Teacher Recruitment Interview Questions Answers: শিক্ষক বা শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে চূড়ান্ত এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি টেস্ট। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর একজন প্রার্থীর ধৈর্য, মানসিকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করার জন্য ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন করা হয়। অনেক সময় প্রার্থীরা ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও কিছু সাধারণ মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পেরে ঘাবড়ে যান। অথচ একটু সচেতন থাকলেই এই প্রশ্নগুলোর খুব সুন্দর এবং ইতিবাচক উত্তর দেওয়া সম্ভব।
আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউতে সচরাচর জিজ্ঞাসিত ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর আদর্শ উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। এই উত্তরগুলো হুবহু মুখস্থ না করে নিজের মতো করে গুছিয়ে বলার প্রস্তুতি নিলে আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
শিক্ষক বা শিক্ষিকা নিয়োগের ইন্টারভিউতে সাধারণ ৫টি প্রশ্ন ও উত্তর
ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নকর্তারা কেবল আপনার জ্ঞান পরীক্ষা করেন না, বরং আপনি কঠিন পরিস্থিতিতে কতটা শান্ত থাকতে পারেন, তাও যাচাই করেন। নিচে এমন ৫টি প্রশ্ন ও তাদের সম্ভাব্য উত্তর দেওয়া হলো:
১. এই চাকরিটা যদি আপনি না পান, তবে আপনি কী করবেন?
এই প্রশ্নটি করার মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার ধৈর্য (Patience) এবং মানসিক দৃঢ়তা (Mental Strength) পরীক্ষা করা। তারা দেখতে চান আপনি ব্যর্থতাকে কীভাবে গ্রহণ করেন।
সম্ভাব্য উত্তর:
বোর্ডের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে বিনীতভাবে উত্তর দিন। আপনি বলতে পারেন, “স্যার/ম্যাম, আমি এই পদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং আমি আশাবাদী যে আমি সফল হব। তবে, দুর্ভাগ্যবশত যদি আমি নির্বাচিত না হই, তবে প্রথমে আমি বাড়ি ফিরে শান্ত মনে আত্মসমীক্ষা বা আত্মমূল্যায়ন করব। আমার প্রস্তুতির কোথায় ঘাটতি ছিল বা ইন্টারভিউতে কোথায় ভুল হয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। সেই ত্রুটিগুলো সংশোধন করে নিজেকে আরও যোগ্য করে তুলব এবং পরবর্তীতে যখন সরকার আবার সুযোগ দেবে, তখন দ্বিগুণ উৎসাহে অংশগ্রহণ করব। আমার বিশ্বাস, তখন আমি অবশ্যই সফল হব।”
২. চাকরিটা না পেলে তার জন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন?
এটি একটি অত্যন্ত কৌশলী প্রশ্ন। এখানে ইন্টারভিউয়ার দেখতে চান আপনি নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন, নাকি পরিস্থিতি বা অন্যের ওপর দোষ চাপান (Blame Game)।
সম্ভাব্য উত্তর:
এখানে সবসময় দায় নিজের কাঁধে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনি বলতে পারেন, “স্যার, যদি আমি চাকরিটা না পাই, তবে তার দায় সবার আগে আমার নিজের। কারণ, নিশ্চয়ই আমি নিজেকে এই পদের জন্য বা আপনাদের সামনে সম্পূর্ণরূপে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে পারিনি। দ্বিতীয়ত, দায় তাদের ওপরও বর্তায় যারা চাকরিটি পেয়েছেন। কারণ, তারা নিশ্চয়ই আমার চেয়ে নিজেকে বেশি যোগ্য প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতিযোগিতায় অন্যরা আমার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন এবং আমি তাদের সমকক্ষ হতে পারিনি। তাই ব্যর্থতার দায় আমি আমার প্রস্তুতির ঘাটতিকেই দেব।”
৩. আপনাকে কেন আমরা বেছে নেব?
