Primary Teacher Interview Demo Class: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বা যেকোনো শিক্ষকতার পরীক্ষায় ‘টিচিং ডেমোনস্ট্রেশন’ বা ডেমো ক্লাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ইন্টারভিউ বোর্ডে অনেক সময় টেবিলের ওপর একটি গ্লোব বা ভূগোলক রাখা থাকে। অধিকাংশ প্রার্থী সেটিকে এড়িয়ে যান, কিন্তু আপনি যদি সেই গ্লোবটিকে আপনার টিচিং লার্নিং মেটেরিয়াল (TLM) হিসেবে ব্যবহার করে একটি সাবলীল ক্লাস উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তা আপনার দক্ষতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেবে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব, কীভাবে ইন্টারভিউ বোর্ডে গ্লোব ব্যবহার করে একটি আকর্ষণীয় ডেমো ক্লাস নেওয়া সম্ভব।
গ্লোব বা ভূগোলকের সাহায্যে ডেমো ক্লাস উপস্থাপনা
একটি সফল ডেমো ক্লাসের মূল চাবিকাঠি হলো বিষয়ের সহজ উপস্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের (এক্ষেত্রে পরীক্ষকদের) মনোযোগ ধরে রাখা। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হলো:
১. ক্লাসের সূচনা ও পূর্বজ্ঞান যাচাই
ক্লাসের শুরুতেই সরাসরি গ্লোব হাতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে শিক্ষার্থীদের পরিচিত পরিবেশ থেকে উদাহরণ টানতে হবে।
- বল বা খেলার সামগ্রীর উদাহরণ: শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, “তোমরা তো ফুটবল বা টেনিস বল দেখেছ, তাই না? বলগুলোর আকার কেমন হয়?”
- পৃথিবীর প্রসঙ্গ: যখন তারা উত্তর দেবে যে বল ‘গোলাকার’, তখন সেই সূত্র ধরে বলতে হবে, “আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, তার আকারও অনেকটা এই বলের মতোই।”
২. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতির ধারণা
পৃথিবী গোল হলেও যে পুরোপুরি গোল নয়, এই ধারণাটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
- শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে যে, পৃথিবীর ওপর এবং নিচের দিকটা সামান্য চ্যাপ্টা বা চাপা।
- সহজ উদাহরণ হিসেবে কমলালেবুর কথা বলা যেতে পারে, যা পুরোপুরি গোল নয়, বরং মেরুপ্রদেশে সামান্য চাপা থাকে।
৩. গ্লোব বা ভূগোলকের পরিচিতি প্রদান
এই পর্যায়ে টেবিল থেকে গ্লোবটি হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
- সংজ্ঞা: গ্লোব হলো পৃথিবীর একটি ছোট মডেল বা প্রতিরূপ। আমরা একজায়গাতে দাঁড়িয়ে পুরো পৃথিবী দেখতে পাই না, তাই গ্লোবের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীকে দেখি।
- বানান শিক্ষা: প্রয়োজনে ব্ল্যাকবোর্ডে বড় করে ‘G-L-O-B-E’ বানানটি লিখে এবং উচ্চারণ করে শিক্ষার্থীদের শেখানো যেতে পারে।
৪. গ্লোব পর্যবেক্ষণ ও বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা
গ্লোবটি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বা পরীক্ষকদের বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করতে হবে। এটি তাদের ভিজ্যুয়াল লার্নিং বা চাক্ষুষ শিক্ষণে সাহায্য করে।
- রঙের অর্থ: গ্লোবের গায়ে যে নীল রঙের অংশ দেখা যায়, তা হলো জলভাগ। আর বাকি রঙিন অংশগুলো হলো স্থলভাগ বা বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশ।
- জল ও স্থলের অনুপাত: পৃথিবীকে যদি মোট চার ভাগে ভাগ করা হয়, তবে তার তিন ভাগই জল এবং মাত্র এক ভাগ স্থল। গ্লোবের নীল অংশের আধিক্য দেখিয়ে এটি সহজেই বোঝানো যায়।
- মহাদেশ ও মহাসাগর: ছোট ছোট অনেক দেশ মিলে তৈরি হয় মহাদেশ (মোট ৭টি) এবং সাগরগুলো মিলে তৈরি হয় মহাসাগর (মোট ৫টি)।
৫. পৃথিবীর হেলানো অবস্থান ও গতির ধারণা
গ্লোবটি টেবিলে রাখলে দেখা যায় এটি সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে একটু বাঁকা হয়ে আছে। এই বিষয়টি ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিজ্ঞানের ধারণা দেওয়া যায়।
- অক্ষরেখা: পৃথিবী তার নিজের অক্ষের সঙ্গে ৬৬.৫ ডিগ্রি (66½°) কোণে হেলে থাকে।
- আহ্নিক গতি: গ্লোবটিকে লাট্টুর মতো নিজের অক্ষের ওপর ঘুরিয়ে দেখিয়ে বোঝাতে হবে যে, পৃথিবী এভাবে ঘোরার ফলেই দিন ও রাত্রি হয়।
- বার্ষিক গতি: পৃথিবী নিজের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের চারদিকেও ঘোরে। একবার সম্পূর্ণ ঘুরতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন বা এক বছর। এর ফলেই ঋতু পরিবর্তন হয়।
৬. অবস্থান নির্ণয় বা লোকেশন আইডেন্টিফিকেশন
ক্লাসটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে গ্লোবের ওপর আমাদের নিজেদের অবস্থান খুঁজে বের করা যেতে পারে।
- গ্লোব ঘুরিয়ে ‘ভারতবর্ষ’ এবং আমাদের রাজ্য ‘পশ্চিমবঙ্গ’-এর অবস্থান আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বাস্তবের সাথে মেলাতে পারবে।
ইন্টারভিউ বা ভাইভায় সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর
ডেমো ক্লাসের শেষে বা মাঝখানে পরীক্ষকরা আপনাকে বিষয়ভিত্তিক কিছু প্রশ্ন বা ‘কাউন্টার কোয়েশ্চেন’ করতে পারেন। নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো:
| সম্ভাব্য প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
|---|---|
| পৃথিবী তার অক্ষের সাথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে? | পৃথিবী ৬৬.৫ ডিগ্রি (66½°) কোণে হেলে থাকে। |
| পৃথিবী যে নিজের অক্ষের চারদিকে ঘোরে, একে কী বলে এবং এর ফল কী? | একে ‘আহ্নিক গতি’ বলা হয়। এর ফলে পৃথিবীতে দিন ও রাত্রি সংঘটিত হয়। |
| পৃথিবী সূর্যের চারদিকে যে ঘোরে, তাকে কী বলে এবং এর প্রভাব কী? | একে ‘বার্ষিক গতি’ বলা হয়। এর প্রভাবে ঋতু পরিবর্তন হয় এবং বছর গণনা করা হয়। |
| গ্লোবে নীল রং কী নির্দেশ করে? | গ্লোবে নীল রং জলভাগ বা মহাসাগর নির্দেশ করে। |
উপসংহার
গ্লোব ব্যবহার করে ডেমো দেওয়া একটি স্মার্ট কৌশল। এটি প্রমাণ করে যে আপনি হাতের কাছে থাকা সাধারণ উপকরণ বা TLM ব্যবহার করে জটিল বিষয়কেও সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার আত্মবিশ্বাস এবং গ্রহণযোগ্যতা নিঃসন্দেহে বৃদ্ধি পাবে।
