সিন্ধু সভ্যতা কুইজ: ক্লার্কশিপ 2024
সিন্ধু সভ্যতা কুইজ: ক্লার্কশিপ 2024
WBPSC ক্লার্কশিপ 2024-এর সাধারণ জ্ঞানের জন্য সিন্ধু সভ্যতার 10টি প্রশ্ন। প্রতিটি উত্তরের সঙ্গে ব্যাখ্যা ও মনে রাখার কৌশল আছে। 📖 বিস্তারিত পড়ুন
মহেঞ্জোদারো আবিষ্কার করেন কে?
1922 সালে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহেঞ্জোদারো আবিষ্কার করেন। দয়ারাম সাহনি তার এক বছর আগে হরপ্পা খুঁড়েছিলেন, তাই বিকল্পটি লোভনীয় ফাঁদ। জন মার্শাল তখন ASI-এর প্রধান ছিলেন, মজুমদার চানহুদারো খুঁড়েছিলেন।
- > হরপ্পা: 1921, দয়ারাম সাহনি
- > মহেঞ্জোদারো: 1922, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
- > চানহুদারো: 1931, এন. জি. মজুমদার
- > হরপ্পা আর মহেঞ্জোদারোর আবিষ্কারক গুলিয়ে ফেলা
- > হরপ্পা 21, মহেঞ্জো 22: সাল ও আবিষ্কারক পরপর
| কেন্দ্র | আবিষ্কারক | সাল |
|---|---|---|
| হরপ্পা | দয়ারাম সাহনি | 1921 |
| মহেঞ্জোদারো | রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় | 1922 |
| চানহুদারো | এন. জি. মজুমদার | 1931 |
| কালিবঙ্গান | অমলানন্দ ঘোষ | 1953 |
সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্রে ইটের তৈরি ডকইয়ার্ডের চিহ্ন পাওয়া গেছে?
লোথাল গুজরাটে ভোগাবো নদীর ধারে; সেখানকার ডকইয়ার্ড সমুদ্রবাণিজ্যের প্রমাণ। কালিবঙ্গান রাজস্থানের শহর, হরপ্পা রাবির তীরের স্থলবন্দর-সদৃশ বাণিজ্যকেন্দ্র মাত্র। ধোলাভিরা গুজরাটে হলেও তার খ্যাতি জল সংরক্ষণে।
- > লোথাল: ভোগাবো নদী, গুজরাট
- > আবিষ্কার: 1954, খনন: এস. আর. রাও
- > ধোলাভিরা: জল সংরক্ষণ
- > ধোলাভিরাও গুজরাটে, তাই ডকইয়ার্ডের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা
- > লোথাল = লোড করা জাহাজ
সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্র থেকে অগ্নিকুণ্ড (আগুনের বেদি) ও চাষ করা মাঠের চিহ্ন পাওয়া গেছে?
রাজস্থানে ঘগ্গর নদীর ধারে কালিবঙ্গানে অগ্নিকুণ্ড ও লাঙল দিয়ে চাষ করা মাঠের চিহ্ন মিলেছে। চানহুদারো পুঁতি তৈরির জন্য, লোথাল ডকইয়ার্ডের জন্য পরিচিত। রাখিগড়ি হরিয়ানায়, ভারতে এই সভ্যতার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র।
- > কালিবঙ্গান: ঘগ্গর নদী, রাজস্থান
- > নামের অর্থ 'কালো চুড়ি'
- > খনন: অমলানন্দ ঘোষ, 1953
- > চানহুদারো ও লোথালের বিশেষত্ব মিশিয়ে ফেলা
- > কালি = কালো চুড়ি + আগুনের বেদি
| কেন্দ্র | রাজ্য/দেশ | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| কালিবঙ্গান | রাজস্থান | অগ্নিকুণ্ড, চাষ করা মাঠ |
| লোথাল | গুজরাট | ডকইয়ার্ড |
| ধোলাভিরা | গুজরাট | জল সংরক্ষণ, সাইনবোর্ড |
| চানহুদারো | পাকিস্তান (সিন্ধ) | পুঁতি তৈরি, দুর্গ নেই |
| রাখিগড়ি | হরিয়ানা | ভারতে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র |
মহেঞ্জোদারোর 'মহান স্নানাগার' (Great Bath) কোথায় অবস্থিত ছিল?
মহান স্নানাগার ছিল মহেঞ্জোদারোর পশ্চিমের উঁচু দুর্গ এলাকায়। ইটের তৈরি এই জলাশয় সম্ভবত ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক স্নানের জন্য ব্যবহৃত হত। নিম্ন শহরে ছিল সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি।
- > দুর্গ থাকত পশ্চিমে, উঁচুতে
- > নিম্ন শহর থাকত পূর্বে
- > স্নানাগারে ইট ও জলরোধী আস্তরণ ব্যবহৃত
- > নিম্ন শহরকেই গুরুত্বপূর্ণ ভবনের স্থান ভেবে নেওয়া
- > দুর্গ = উঁচু = গুরুত্বপূর্ণ ভবন
সিন্ধু সভ্যতা সম্পর্কে কোন বিবৃতিটি সঠিক?
সিন্ধু সভ্যতা ব্রোঞ্জ যুগের নগর সভ্যতা। লোহার ব্যবহার তখন জানা ছিল না, লিপির পাঠোদ্ধার আজও হয়নি, আর শহরগুলোর পরিকল্পনা দেখেই বোঝা যায় এটি গ্রামভিত্তিক নয়।
- > তামা ও টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ
- > লোহা অজানা
- > লিপি অপঠিত
- > বৈদিক যুগের লোহার ব্যবহারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা
- > সিন্ধু = ব্রোঞ্জ, বৈদিক পরবর্তী পর্ব = লোহা
সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহর বেশিরভাগ কোন পদার্থ দিয়ে তৈরি হত?
