প্র্যাক্টিস

WBPSC ক্লার্কশিপ জিএস: শব্দ, তার বেগ, প্রতিধ্বনি ও সোনার

শব্দ তরঙ্গ, ঘণ্টা ও বাদুড়ের ছবি
Wbpsc Clerkship Gk Sound Notes
|

Key Highlights

  • শব্দ অনুদৈর্ঘ্য যান্ত্রিক তরঙ্গ, শূন্যস্থানে চলে না
  • বেগ: কঠিন > তরল > গ্যাস; বায়ুতে প্রায় 346 m/s
  • শ্রুতিসীমা 20 Hz – 20,000 Hz
  • প্রতিধ্বনির জন্য ন্যূনতম দূরত্ব প্রায় 17 m
  • জোর = বিস্তার, সুর = কম্পাঙ্ক

WBPSC ক্লার্কশিপ 2024 (বিজ্ঞপ্তি নং 12/2024) পার্ট-I-এর জেনারেল স্টাডিজে দৈনন্দিন বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে, মান মাধ্যমিকের। শব্দ সেই অংশের একটি পরিচিত বিষয়। এই নোটে পরীক্ষায় যা জিজ্ঞেস করা হয় সেই তথ্যগুলো আছে, শেষে 10 প্রশ্নের কুইজ।

Table of Contents

শব্দ কী ও কীভাবে চলে

শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। কোনো বস্তু কাঁপলে পাশের কণারা কাঁপে, সেই কম্পন একটি কণা থেকে আরেকটিতে ছড়িয়ে কানে পৌঁছয়। তাই চলতে শব্দের মাধ্যম লাগে: কঠিন, তরল বা গ্যাস। শূন্যস্থানে শব্দ চলে না, তাই মহাকাশে কেউ কারও কথা শুনতে পায় না।

বায়ুতে শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: কণারা তরঙ্গের চলার দিকেই এগিয়ে-পিছিয়ে কাঁপে। এতে কোথাও কণা ঘন হয় (সংনমন), কোথাও পাতলা (প্রসারণ)।

মাধ্যমভেদে শব্দের বেগ

শব্দের বেগ কঠিনে সবচেয়ে বেশি, তরলে কম, গ্যাসে সবচেয়ে কম। বায়ুতে তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।

মাধ্যমশব্দের বেগ (প্রায়, m/s)
বায়ু (22°C)346
পাতিত জল (25°C)1498
লোহা (25°C)5950
সূত্র: NCERT বিজ্ঞান, নবম শ্রেণি
বায়ু, জল ও লোহায় শব্দের বেগের স্তম্ভচিত্র
লোহায় শব্দ বায়ুর চেয়ে প্রায় 17 গুণ দ্রুত চলে।

মনে রাখার সূত্র: বেগ = কম্পাঙ্ক × তরঙ্গদৈর্ঘ্য, অর্থাৎ $v = f \lambda$। উদাহরণ: কম্পাঙ্ক 500 Hz ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.68 m হলে বেগ $500 \times 0.68 = 340$ m/s।

কম্পাঙ্ক, শ্রুতিসীমা ও অতিস্বন

এক সেকেন্ডে যতবার কম্পন হয় তা কম্পাঙ্ক, একক হার্জ (Hz)। মানুষের কান সাধারণত 20 Hz থেকে 20,000 Hz শুনতে পায়।

ধরনকম্পাঙ্কউদাহরণ
অবশ্রুত শব্দ (infrasound)20 Hz-এর কমহাতি, তিমি, ভূমিকম্পের তরঙ্গ
শ্রুত শব্দ20 – 20,000 Hzকথা, গান
অতিস্বন (ultrasound)20,000 Hz-এর বেশিবাদুড়, ডলফিন, সোনোগ্রাফি

চিকিৎসায় সোনোগ্রাফি, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ পরিষ্কার ও ধাতুর ফাটল খুঁজতে অতিস্বন কাজে লাগে।

