53rd Chief Justice Of India Surya Kant: ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। সোমবার তিনি ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি (Chief Justice of India – CJI) হিসেবে শপথ নিলেন। সংবিধান, আইন ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাঁর অতীত ভূমিকা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনার বিষয়।
ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি: বিচারপতি সূর্য কান্ত
বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর পূর্বসূরি বিচারপতি বি.আর. গাভাই-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন। বিচারপতি গাভাই গত ২৩ নভেম্বর ভারতের ৫২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। বিচারপতি কান্তের এই নিয়োগ ৩০ অক্টোবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। তিনি আগামী প্রায় ১৫ মাস এই পদে বহাল থাকবেন এবং ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অবসর নেবেন।
নিচে বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| নাম | বিচারপতি সূর্য কান্ত |
| পদমর্যাদা | ৫৩তম প্রধান বিচারপতি (CJI) |
| পূর্বসূরি | বিচারপতি বি.আর. গাভাই (৫২তম) |
| কার্যকাল শেষ (অবসর) | ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ |
| জন্মস্থান | হিসার জেলা, হরিয়ানা |
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
বিচারপতি সূর্য কান্তের উঠে আসার গল্পটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। ১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার হিসার জেলার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। একটি সাধারণ মফস্বল শহরের আইনজীবী থেকে দেশের সর্বোচ্চ বিচারপতির পদে আসীন হওয়া তাঁর মেধা ও পরিশ্রমের পরিচায়ক। শিক্ষাজীবনেও তিনি অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১১ সালে কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের স্নাতকোত্তর (Master’s degree in law) পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
কর্মজীবন ও বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা
সুপ্রিম কোর্টে আসার আগে বিচারপতি কান্তের বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে থাকাকালীন বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রায় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর তিনি হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সাংবিধানিক গুরুত্বসম্পন্ন বহু মামলার নিষ্পত্তি করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ রায় এবং অবদান
বিচারপতি সূর্য কান্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন এবং তার আগেও বেশ কিছু যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছেন যা ভারতের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
- সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ: জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঐতিহাসিক রায়ের ক্ষেত্রে তিনি বেঞ্চের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
- পেগাসাস স্পাইওয়্যার মামলা: ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষার প্রশ্নে পেগাসাস স্পাইওয়্যার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- নির্বাচনী সংস্কার: বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় তিনি নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা পিটিশনের শুনানিকালে এই তথ্য প্রকাশের জন্য কমিশনকে চাপ দেন।
- বাকস্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব: বাকস্বাধীনতা এবং নাগরিকত্বের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর দেওয়া রায়গুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ও নারী অধিকার রক্ষা
বিচারপতি সূর্য কান্তের কর্মজীবনে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্র রক্ষার প্রচেষ্টা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।
১. নারী সরপঞ্চের পুনর্বহাল: তিনি এমন একটি বেঞ্চের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যা বেআইনিভাবে অপসারিত একজন মহিলা সরপঞ্চকে তাঁর পদে পুনর্বহাল করে। এই রায়ে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে নিছক লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে কাউকে তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
২. বার অ্যাসোসিয়েশনে সংরক্ষণ: তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন-সহ বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের নির্দেশ দেন, যা আইনি পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক।
স্ট্যাটিক জিকে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত কিছু মৌলিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- সাংবিধানিক ভিত্তি: ভারতের সংবিধানের ১২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে (Article 124) সুপ্রিম কোর্টের গঠন ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- প্রথম প্রধান বিচারপতি: ভারতের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন এইচ. জে. কানিয়া (H.J. Kania)।
- নিয়োগকর্তা: ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
- অবসরের বয়স: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর।
