গুলিয়ে ফেলা সহজ: পুরোনো = ভাঙ্গার
- ভাঙ্গার = ভাঙা পুরোনো; খাদার = খাদে নতুন পলি
সুন্দরবনে কোন ধরনের স্বাভাবিক উদ্ভিদ দেখা যায়?
সুন্দরবন জোয়ারের নোনা জলে ডোবা ম্যানগ্রোভ অরণ্য, যার প্রধান গাছ সুন্দরী। পর্ণমোচী বন কম লবণাক্ত শুকনো জমিতে হয়, কাঁটাঝোপ কম বৃষ্টির অঞ্চলে, শঙ্কুধারী বন হিমালয়ে।
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন
- গাছের শ্বাসমূল মাটি ফুঁড়ে ওঠে
- রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাস
- সুন্দরবন = সুন্দরী = ম্যানগ্রোভ
| অরণ্য | বৃষ্টি | গাছ |
|---|---|---|
| ক্রান্তীয় চিরহরিৎ | 200 সেমির বেশি | মেহগনি, রোজউড |
| ক্রান্তীয় পর্ণমোচী | 70–200 সেমি | শাল, সেগুন |
| কাঁটাঝোপ | 70 সেমির কম | বাবলা, ক্যাকটাস |
| ম্যানগ্রোভ | জোয়ারের জলে | সুন্দরী |
শাল ও সেগুন কোন ধরনের অরণ্যের গাছ?
শাল ও সেগুন 70–200 সেমি বৃষ্টির মৌসুমি অঞ্চলে জন্মায়। শুকনো ঋতুতে জল ধরে রাখতে এরা পাতা ঝরায়। চিরহরিৎ বনে 200 সেমির বেশি বৃষ্টি হয়।
- ভারতের সবচেয়ে বিস্তৃত অরণ্য
- শালের বন পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়ায়
- মূল্যবান কাঠ দেয়
- শাল-সেগুন = শুকনো ঋতুতে পাতা ঝরায়
| অরণ্য | বৃষ্টি | গাছ |
|---|---|---|
| ক্রান্তীয় চিরহরিৎ | 200 সেমির বেশি | মেহগনি, রোজউড |
| ক্রান্তীয় পর্ণমোচী | 70–200 সেমি | শাল, সেগুন |
| কাঁটাঝোপ | 70 সেমির কম | বাবলা, ক্যাকটাস |
| ম্যানগ্রোভ | জোয়ারের জলে | সুন্দরী |
বাবলা ও ক্যাকটাস প্রধানত কোন অঞ্চলে জন্মায়?
বছরে 70 সেমির কম বৃষ্টির অঞ্চলে কাঁটাঝোপ জন্মায়: গাছের শিকড় লম্বা, পাতা ছোট বা কাঁটার মতো, যাতে জল কম ঝরে। ডুয়ার্স, সুন্দরবন ও কেরলের উপকূলে বৃষ্টি বা জল প্রচুর।
- রাজস্থান, গুজরাট, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশে
- পাতা কাঁটা হয়ে বাষ্পীভবন কমায়
- বাবলা, খেজুর, ক্যাকটাস
- কম বৃষ্টি = কাঁটা
| অরণ্য | বৃষ্টি | গাছ |
|---|---|---|
| ক্রান্তীয় চিরহরিৎ | 200 সেমির বেশি | মেহগনি, রোজউড |
| ক্রান্তীয় পর্ণমোচী | 70–200 সেমি | শাল, সেগুন |
| কাঁটাঝোপ | 70 সেমির কম | বাবলা, ক্যাকটাস |
| ম্যানগ্রোভ | জোয়ারের জলে | সুন্দরী |
দেবদারু ও পাইন কোন ধরনের অরণ্যের গাছ?
হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে ঠান্ডায় শঙ্কুধারী (কনিফার) গাছ জন্মায়: দেবদারু, পাইন, ফার। এদের পাতা সূঁচের মতো, তুষার সহজে ঝরে পড়ে। অন্য তিন ধরন উষ্ণ বা নোনা অঞ্চলের।
- উচ্চতা বাড়লে উদ্ভিদের ধরন বদলায়
- আলপাইন তৃণভূমি আরও ওপরে
- দেবদারু-পাইন = পাহাড়, সূঁচ পাতা
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
মাটির ধরন, ফসল ও অরণ্যের প্রকার নিয়ে 10টি প্রশ্ন।
Related Posts

ভারতের মাটি ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ: ক্লার্কশিপ 2024-এর জিকে নোটস ও কুইজ

WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 ইংরেজি কুইজ (রাউন্ড 3): গ্রামার ও শব্দভান্ডারের 20টি প্রশ্ন

WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 ইংরেজি: Antonyms (বিপরীতার্থক শব্দ) নিয়ম, উদাহরণ ও 12টি প্র্যাকটিস প্রশ্ন


Leave a Comment
Commenting as ·