এই প্রশ্নের মাধ্যমে আপনার আত্মবিশ্বাস (Confidence) এবং পদের প্রতি আপনার যোগ্যতা (Eligibility) যাচাই করা হয়। এখানে বিনয়ের সাথে নিজের অর্জনগুলো তুলে ধরতে হবে।
সম্ভাব্য উত্তর:
আপনার উত্তরটি এমন হতে পারে: “স্যার, একজন শিক্ষক হওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা (যেমন— উচ্চ মাধ্যমিকে প্রয়োজনীয় নম্বর, ডি.এল.এড প্রশিক্ষণ, এবং টেট উত্তীর্ণ হওয়া) আমি অর্জন করেছি। আপনাদের প্রতিষ্ঠানের বা এই পদের দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত। এখন এই ইন্টারভিউ বোর্ডে আমি যদি আমার যোগ্যতা এবং ব্যক্তিত্ব আপনাদের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারি এবং আপনারা যদি মনে করেন আমি এই মহান পেশার উপযুক্ত, তবেই আপনারা আমাকে বেছে নেবেন। আমি কথা দিচ্ছি, সুযোগ পেলে আমি আমার শতভাগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করব।”
৪. আপনি কেন নিজেকে যোগ্য মনে করেন?
এটি ৩ নম্বর প্রশ্নেরই একটি ভিন্ন রূপ, কিন্তু উত্তরটি একটু অন্যভাবে সাজানো যেতে পারে। এখানে নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং বোর্ডের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি।
সম্ভাব্য উত্তর:
বলুন, “স্যার, এই পদের জন্য সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সকল যোগ্যতা পূরণ করেই আমি আজ আপনাদের সামনে ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমার একাডেমিক ফলাফল এবং প্রশিক্ষণের ওপর আমার আস্থা আছে। তবে, চূড়ান্ত যোগ্যতা প্রমাণের স্থান হলো এই ইন্টারভিউ বোর্ড। আপনাদের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে আমি যদি নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি এবং আমার উত্তরে আপনারা সন্তুষ্ট হন, তবেই আমি নিজেকে এই পদের জন্য প্রকৃত অর্থে যোগ্য বলে মনে করব।”
৫. এখন পড়াশোনা ছাড়া আপনি অন্য কী কাজ করছেন?
এই প্রশ্নটি করার মাধ্যমে বোর্ড আপনার কর্মস্পৃহা (Work Culture) এবং সময়ের সদ্ব্যবহার যাচাই করতে চায়। দীর্ঘ সময় বেকার বসে থাকা বা অলস সময় কাটানো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সম্ভাব্য উত্তর:
কখনোই বলবেন না যে “আমি শুধুই পড়াশোনা করছি”। এতে মনে হতে পারে আপনি ব্যবহারিক জগত থেকে বিচ্ছিন্ন।
এর বদলে বলুন, “স্যার, চাকরির প্রস্তুতির জন্য পড়াশোনা তো করছিই, তবে তার পাশাপাশি আমি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ছোটখাটো কাজ করছি। যেমন— আমি কিছু ছাত্রছাত্রীকে টিউশনি করাই (অথবা অন্য কোনো পার্ট-টাইম কাজের কথা উল্লেখ করুন)। এর ফলে আমার পড়াশোনার খরচ যেমন উঠে আসে, তেমনি জ্ঞান চর্চার মধ্যেও থাকতে পারি।”
এতে প্রমাণিত হয় যে আপনি কর্মঠ এবং আপনার মধ্যে বাস্তবমুখী চিন্তা আছে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- হাসিমুখ: উত্তরে যাই বলুন না কেন, মুখে সর্বদা একটি মার্জিত হাসি ধরে রাখবেন।
- আই কন্টাক্ট: কথা বলার সময় বোর্ডের সকল সদস্যদের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবেন।
- স্বকীয়তা: উত্তরগুলো মুখস্থ না করে নিজের ভাষায় এবং নিজের দর্শনের আলোকে প্রকাশ করুন।
মনে রাখবেন, ইন্টারভিউ হলো আপনার ব্যক্তিত্বের পরীক্ষা। তাই সততা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দেওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি।