জোর ও সুর

বৈশিষ্ট্যনির্ভর করেএকক
জোর বা প্রাবল্য (loudness)বিস্তার (amplitude)ডেসিবেল (dB)
সুর বা পিচ (pitch)কম্পাঙ্ক (frequency)হার্জ (Hz)

বিস্তার বেশি হলে শব্দ জোরালো হয়; কম্পাঙ্ক বেশি হলে সুর তীক্ষ্ণ হয়। দুটি আলাদা বিষয়, এই গোলমালেই পরীক্ষায় ভুল হয়।

প্রতিধ্বনি ও সোনার

শব্দ কোনো শক্ত তলে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এলে তাকে প্রতিধ্বনি বলে। কানে শব্দের রেশ প্রায় 0.1 s থাকে, তাই প্রতিধ্বনি আলাদা শুনতে হলে ফিরতে অন্তত 0.1 s লাগা চাই। বায়ুতে বেগ প্রায় 340 m/s ধরলে ন্যূনতম দূরত্ব $\frac{340 \times 0.1}{2} = 17$ m।

সোনার (SONAR = Sound Navigation And Ranging) জলের নিচে অতিস্বন পাঠিয়ে প্রতিধ্বনির সময় মাপে। গভীরতা $d = \frac{v \times t}{2}$। যেমন প্রতিধ্বনি 4 s পরে এলে ও জলে বেগ 1500 m/s হলে $d = \frac{1500 \times 4}{2} = 3000$ m। এভাবে সমুদ্রের গভীরতা ও ডুবোজাহাজ খোঁজা হয়।

বজ্রপাত: আলো আগে, শব্দ পরে

বিদ্যুৎ-চমক ও বজ্রধ্বনি একসঙ্গে ঘটে। আলোর বেগ প্রায় $3 \times 10^{8}$ m/s, শব্দের প্রায় 340 m/s, তাই ঝলক আগে দেখা যায়, গর্জন পরে শোনা যায়।

মনে রাখার কৌশল

  • শব্দ = যান্ত্রিক + অনুদৈর্ঘ্য; শূন্যে নেই।
  • বেগ: কঠিনে দ্রুত, গ্যাসে ধীর।
  • জোর = বিস্তার, সুর = কম্পাঙ্ক।
  • বাদুড় = অতিস্বন, হাতি = অবশ্রুত।
  • প্রতিধ্বনি: 0.1 s, 17 m।
  • সোনার: মোট সময়কে 2 দিয়ে ভাগ।

পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী

পার্ট-I-এ GS-এর 40 নম্বরের মধ্যে দৈনন্দিন বিজ্ঞানের দু-একটি প্রশ্ন শব্দ থেকে আসতে পারে; ভুল উত্তরে −0.25 কাটা যায়, তাই তথ্যগুলো নিশ্চিত হয়ে মুখস্থ করুন। নিচের কুইজ দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন। পড়ার ছক পেতে দেখুন 8 সপ্তাহের প্রস্তুতি পরিকল্পনা, আবেদন করতে আবেদন গাইড।

সূত্র

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শব্দ কি শূন্যস্থানে চলে?

না। শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই কঠিন, তরল বা গ্যাসের মতো মাধ্যম লাগে। শূন্যস্থানে কণা নেই বলে শব্দ চলে না।

মানুষের শ্রুতিসীমা কত?

প্রায় 20 Hz থেকে 20,000 Hz। এর নিচে অবশ্রুত শব্দ, ওপরে অতিস্বন।

প্রতিধ্বনি শুনতে ন্যূনতম দূরত্ব কত?

বায়ুতে প্রায় 17 m, কারণ শব্দ ফিরতে অন্তত প্রায় 0.1 s লাগা চাই।

শব্দের জোর ও সুরের পার্থক্য কী?

জোর নির্ভর করে বিস্তারের ওপর (একক ডেসিবেল), সুর বা পিচ নির্ভর করে কম্পাঙ্কের ওপর (একক হার্জ)।

Manoj Bera

Manoj Bera

Manoj Bera, a passionate writer, has been blogging since 2018 while also working as an educator for all competitive exam preparation. His blog posts reflect her love for exploring the world through engaging writing. more>>

Leave a Comment