Primary Teacher Interview Questions: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের (Primary TET) ইন্টারভিউ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই পর্যায়ে এসে অনেকেই আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। ইন্টারভিউতে মূলত প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, ধৈর্য এবং শিশুদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করা হয়। আজকের এই পোস্টে আমরা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং তার আদর্শ উত্তর নিয়ে আলোচনা করব যা আপনাকে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।
প্রাথমিক শিক্ষক ইন্টারভিউ: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
নিচে কয়েকটি সম্ভাব্য প্রশ্ন ও তার উত্তর বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো, যা ইন্টারভিউতে প্রায়শই জিজ্ঞাসা করা হয়।
১. আপনার মতে একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রধান গুণাবলী কী কী?
একজন শিক্ষককে প্রায়শই ‘সমাজের স্থপতি’ বা ‘মেরুদণ্ড’ বলা হয়। তাই একজন আদর্শ শিক্ষকের মধ্যে কিছু বিশেষ গুণ থাকা আবশ্যক। যেমন:
- অসীম ধৈর্য: প্রাথমিক স্তরের শিশুদের শেখানোর জন্য ধৈর্যশীল হওয়া সবচেয়ে জরুরি। তাদের ভুলগুলো ধৈর্য সহকারে শুধরে দিতে হবে।
- বিষয়ভিত্তিক গভীরতা: শিক্ষক যে বিষয়টি পড়াবেন, সেই বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট এবং গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
- শিশুসুলভ আচরণ: শিশুদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশতে হবে, যাতে তারা কোনো ভয় ছাড়াই প্রশ্ন করতে পারে এবং তাদের মনের কথা খুলে বলতে পারে।
- অনুপ্রেরণামূলক ব্যক্তিত্ব: একজন শিক্ষকের চরিত্র, কথাবার্তা এবং আচরণ যেন শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ হয়ে ওঠে এবং তাদের অনুপ্রাণিত করে।
- সৃজনশীলতা: পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও বিভিন্ন সৃজনশীল উপায়ে পাঠদানকে আনন্দদায়ক করে তোলার ক্ষমতা থাকতে হবে।
২. প্রাথমিক স্তরে স্কুলছুট (School Dropout) কমানোর জন্য আপনি কী কী পদক্ষেপ নেবেন?
স্কুলছুট প্রাথমিক শিক্ষার একটি অন্যতম বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য একজন শিক্ষক হিসেবে আমি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করব:
- অভিভাবকদের সঙ্গে সংযোগ: নিয়মিত অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাব এবং তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত করব।
- আনন্দদায়ক পাঠদান: গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে খেলাধুলা, গান এবং গল্পের মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করব, যাতে বিদ্যালয় শিশুদের কাছে একটি আনন্দের জায়গা হয়ে ওঠে।
- সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান: কোনো শিশু কেন স্কুলে আসছে না, তার কারণ (যেমন – আর্থিক অনটন, পারিবারিক সমস্যা বা বিদ্যালয়ের প্রতি ভীতি) খুঁজে বের করার চেষ্টা করব এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সাহায্যে সমাধানের চেষ্টা করব।
- সরকারি প্রকল্পের প্রচার: মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে বই বা পোশাকের মতো সরকারি প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করব এবং নিশ্চিত করব যেন প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী সেই সুবিধা পায়।
৩. পাশ-ফেল প্রথা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
প্রাথমিক স্তরে পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের উপর থেকে পরীক্ষার মানসিক চাপ কমানো। এই বিষয়ে আমার মতামত হলো:
- ইতিবাচক দিক: এই প্রথার ফলে শিশুদের মধ্যে অহেতুক প্রতিযোগিতা এবং পরীক্ষাভীতি কমে। তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে এবং বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতির হারও বৃদ্ধি পায়।
- নেতিবাচক দিক: অনেক ক্ষেত্রে পাশ-ফেল না থাকায় ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি এক ধরনের উদাসীনতা তৈরি হতে পারে।
- সমাধান: পাশ-ফেল প্রথা না থাকলেও, ধারাবাহিক এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন (Continuous and Comprehensive Evaluation – CCE) -এর মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
৪. কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে আপনার করণীয় কী হবে?
যদি আমার ক্লাসের কোনো ছাত্র বা ছাত্রী নিয়মিত অনুপস্থিত থাকে, তবে আমি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেব:
- কারণ অনুসন্ধান: প্রথমে আমি ক্লাসের অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে তার অনুপস্থিতির কারণ জানার চেষ্টা করব।
- গৃহ পরিদর্শন: যদি সঠিক কারণ জানা না যায়, তাহলে আমি তার বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব।
- ভয় দূর করা: যদি শিশুটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ বা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে ভয় পায়, তবে তার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে সেই ভয় দূর করার চেষ্টা করব এবং তাকে ভরসা দেব।
- বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করা: খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেব, যাতে সে স্কুলের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
৫. কিন্ডারগার্টেন এবং মন্তেশ্বরী শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
কিন্ডারগার্টেন এবং মন্তেশ্বরী উভয়ই শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতি, তবে এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। নিচে একটি তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
| বিষয় | কিন্ডারগার্টেন (Kindergarten) | মন্তেশ্বরী (Montessori) |
|---|---|---|
| প্রবর্তক | ফ্রেডরিক ফ্রোয়েবেল (Friedrich Froebel) | মারিয়া মন্তেশ্বরী (Maria Montessori) |
| মূল ধারণা | ‘কিন্ডারগার্টেন’ শব্দের অর্থ ‘শিশুদের বাগান’। এখানে খেলার ছলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়। | শিশুদের স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয় এবং বিশেষ শিক্ষ উপকরণ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়কে ‘Children’s House’ বলা হয়। |
| শিক্ষার মাধ্যম | উপহার (Gifts) ও বৃত্তিমূলক কাজ (Occupations) ব্যবহার করে খেলাচ্ছলে শেখানো হয়। | ইন্দ্রিয় প্রশিক্ষণের (Sensory Training) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং বিশেষভাবে নির্মিত সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। |
| শিক্ষকের ভূমিকা | শিক্ষক এখানে একজন মালীর মতো, যিনি শিশুদের পরিচর্যা করেন। | শিক্ষক এখানে একজন নির্দেশকের (Director) ভূমিকা পালন করেন, যিনি শিশুদের কাজ করতে সহায়তা করেন। |
৬. প্রাথমিক স্তরে গণিত শিক্ষার গুরুত্ব কী?
প্রাথমিক স্তরে গণিত শিক্ষা শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
- যুক্তিগত চিন্তার বিকাশ: গণিত শিশুদের মধ্যে যুক্তি দিয়ে ভাবার (Logical Thinking) ক্ষমতা তৈরি করে।
- সমস্যা সমাধানের দক্ষতা: দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন হিসাবনিকাশ ও ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ে।
- ভিত্তি স্থাপন: গণিত পরবর্তী স্তরের বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয় ভালোভাবে বোঝার ভিত্তি তৈরি করে।