বেশিরভাগ সিলমোহর স্টিয়াটাইট বা সাবান পাথরের, কারণ তা নরম ও খোদাই করা সহজ। সোনা ও লোহা এই কাজে ব্যবহার হত না। সিলে পশুর ছবি ও লিপি থাকত, যা আজও পড়া যায়নি।
- > সিলে একশৃঙ্গ, ষাঁড়ের ছবি
- > লিপি ডান থেকে বাঁয়ে লেখা ধরা হয়, অপঠিত
- > বাণিজ্যে পরিচয়চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত
- > লিপি পাঠোদ্ধার হয়েছে ভাবা
- > সিল = সাবান পাথর
সিন্ধু অঞ্চলের সঙ্গে মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্যের কথা বলতে মেসোপটেমিয়ার লেখায় সিন্ধু অঞ্চলকে কী নামে ডাকা হয়েছে?
মেসোপটেমিয়ার লেখায় সিন্ধু অঞ্চলের নাম 'মেলুহা'। দিলমুন বলতে বোঝানো হত বাহরিনকে, যা পারস্য উপসাগরের পথের বড় কেন্দ্র ছিল, আর ম্যাগান বলতে ওমান অঞ্চলকে। সুমের মেসোপটেমিয়ারই অংশ।
- > মেলুহা = সিন্ধু অঞ্চল
- > দিলমুন = বাহরিন
- > ম্যাগান = ওমান অঞ্চল
- > দিলমুনকে সিন্ধু অঞ্চল ভাবা
- > মেলুহা = মেলা বাণিজ্যের দেশ
| মেসোপটেমীয় নাম | আজকের অঞ্চল |
|---|---|
| মেলুহা | সিন্ধু অঞ্চল |
| দিলমুন | বাহরিন |
| ম্যাগান | ওমান অঞ্চল |
2021 সালে UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলের তালিকায় যুক্ত হওয়া সিন্ধু সভ্যতার কেন্দ্রটি কোনটি?
গুজরাটের ধোলাভিরা 2021 সালে UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হয়। শহরটি তিন ভাগে ভাগ করা, আর এর বিশেষত্ব জল ধরে রাখার উন্নত ব্যবস্থা। লোথাল ও কালিবঙ্গান এ তালিকায় নেই।
- > ধোলাভিরা: গুজরাট, কচ্ছ অঞ্চল
- > 10টি বড় চিহ্নের সাইনবোর্ড
- > খনন: জে. পি. জোশী (1967-68), পরে আর. এস. বিস্ত
- > লোথালকে বেশি পরিচিত বলে ধরে নেওয়া
- > ধোলা = জল ধরে রাখার শহর
সিন্ধু সভ্যতার পরিণত পর্বের সময় সাধারণত কোনটি ধরা হয়?
পরিণত সিন্ধু সভ্যতা প্রায় 2600 থেকে 1900 খ্রিস্টপূর্বাব্দ ধরা হয়। 1500–1000 খ্রিস্টপূর্বাব্দ সাধারণত ঋগ্বৈদিক যুগের সময়, আর 600–300 খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহাজনপদ ও মৌর্য যুগের শুরু। বইভেদে কয়েক শো বছরের তফাত থাকতে পারে।
- > ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা
- > বৈদিক যুগের আগে
- > সময়ের হিসাবে বইভেদে ফারাক
- > বৈদিক যুগের সময়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা
- > প্রায় 4500 বছর আগের শহর
শুরুর সময় (খ্রিস্টপূর্বাব্দ, আনুমানিক)
সিন্ধু সভ্যতার পতন নিয়ে কোন মন্তব্যটি সবচেয়ে সঠিক?
পতনের একটি নিশ্চিত কারণ জানা নেই; নদীর গতি বদল, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা ও বাণিজ্য কমে যাওয়ার মতো একাধিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। 'আর্য আক্রমণ' তত্ত্বটি বেশিরভাগ ঐতিহাসিক এখন মানেন না। 'একমাত্র নিশ্চিত' শব্দ থাকলে বিকল্পটি প্রায় নিশ্চিতভাবে ভুল।
- > একাধিক সম্ভাব্য কারণ
- > আর্য আক্রমণ তত্ত্ব বিতর্কিত
- > ঘগ্গর নদীর শুকিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও আছে
- > আর্য আক্রমণকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য ভাবা
- > 'একমাত্র নিশ্চিত' শব্দে সতর্ক হোন
সিন্ধু সভ্যতার নগর-পরিকল্পনার কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক?
সিন্ধু শহরের রাস্তা সোজা, একে অপরকে সমকোণে কেটেছে (গ্রিড), আর ঢাকা নর্দমা ছিল। ঘরে প্রধানত পোড়া ইট ব্যবহৃত হত, যদিও কাঁচা ইটও ছিল। আর শহর সাধারণত উঁচু দুর্গ ও নিম্ন শহরে ভাগ ছিল।
- > গ্রিড রাস্তা
- > ঢাকা নর্দমা
- > দুর্গ ও নিম্ন শহর
- > সব ইটকে কাঁচা ভাবা
- > গ্রিড + ঢাকা নর্দমা = পরিকল্পনা
📊 বিষয় বিশ্লেষণ
WBPSC ক্লার্কশিপ 2024-এর সাধারণ জ্ঞানের জন্য সিন্ধু সভ্যতার 10টি প্রশ্ন। প্রতিটি উত্তরের সঙ্গে ব্যাখ্যা ও মনে রাখার কৌশল আছে।

Leave a Comment
Commenting as ·